নিজস্ব প্রতিনিধি , বেজিং - চিনে সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রায় কড়া নজরদারির অভিযোগ উঠল। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ থেকে বিদেশযাত্রা- বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের। সামরিক ও অসামরিক কর্মীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই এই ব্যবস্থা বলে দাবি করা হয়েছে।
২০১২ সালে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন শি জিনপিং। একই বছর কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পান তিনি। ২০১৩ সালে চিনের প্রেসিডেন্ট হন জিনপিং। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এরপর থেকেই সরকারি কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনেও নজরদারি বেড়েছে। বিয়ে, সন্তানের বিদেশে পড়াশোনা ও বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয়ও প্রশাসনের নজরে রয়েছে বলে অভিযোগ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, চিনা সরকারি কর্মীরা ইচ্ছেমতো বিদেশ যেতে পারেন না। বিদেশ সফরের জন্য তাঁদের বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। শিক্ষক, চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরাও এই নিয়মের আওতায় রয়েছেন। সরকারি ঠিকাদারদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি। বিদেশযাত্রার আগে প্রশাসনের কাছে তথ্য দিতে হয়। কোন দেশে যাচ্ছেন, তা জানাতে হয়। সফরের উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করতে হয়।
কোথায় থাকবেন, কতদিন থাকবেন। সেই তথ্যও জমা দিতে হয়। অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না। সেটিও জানাতে হয় কর্তৃপক্ষকে। অনুমতি মিললেই বিদেশ যাওয়ার সুযোগ মেলে। জার্মান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মেরিক্সের বিশেষজ্ঞ কাটজা ড্রিনহাউসেনও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, চিনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিদেশি নাগরিককে বিয়েতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশে চলে যেতে পারে। বেজিং এমন ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলেই তাঁর মত।
চিনের বহু সরকারি কর্মীর পরিবার বিদেশে রয়েছে। কারও স্ত্রী বা স্বামী বিদেশে থাকেন। অনেকের সন্তানও বিদেশে পড়াশোনা করেন। কেউ কেউ বিদেশে চাকরি কিংবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আমেরিকা, কানাডা-সহ ইউরোপে বহু চিনা পড়ুয়া রয়েছেন। এমন কর্মীদের পদোন্নতিতেও প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। বিদেশের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে জাতীয় নিরাপত্তার চিন্তা রয়েছে।
গত কয়েক বছরে চিন ও আমেরিকার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও কৌশলগত সংঘাত বেড়েছে। ফলে গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বেজিংয়ের। সেই কারণেই নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও শুরু করেন জিনপিং। কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের বার্তাও দেন তিনি। দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। পশ্চিমি থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির অবশ্য ভিন্ন মত রয়েছে। তাদের দাবি, দুর্নীতি দমনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও সরানো হচ্ছে।
সামরিক কর্মীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সরাসরি সিসিপির নিয়ন্ত্রণে। তাই সেনাকর্মীদের বিয়ের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই হয়। সঙ্গী বা সঙ্গিনী দলের প্রতি অনুগত কি না। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়। সিসিপির প্রতি আনুগত্য না থাকলে বিয়েতে বাধা আসতে পারে।বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম। এমন ঘটনায় দলীয় নেতা-নেত্রীদের জেলও হতে পারে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও সহজে মুক্তি মেলে না বলে দাবি।
স্বামী-স্ত্রী দু'জনকেই প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট দিতে হয়। দু'জনই সিসিপির সদস্য হলে নজরদারি আরও বাড়ে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে কি না। সেটিও খতিয়ে দেখা হয়। পিএলএ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া আরও জটিল। বিবাহবিচ্ছেদের আগে বাহিনীর অনুমোদন প্রয়োজন। প্রয়োজনে পদস্থ কর্তারা মধ্যস্থতাও করেন। অনুমতি পাওয়ার পর দেওয়ানি আদালতে যেতে হয়। সেখানেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয় দম্পতিকে।
জার্মান গবেষক ড্রিনহাউসেন CNN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, পিএলএ সদস্যদের বিয়ের ক্ষেত্রে পছন্দের মানুষটিকেই বিয়ে করছেন। এমন প্রমাণও দিতে হতে পারে। সাধারণত বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই বিয়ের প্রবণতা বেশি। বাইরের কাউকে বিয়ে করার ঘটনা তুলনামূলক বিরল। সংসার ভাঙলে তার প্রভাব বাহিনীতেও পড়তে পারে।বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়েও নজরদারি রয়েছে। জিনপিংয়ের অধীনে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ নাম সেন্ট্রাল কমিশন ফর ডিসিপ্লিন ইন্সপেকশন। কোনও সম্পর্কের গুঞ্জনও তাদের নজরে আসতে পারে।
এমন ঘটনা রাজনৈতিক কেরিয়ারেও প্রভাব ফেলতে পারে। সিসিপির শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা একে 'নৈতিক অধঃপতন' হিসেবে দেখেন বলে দাবি। লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক কেরি ব্রাউনও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক নেতা থেকে সেনাকর্মী। প্রত্যেকের উপর গোপন নজরদারি চলছে। সরকারি কর্মীদের বন্ধুবান্ধবের গতিবিধিও নজরে রাখা হয়। ব্যক্তিগত সময় কাটানোর বিষয়ও পর্যবেক্ষণে আসতে পারে। রেস্তরাঁয় কার সঙ্গে দেখা করছেন। কতক্ষণ সেখানে থাকছেন। পরে কারও বাড়িতে যাচ্ছেন কি না। এসব তথ্যও নজরে আসতে পারে বলে দাবি তাঁর।
চিনের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আধিকারিকেরা দেশ ছাড়তে পারেন। সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি। প্রাক্তন CIA সদস্য জোনাথন সিনও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, জিনপিং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনকে গুরুত্ব দেন। কঠোর পরিশ্রম এবং রক্ষণশীল পারিবারিক মূল্যবোধেও জোর দেন তিনি। ২০১৭ সালে সিসিপির দলীয় সনদেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যুক্ত হয়। সেখানে দলীয় নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চতার কথা বলা হয়। সরকার, সেনা, সমাজ ও শিক্ষা।
দেশের সব ক্ষেত্রেই দলের কর্তৃত্ব বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রই দলের ঊর্ধ্বে নয় বলেই সেই নীতিতে উল্লেখ রয়েছে।এত কড়া বিধিনিষেধের পরেও সরকারি চাকরির চাহিদা কমেনি। চিনে সরকারি চাকরি এখনও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চাকরির স্থায়িত্ব এর অন্যতম কারণ। সামাজিক মর্যাদাও বড় বিষয়। ভারতীয় সরকারি চাকরির পরীক্ষার মতো চিনেও জাতীয় নিয়োগ পরীক্ষা হয়। তার নাম ন্যাশনাল পাবলিক সার্ভিস। ২০২৪ সালে প্রায় ৩৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছিলেন। শূন্যপদ ছিল মাত্র ৩৮ হাজার ১০০টি।
নোশকিতে ব্যবসায়ী হত্যায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে মামলা, বাড়ছে ক্ষোভ
আয়ারল্যান্ডে ৪৪০ একরের এস্টেট-সহ গথিক দুর্গ কিনলেন মেটা কর্তা, নিয়মিত থাকবেন না সেখানে
ন্যেপির নিয়ম ভেঙে সমুদ্র সৈকতে বেরিয়ে ভিডিও পোস্ট, অশ্লীল মন্তব্যে ক্ষোভ
প্রথম বিস্ফোরণের পর ফের ড্রোন হামলার অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ৯
দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনা, বিমানে থাকা সকলের খোঁজে তল্লাশি
গাল্ফ অব এডেন ও সোমালিয়া উপকূলে পর পর হামলা, নাবিকদের অবস্থান এখনও অস্পষ্ট
৪৮ ঘণ্টার নির্দেশের পর ইসলামাবাদের হাসপাতালে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা
ফোর্ড, লিঙ্কন থেকে জর্জ ওয়াশিংটন, একের পর এক যুদ্ধজাহাজে শৌচাগার নিয়ে চরম দুর্ভোগ নৌসেনাদের
অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হলে ব্রিকসের আগে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ ঢাকার
শুধু ভারতীয়-মার্কিন পাসপোর্টধারীদের থাকার অনুমতি, কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের দাবি কাইসারের
২০২৮-এর আগে ভোট সংস্কারে বড় উদ্যোগ, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে কথোপকথনের পর নয়া পরিকল্পনা
তার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজব্যবস্থায় এক গভীর ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে
ট্রায়ালে মিলল আশার আলো, এবার আমজনতার জন্যও অপেক্ষা
খাসির মাংস না থাকায় বিয়ের আসর ছেড়ে ফিরলেন বর
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের