নিজস্ব প্রতিনিধি , কাঠমান্ডু - ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল। হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা। এরই মধ্যে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক দাবি।
ঘটনাটি নেপাল-তিব্বত সীমান্তের পার্বত্য এলাকায়। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী জানান, তাঁর গবেষণাজীবনে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় আগে দেখেননি। তাঁর ব্যাখ্যা, বিশাল একটি হিমবাহ ধসে নদীতে পড়ে। পরে সেই বরফ গলে বিপুল জলরাশি নীচের দিকে ধেয়ে যায়। ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে যে ধরনের বিপর্যয় হয়েছিল, নেপালের ঘটনাটিও অনেকটা তেমন। তবে এ ক্ষেত্রে ধসের মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
এক গবেষকের বক্তব্য, নেপালের হিমবাহ ধস থেকে উৎপন্ন শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার বিস্ফোরণের শক্তিকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। বসন্ত রাজের দাবি, হিমবাহ ধসের ফলে উৎপন্ন শক্তির হিসাব করা হয়েছে। সেই হিসাবেই এই তুলনা উঠে এসেছে। এত বড় মাত্রার হিমবাহ ধস যে ঘটতে পারে, তা তাঁদের ধারণার বাইরে ছিল বলেও জানান তিনি।
ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়াবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দিবাস শ্রেষ্ঠার কথায়, লাংটাং উপত্যকার লিরুং শৃঙ্গের উত্তর ঢালে থাকা একটি ঝুলন্ত হিমবাহ ভেঙে পড়েছিল। প্রায় ১,৪০০ মিটার উচ্চতা থেকে বরফের বিশাল অংশ খাড়াভাবে নীচে নেমে আসে। তার পরেই শুরু হয় ভয়াবহ জলস্রোত। হিমবাহের সঙ্গে পাথর, মাটি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষও নীচে নেমে এসে স্রোতের ভয়াবহতা বাড়িয়ে দেয়।
ঘটনার সময় পাহাড়ি এলাকায় কম্পনও রেকর্ড হয়েছিল। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২। প্রথমে সেটিকে ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়েছিল। পরে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে আসে, কোনও টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ থেকে এই কম্পন তৈরি হয়নি। হিমবাহ ধস এবং তার সঙ্গে নেমে আসা বিপুল ধ্বংসাবশেষের অভিঘাতেই কম্পনটি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিপর্যয়ের পিছনে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ভূমিকাও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান রিজান ভক্তার বক্তব্য, নেপালে তখন বর্ষাকাল চললেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বৃষ্টি হয়নি। তবে পার্বত্য অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল বেশি। সেই তাপের প্রভাবে বরফ দ্রুত গলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হিমালয়ের উষ্ণায়ন হিমবাহ ও পার্বত্য ভূখণ্ডকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলেও বিশেষজ্ঞদের মত।
বসন্ত রাজের কথায়, 'হিমবাহ ধসে যে শক্তি উৎপন্ন হয়েছে, তা হিরোশিমার বিস্ফোরণের চেয়েও বেশি ছিল'। ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের আশঙ্কা, পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে হিমবাহ দ্রুত গলবে। তার ফলে আগামী দিনে আরও বড় ধরনের ধস, বন্যা ও ধ্বংসের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই ঝুঁকিরই বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন তাঁরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের জেরেই হড়পা বান, রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ তহবিল থেকে সাহায্য চাইল কাঠমান্ডু
সঞ্চয়ের টাকা ভেসে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়েছিল চিকিৎসা, বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের দায়িত্ব নিল হাসপাতাল
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে এখনও ডাকেনি বাংলাদেশকে, তবু যোগ দেওয়ার আগ্রহে জোর আলোচনা
মৃতদেহ শনাক্তকরণে সমস্যা, মর্গে জায়গা নেই, বাড়ছে নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগ
কলোরাডো নদীতে আচমকা জলস্ফীতি, ভেসে গেল পাথর-লোহার কাঠামো, ভাঙল ফুটব্রিজ
বিপর্যস্ত রাস্তায় একা দুই শিশু, সোশাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো দেখে চোখে জল নেটিজেনদের
হিমবাহ ভেঙে নদীতে নেমেছিল জল, সঙ্গে মিশেছিল মাটি-পাথর, কী ভাবে তৈরি হল ভয়াবহ স্রোত, মিলল উত্তর
হড়পা বানে নিশ্চিহ্ন গ্রাম, স্বজন হারিয়ে বেঁচে ফেরার যন্ত্রণার কথা জানালেন তিনি
জুলিই আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক সফল চিত্রশিল্পী আর জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে
মৃত্যু ৬২৬, নিখোঁজ বহু! ফের হড়পা বানের আশঙ্কায় হাই অ্যালার্ট নেপালে
মৃতদেহের গয়না চুরির অভিযোগেও গ্রেফতার, উদ্ধার বিপুল নগদ টাকা
আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে আশাবাদী কারাকাস, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা রডরিগেজের
হড়পা বানের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন বিপদের ভ্রুকুটি, ফুঁসছে ভোটেকোশী-ত্রিশূলী
নেপালে নিখোঁজ ভারতীয়দের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ! উদ্ধারে তৎপর দিল্লি, দেশে ফিরলেন অনেকে
ইতালির সংসার ছেড়ে প্রেমিকের ঘরে! ৪ সন্তানের মাকে ঘিরে চাঞ্চল্য
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের