নিজস্ব প্রতিনিধি , চন্দননগর - গঙ্গার তীরে অবস্থিত চন্দননগর একসময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল, আর সেই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের মধ্যেই আজও বেঁচে আছে এক অনন্য সংস্কৃতি— চন্দননগরের আলোকসজ্জা। এই আলোকশিল্প শুধু উৎসবের সৌন্দর্য নয়, এটি শহরের পরিচয়, গৌরব ও শিল্পীদের আত্মপ্রকাশের প্রতীক।

চন্দননগরের আলোকসজ্জার ইতিহাস শুরু হয় বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। মূলত জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করেই এই শিল্পের বিকাশ ঘটে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যখন বিদ্যুতের ব্যবহার ক্রমে সাধারণ মানুষের জীবনে প্রবেশ করছে, তখন চন্দননগরের কারিগররা আলোকে রঙ, ছায়া ও নকশায় রূপ দিতে শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে হাতের তার ও বাল্ব দিয়ে তৈরি হত দেবী মূর্তি, ফুল, পশুপাখির আকৃতি বা পৌরাণিক দৃশ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শিল্পে যুক্ত হয় আধুনিক প্রযুক্তি— লাইট কন্ট্রোলার, কম্পিউটারাইজড সিস্টেম, LED ও ডায়নামিক ডিসপ্লে।

আজ এই আলোকসজ্জা শুধু জগদ্ধাত্রী পুজোতেই সীমাবদ্ধ নয়; দুর্গাপুজো, দীপাবলি, বড়দিন, এমনকি সরকারি উৎসবেও চন্দননগরের লাইটের কদর রয়েছে। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, এমনকি বিদেশের মেলাতেও দেখা মেলে এই শহরের লাইট শিল্পীদের তৈরি আশ্চর্য আলোক নকশা।

চন্দননগরের লাইট শিল্পের পেছনে আছে এক নিবেদিতপ্রাণ সম্প্রদায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা তার, বাল্ব ও রঙিন আলোর ভাষায় গড়ে তুলছেন নান্দনিক গল্প। অনেক পরিবার আজও নিজেদের ঘরেই ছোট কারখানা চালান— সেখানে জন্ম নেয় এক একটি “আলোচিত্র”। বলা যায়, এটি শুধু একটি পেশা নয়, এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

চন্দননগরের পৌরসভা ও স্থানীয় ক্লাবগুলিও এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় হাজারো মানুষ ভিড় করেন আলোয় মোড়ানো এই শহরে। নদীর ধারে ঝলমলে গলি, ঘাট আর প্যান্ডেল যেন এক জাদুকরি জগৎ— যেখানে বিদ্যুতের তারে নাচে শিল্প আর আবেগ।

আধুনিক প্রযুক্তি ও গ্লোবাল চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চন্দননগরের লাইট শিল্পীরা আজ তৈরি করছেন থ্রিডি ও মোশন ইলিউশন লাইট ডিজাইন । তবুও তাদের শিকড় রয়ে গেছে ঐতিহ্যের মাটিতে— সেই মাটি যেখানে একসময় আলো শুধু সজ্জা ছিল না, ছিল সৃষ্টিশীলতার প্রতীক।

চন্দননগরের আলোকসজ্জা আজ শুধু এক শহরের গর্ব নয়; এটি বাংলার কারুশিল্প, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির এক দীপ্ত প্রতিচ্ছবি— যেখানে আলো শুধু পথ দেখায় না, ইতিহাসকেও জীবন্ত করে তোলে।
নতুন সাজে সেজে উঠছে জগন্নাথ মন্দির
দূরপাল্লার যাত্রীদের সুবিধার নতুন উদ্যোগ
রথযাত্রার দিনে বাড়তি লঞ্চের ব্যবস্থা
উৎসবে ভক্তদের জন্য বিশেষ পরিষেবার আয়োজন
পুরী যাওয়ার জন্য একাধিক স্পেশাল ট্রেন চালাবে দক্ষিণ পূর্ব রেল
হিউম্যানয়েড রোবটের সক্ষমতা তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী প্রযুক্তি প্রদর্শনী
আইআইটি খড়গপুরের সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি তথ্যনির্ভর পর্যটন পরিকল্পনা
সংসারের দায় কাধে নিয়ে আজও কলকাতার রাস্তায় ভাড়ার হলুদ ট্যাক্সি চালিয়ে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ সরকার
এক মাস আগের মেয়র দফতরের ঘটনার পর ফের রাজধানীতে বিস্ফোরণের আতঙ্ক
খাবারের মেনু নিয়ে বচসা থেকে হাতাহাতি, বর ও কনেপক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা বিহারের সহ...
বিদেশের এক দম্পতি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫টি চুম্বন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নি...
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের পর সরব এনসিপি, বিচারের রায় কার...
শেষ পর্যন্ত এই আচরণ মেনে নিতে না পেরে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কনে। ...