নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - “ভোগের থালা পূর্ণ হয় মিষ্টিতে, আর জন্মাষ্টমীর আনন্দ পূর্ণ হয় মালপোয়ায়”!গ্রামবাংলার প্রবাদ এইভাবেই তুলে ধরে জন্মাষ্টমীর সঙ্গে মালপোয়ার চিরন্তন সম্পর্ক।
শ্রীকৃষ্ণ জন্মের এই পবিত্র রাতে মাখন, দুধ, গুড় আর চালের গুঁড়ি মিলে যখন কড়াইতে ফুটতে থাকে মালপোয়া, তখন শুধু রান্নাঘর নয়, ভরে ওঠে ভক্তির আবেশে গোটা পরিবার।
ইতিহাস ও প্রবাদ
মালপোয়া প্রাচীন ভারতের অন্যতম প্রাচীন মিষ্টি পদ, যার উল্লেখ আয়ুর্বেদ ও পুরাণের ভোগ বর্ণনায়ও পাওয়া যায়।
গ্রামবাংলায় জন্মাষ্টমী নিয়ে একাধিক লোকপ্রবাদ প্রচলিত -
“কৃষ্ণ ভোগ মানেন মাখনে, ভক্ত মানেন মালপোয়ায়।”
“জন্মাষ্টমীর রাতে মালপোয়া না দিলে পূজা অসম্পূর্ণ।”
“মালপোয়া যত মিষ্টি, ভক্তি তত অটুট।”
এইসব প্রবাদের মধ্যে দিয়ে বোঝা যায়, মালপোয়া শুধু খাদ্য নয়, এক আধ্যাত্মিক প্রতীক।
প্রাচীন গ্রামবাংলার চিত্র
জন্মাষ্টমীর রাতে বাংলার গ্রামগুলিতে একটি বিশেষ দৃশ্য ছিল সাধারণ,নারীরা ভোর থেকে উপবাস থেকে মালপোয়া বানাতে বসতেন।
ধানের চাল গুঁড়ো, নারকেল কোরা, খেজুরের গুড়, দুধ, আর এলাচ মিশিয়ে তৈরি হত বাটা।
গ্রামীণ চুল্লির আগুনে একের পর এক মালপোয়া ভাজা হত।
বাড়ির ছেলেমেয়েরা ভোগ সাজাত, আর প্রবীণরা কৃষ্ণলীলা শুনিয়ে দিতেন।
এমনকি মালপোয়া বানানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী নারীদের মধ্যেও এক ধরনের সামাজিক মিলন উৎসব হত, যা ছিল গ্রামীণ সমাজজীবনের প্রাণ।
ধর্মীয় তাৎপর্য
হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, কৃষ্ণের প্রিয় খাদ্য ছিল দুধ, মাখন ও মিষ্টি। মালপোয়া যেহেতু খিরে, দুধ, গুড় ও ঘি-তে তৈরি, তাই ভক্তরা বিশ্বাস করেন এটি কৃষ্ণকে ভোগ দিলে তিনি খুশি হন।
ভক্তদের কাছে মালপোয়া মানে,
কৃষ্ণপ্রেমের প্রতীক।
ভক্তির মাধুর্য প্রকাশ।
পারিবারিক একতার রসদ।
আধুনিক প্রেক্ষাপট
আজকের দিনে শহরের পূজা মণ্ডপ, হোটেল কিংবা বাড়িতে,সর্বত্র জন্মাষ্টমীর ভোগ তালিকায় মালপোয়া অপরিহার্য।
যদিও এখন অনেক রকম ভ্যারিয়েশন এসেছে,
কেশর মালপোয়া,
রাবড়ি মালপোয়া,
চকলেট মালপোয়া,
তবুও কৃষ্ণভক্তদের কাছে সেই গুড়-নারকেল দেওয়া গ্রামীণ মালপোয়ার স্বাদ আজও অমলিন।
জন্মাষ্টমী ও মালপোয়া,এই যুগল যেন ভক্তি আর মিষ্টির এক অটুট সম্পর্ক। পুরোনো প্রবাদে যেমন বলা হয়,
“ভক্তির সঙ্গে মিষ্টি মিলে উৎসব হয় চিরন্তন।”
তাই আজও জন্মাষ্টমীর রাতে মালপোয়া শুধু ভোগ নয়, বরং ভক্তির প্রতীক, পারিবারিক মিলনের স্মৃতি, আর বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্যের এক মধুর সাক্ষ্য।
চায়ের সঙ্গে গরম গরম একেবারে জমে যাবে এই বড়া
মিষ্টির মধ্যে গণেশ ঠাকুরের সবচেয়ে প্রিয় এই মোতিচুর লাড্ডু
গরম গরম ভাতে ভীষণই সুস্বাদু এই পাবদার পদ
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে মূল আকর্ষণ ১১ কিলোর মিষ্টি
ঠিকভাবে বানাতে পারলে ভীষণই সুস্বাদু এই পদ
স্বাস্থ্যকর হিসেবেও খাবারটি যথেষ্ট মুখরোচক
সর্ষে ইলিশ, পাতুরি ছেড়ে এবার চেখে দেখুন নানীবাহার
একঘেয়ে জল খাবার খেয়ে বিরক্ত হয়ে গেলে এবার বানিয়ে নিন স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এই রেসিপি
আরও কড়াকড়ি হবে গ্রিন কার্ড
মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসি অবস্থা পাঞ্জাবে
ফের পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা ‘মানবিক’ ভারতের
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার দাবি ট্রাম্পের
গাজার হাসপাতালে হামলায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী