নিজস্ব প্রতিনিধি , দিল্লি - ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার সংকল্পের কথা ফের মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভাষণে দেশের আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে গত ১২ বছরে ভারতের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মোদি। এই মুহূর্তে যুদ্ধের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা ও জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দাঁড়িয়েই আত্মনির্ভর ভারতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ছোট লক্ষ্য নিয়ে আর এগিয়ে চললে হবে না। দেশকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে হবে ও সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগোতে হবে। গত ১২ বছরে দেশের কোটি কোটি মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করে চলেছে বলেও জানান তিনি।
মোদি বলেন, বড় স্বপ্ন মানুষের চিন্তার পরিধি বাড়িয়ে দেয়। তাঁর মতে, একটি দেশ তখনই বড় লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে, যখন তার মানুষ স্বপ্ন, দৃঢ় সংকল্প ও নিজেদের শক্তির উপর ভরসা রেখে এগিয়ে যায়। সংকল্প অটুট থাকলে প্রতিকূলতা, বিপর্যয়ের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়। গত ১২ বছরে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ দেশের অগ্রগতিতে নিজেদের মতো করে অবদান রেখেছেন বলেও তাঁদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।দলিত, প্রান্তিক ও নির্যাতিত মানুষ থেকে শুরু করে গ্রাম ও শহরের বাসিন্দা, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত, যুবক-যুবতী থেকে প্রবীণ-দেশের সব অংশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন তিনি।
উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মানুষও একই সংকল্প নিয়ে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁদের এই অবদানকে সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২০৪৭ সালের 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তোলেন মোদি। এই লক্ষ্য পূরণে গত ১২ বছরের কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার বাইরে উঠে এসেছেন। পাশাপাশি ভারত দ্রুততম উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদনও গত ১২ বছরে ৪ গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না বলেও বার্তা দেন মোদি। উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারতকে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। ছোট ছোট যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে বড় পণ্য-দেশের মাটিতেই আরও বেশি উৎপাদনের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পণ্যের গুণমানের সঙ্গে কোনও ভাবেই আপস করা যাবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো মানের পণ্য তৈরি করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে জানান তিনি।
আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গে এদিন আরও জোরালো বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারতকে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে চলবে না। দেশকে নিজের শক্তির উপর দাঁড়াতে হবে। সেই লক্ষ্যেই 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর পথে এগিয়ে চলার কথা বলেন তিনি। 'মেক ইন ইন্ডিয়া', 'স্বদেশী' ও ‘লোকাল ফর লোকাল'-এর মতো উদ্যোগের সঙ্গে দেশের মানুষও যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান মোদি। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় ইলেকট্রনিক পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে পরিবহণ ব্যবস্থা-প্রায় সব ক্ষেত্রেই চিপ অপরিহার্য। চিপ ছাড়া আধুনিক বিশ্বের ব্যবস্থাই কার্যত অচল হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।মোদি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ভারত ইতিমধ্যেই স্বনির্ভরতার পথে এগিয়েছে। তাঁর দাবি, দেশে তিনটি বড় সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরি হয়েছে ও সেগুলিতে রফতানির উদ্দেশ্যে উৎপাদনও শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী সাত থেকে আট বছরের মধ্যে আরও ৫-৮ টি সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় দ্রুত কাজ শুরু হতে চলেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিনের ভাষণে বিরোধীদেরও নিশানা করেন মোদি। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, অনেকে বলেছিলেন ইউক্রেনে যুদ্ধ চলছে, ফলে দেশে গ্যাসের অভাব হবে, পেট্রল পাম্পে তেল পাওয়া যাবে না। কৃষকদেরও ইউরিয়া না পাওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য ভারত আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়া এখন আর শুধু একটি লক্ষ্য নয়, দেশের প্রয়োজন। অন্য দেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটানোর সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। সেই আত্মবিশ্বাস ও সংকল্প নিয়েই ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
লোকসভার সঙ্গেই ভোটের পথে ২২ রাজ্য, এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিতে বড় বদলের জল্পনা
পরিবারের গৃহকর্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকবে গ্যাসের টাকা! বছরে ৩ সিলিন্ডার ফ্রি বিজয়ের রাজ্যে
বিয়ের ৪ মাসের মধ্যেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, স্বামী-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
মানুষ পাঠানোর আগে একের পর এক পরীক্ষা, গগনযান ঘিরে বড় ঘোষণা ISRO চেয়ারম্যানের
দাবি পূরণে কেন্দ্রের উপর চাপ, কালো আইন বাতিলের সুরে রাজধানীতে আন্দোলন
জাতভিত্তিক কোটা বন্ধের দাবি, আলোচনার পথেই সমাধানের পক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
২৭ অগস্ট রাত থেকে ২৮ অগস্ট রাত, সঙ্গীরও লাগবে না ভাড়া
ঢাকার দাবির মাঝেই প্রতিবেশী নীতি নিয়ে ভারতের অবস্থান জানালেন বিদেশমন্ত্রী
ভিলেন হওয়ার ফাঁদে পা নয়! তরুণ বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ
'স্কুল ঠিক করো' কর্মসূচি এবার বিপাকে, দীপকের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে এফআইআর
পারিবারিক চাপ ও সম্পর্কের টানাপোড়েনে মর্মান্তিক পরিণতি, মৃত্যু এক তরুণীর
পহেলগাঁও হামলার মামলায় হাফিজকে আদালতের নোটিস, পাকিস্তানে ঠিকানায় পাঠাবে ভারত
১৭০০ টন লৌহ আকরিক নিয়ে যাত্রা, মাঝসমুদ্রে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ
মায়ের মাসিক আয় দেড় লক্ষ হলেও বাবার দায়িত্ব কমবে না, তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের