নিজস্ব প্রতিনিধি , ভোপাল - কেন-বেতওয়া নদী সংযোগ প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রদেশ। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে হাজার হাজার আদিবাসী রাস্তায় নেমেছেন। ছত্তরপুর ও পান্না জেলার একাধিক গ্রামে চলছে লাগাতার আন্দোলন। এবার কোমর সমান জলে দাঁড়িয়ে গলায় প্রতীকী ফাঁস পরে প্রতিবাদ জানালেন বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে।
কেন-বেতওয়া প্রজেক্ট হলো দুটি নদীকে জোড়ার একটি বিশাল সরকারি উদ্যোগ। এর মূল লক্ষ্য কেন নদীর অতিরিক্ত জল খালের মাধ্যমে বেতওয়া নদীতে নিয়ে যাওয়া। মূলত খরাপ্রবণ বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের জলের তীব্র সংকট দূর করতেই কেন্দ্র এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়। ২০০৫ সালে প্রথম এই প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হয়। পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট এই প্রজেক্টের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। সরকার দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিলেও শুরু থেকেই এটি পরিবেশ ও পুনর্বাসন বিতর্কে থমকে রয়েছে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। হাজার হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারাবে। এছাড়াও সেখানে দৌধন বাঁধ নির্মিত হওয়ার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁধটি তৈরি হলে অন্তত ২২টি গ্রাম জলমগ্ন হবে। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ রাতারাতি গৃহহীন হবেন। এই মূল আশঙ্কার কারণেই দীর্ঘ আন্দোলন চলছে। ২০২৩ সাল থেকে স্থানীয়রা লাগাতার প্রতিবাদ করছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে এখানে 'চিতা আন্দোলন' শুরু হয়। সেই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। ছত্তরপুর জেলার দৌধন ও মাঝগাঁও এলাকার আদিবাসীরা এর প্রধান মুখ। রুঞ্জ ও পান্না অঞ্চলের বাসিন্দারাও এই লড়াইয়ে শামিল।

ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও সঠিক পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন চলছে। আদিবাসীরা জল সত্যাগ্রহ ও মাটি সত্যাগ্রহ করছেন। এমনকি অনশনের মতো কর্মসূচিও সমানে চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এই সামান্য অর্থ যথেষ্ট নয়। নতুন করে জীবন শুরু করতে বেশি টাকা লাগবে। তাঁরা মাথা পিছু ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। পাশাপাশি বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নাম তালিকায় ওঠেনি। সরকারি পুনর্বাসনের ওই তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষ আগে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসে কয়েক মাস আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত করা হয়নি। এই অভিযোগ তুলে চলতি মাস থেকে আদিবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন। প্রতিবাদকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, ন্যায্য অর্থ ছাড়া জমি দেওয়া অসম্ভব। পূর্বপুরুষের জমি ছাড়তে তাঁরা কোনোভাবেই রাজি নন। সেই কারণেই কোমর জলে নেমে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গলায় প্রতীকী ফাঁস পরে অভিনব প্রতিবাদ চলছে।
মূলত বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা রয়েছে। সেখানকার জল সঙ্কট মেটাতেই এই সরকারি উদ্যোগ। অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে পানীয় জলের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। সেচ ব্যবস্থাতেও সেখানে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা করা হয়। সরকার কেন নদীর জল বেতওয়া নদীতে নিয়ে যাবে। কিন্তু পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মীরা শুরু থেকেই এর বিরোধী। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই প্রজেক্টের চরম বিরোধিতা করছেন।
এই চরম অসন্তোষের মধ্যে আধিকারিকরা মুখ খুলেছেন। ছত্তরপুরের জেলাশাসক পার্থ জয়সওয়াল কিছু তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন করে একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। তারপর প্রায় ৭৫০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়াতে রাজ্য সরকার টাকা বরাদ্দ করেছে। অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের অনুদান ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে। তা বাড়িয়ে এখন সাড়ে বারো লক্ষ টাকা করা হলো। তবুও আন্দোলনকারীরা এই সরকারি প্যাকেজে মোটেই সন্তুষ্ট নন।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা আদিবাসী প্রতিনিধিরা নিজেদের বক্তব্য দেন। তাঁদের মতে, এই লড়াই শুধু টাকার জন্য নয়। এর সঙ্গে জমি ও বন রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। তাঁদের জীবিকা, সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকার বাঁচানোর লড়াই এটি। পূর্বপুরুষদের স্মৃতি রক্ষার তাগিদেই এই প্রতিরোধ চলছে। উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন করা যাবে না। আদিবাসী নেতারা এই বিষয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রজেক্ট স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
লোকসভার সঙ্গেই ভোটের পথে ২২ রাজ্য, এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিতে বড় বদলের জল্পনা
পরিবারের গৃহকর্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকবে গ্যাসের টাকা! বছরে ৩ সিলিন্ডার ফ্রি বিজয়ের রাজ্যে
বিয়ের ৪ মাসের মধ্যেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, স্বামী-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
মানুষ পাঠানোর আগে একের পর এক পরীক্ষা, গগনযান ঘিরে বড় ঘোষণা ISRO চেয়ারম্যানের
দাবি পূরণে কেন্দ্রের উপর চাপ, কালো আইন বাতিলের সুরে রাজধানীতে আন্দোলন
জাতভিত্তিক কোটা বন্ধের দাবি, আলোচনার পথেই সমাধানের পক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
২৭ অগস্ট রাত থেকে ২৮ অগস্ট রাত, সঙ্গীরও লাগবে না ভাড়া
ঢাকার দাবির মাঝেই প্রতিবেশী নীতি নিয়ে ভারতের অবস্থান জানালেন বিদেশমন্ত্রী
ভিলেন হওয়ার ফাঁদে পা নয়! তরুণ বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ
'স্কুল ঠিক করো' কর্মসূচি এবার বিপাকে, দীপকের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে এফআইআর
পারিবারিক চাপ ও সম্পর্কের টানাপোড়েনে মর্মান্তিক পরিণতি, মৃত্যু এক তরুণীর
পহেলগাঁও হামলার মামলায় হাফিজকে আদালতের নোটিস, পাকিস্তানে ঠিকানায় পাঠাবে ভারত
১৭০০ টন লৌহ আকরিক নিয়ে যাত্রা, মাঝসমুদ্রে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ
মায়ের মাসিক আয় দেড় লক্ষ হলেও বাবার দায়িত্ব কমবে না, তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের