নিজস্ব প্রতিনিধি , কাঠমান্ডু - ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। প্রাণহানি ইতিমধ্যেই ৫০০-র কাছাকাছি। নিখোঁজ হাজারের বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতেও বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নিতে রাজি নয় কাঠমান্ডু। বিষয়টি ঘিরে নেপালের সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বুধবার তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। বিপুল জল ও কাদার স্রোতে বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের নিরাপত্তাবাহিনী। শুক্রবার নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, বিপর্যয়ের পর একাধিক দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আপাতত সেই সাহায্য প্রয়োজন নেই বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল।
বুধবারের ঘটনার পর ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি কাঠমান্ডু। বিদেশি উদ্ধারকারী বাহিনীকে অনুমতি না দিলেও মানবিক সাহায্য নিতে আপত্তি নেই নেপালের। ইতিমধ্যে ভারত ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াও ১০ লক্ষ ডলারের মানবিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
কেন উদ্ধার অভিযানে বিদেশি দলকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না? এই প্রশ্নেই শুরু হয়েছে জল্পনা। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, বিপর্যয়স্থল রসুয়া চিন সীমান্তের অত্যন্ত কাছে। ফলে সেখানে বিদেশি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি নিয়ে বেজিংয়ের আপত্তি থাকতে পারে। ওই এলাকায় চিনের সামরিক গতিবিধি রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিদেশি দলের প্রবেশে সেই সংবেদনশীল অঞ্চল সম্পর্কে বাইরের দেশগুলি তথ্য পেয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভট্টরাইয়ের বক্তব্যেও উঠে এসেছে রসুয়ার ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয়টি। তাঁর মতে, তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় জেলাটি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিদেশ মন্ত্রক এই ধরনের কোনও চাপের কথা মানেনি। কাঠমান্ডুর বক্তব্য, নিজেদের নিরাপত্তাবাহিনীই বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ সামলাতে সক্ষম।
এর মধ্যেই নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নেপালে। শুক্রবার তিব্বতে হিমবাহের জল জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। ফলে ফের হড়পা বান নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে রসুয়া ও ধাদিং জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নতুন বিপদের আশঙ্কায় আপাতত উদ্ধার অভিযানও থামিয়ে রাখা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত বিপর্যয়ে প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিক। মোট নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নতুন করে হড়পা বান নামার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিপদসীমার উপরে জলস্তর, সরোবর ফেটে গেলে ফের প্লাবিত হতে পারে বিপর্যস্ত এলাকা
নেপাল বিপর্যয়ে দায় এড়াল চিন! নেপালের অভিযোগ খারিজ, কাঠমান্ডু-বেজিং সম্পর্কে চিড়ের আশঙ্কা
রাস্তা-সেতু ধ্বংস, কাদার স্তূপে থমকে উদ্ধারকাজ, বাড়ছে উদ্বেগ
তুষারধসে নদীপথ আটকে বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তনেও বাড়ছে হিমালয়ের ঝুঁকি
তিব্বত থেকে জলের তোড়ে বিপর্যয়, বিহার-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তেও সতর্কতা
ইক্রামুলকে নিয়ে হাসিনাপুত্রের অভিযোগ, বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগ
ল্যান্ডফিলের পাশে ঝুপড়িতে থাকা বহু মানুষ চাপা পড়েন
বিদেশযাত্রা থেকে ব্যক্তিজীবন, চিনে সরকারি কর্মীদের উপর কড়া নজরদারির অভিযোগ
নোশকিতে ব্যবসায়ী হত্যায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে মামলা, বাড়ছে ক্ষোভ
আয়ারল্যান্ডে ৪৪০ একরের এস্টেট-সহ গথিক দুর্গ কিনলেন মেটা কর্তা, নিয়মিত থাকবেন না সেখানে
ন্যেপির নিয়ম ভেঙে সমুদ্র সৈকতে বেরিয়ে ভিডিও পোস্ট, অশ্লীল মন্তব্যে ক্ষোভ
প্রথম বিস্ফোরণের পর ফের ড্রোন হামলার অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ৯
দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনা, বিমানে থাকা সকলের খোঁজে তল্লাশি
গাল্ফ অব এডেন ও সোমালিয়া উপকূলে পর পর হামলা, নাবিকদের অবস্থান এখনও অস্পষ্ট
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের