নিজস্ব প্রতিনিধি , মুম্বই - টাটা সনসের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন এন চন্দ্রশেখরন। তাঁর সিদ্ধান্ত ঘিরে কর্পোরেট মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চন্দ্রশেখরনের ঘোষণার পর বাজারে তার প্রভাব পড়ে। একাধিক সংস্থার শেয়ারে পতন দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে নজর এখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপে।
আগামী ১৮ আগস্ট সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম। তার আগেই বুধবার পদত্যাগের কথা জানালেন তিনি। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর বর্তমান মেয়াদ রয়েছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না চন্দ্রশেখরন। টাটা গ্রুপে নিজের পেশাজীবনের ৪০ বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ের জন্য সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান পদে ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গেও টানাপোড়েন চলছিল। পাশাপাশি টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে মতপার্থক্যের খবরও সামনে আসে।
চন্দ্রশেখরনের দাবি, দুই টাটা ট্রাস্টই মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট ও স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট সেই প্রস্তাব দিয়েছিল। ৫ বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি বোর্ডে তোলা হয়। কিন্তু বোর্ডের এক সদস্য প্রস্তাবটি সমর্থন করেননি। সর্বসম্মত সমর্থন না মেলায় সিদ্ধান্ত আটকে যায়। এরপর ছয় মাস কেটে গেলেও কোনও সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন চন্দ্রশেখরন।
তাঁর বক্তব্য, টাটা সনসের পরিধি অত্যন্ত বড়। একাধিক কৌশলগত প্রকল্পও এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে আগে থেকেই স্পষ্টতা প্রয়োজন। কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের কাছেও পরিষ্কার বার্তা দরকার। অংশীদারদেরও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানা জরুরি। সেই কারণেই বর্তমান মেয়াদ শেষেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাজারে প্রভাব পড়ে। টাটা গোষ্ঠীর একাধিক বড় সংস্থার শেয়ার দর কমে যায়।
বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ টাটা পাওয়ারের শেয়ার ১.২৬ শতাংশ পড়ে যায়। টিসিএসের দর কমে ৩.৯ শতাংশ। টাটা স্টিলও ১.৮৩ শতাংশ নিম্নমুখী হয়। চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাজারে তারই প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। টাটা সনসের অধীনে রয়েছে ৩০টিরও বেশি সংস্থা। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, টাটা মোটরস ও এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বড় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। সংস্থাটির ৬৬ শতাংশ মালিকানা টাটা ট্রাস্টসের হাতে। গত কয়েক মাস ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব নিয়েও টানাপোড়েন ছিল।
কৌশলগত সিদ্ধান্ত ঘিরেও মতপার্থক্য দেখা দেয়। এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসান সামলানো নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি সংখ্যালঘু এক শেয়ারহোল্ডারের প্রস্থান নিয়েও মতবিরোধ ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে নোয়েল টাটা পুনর্নিয়োগের বিরোধিতা করেছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়। এরপরই চন্দ্রশেখরনকে ফের চেয়ারম্যান করার প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। বোর্ডে সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতি পায়নি। তারপর থেকেই চেয়ারম্যানের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। এবার নিজেই পুনর্নিয়োগ না চাওয়ার কথা জানালেন চন্দ্রশেখরন।
চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বে টাটা গ্রুপ গত এক বছরে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা তার মধ্যে অন্যতম। টিসিএসও পড়েছে মূল্য সংক্রান্ত চাপের মুখে। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারে বড়সড় সাইবার হামলাও হয়েছিল। সেই হামলায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। ব্রিটেনের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছিল। একের পর এক ঘটনায় গোষ্ঠীর উপর চাপ বেড়েছে।
চন্দ্রশেখরন নিজের বিবৃতিতে বলেন, 'টাটা গ্রুপে আমি ৪০ বছর পূর্ণ করেছি। এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছি। তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ'। তিনি আরও জানান, বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এরপর আর নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার আবেদন করবেন না।
ইনস্টাগ্রামে ফাঁদ, ৩ মাস ধরে ডিজিটাল এরিয়ালার পর ৩০ ঘণ্টা কয়েদ
মৃত্যুর ৪২ দিন পর আয়ুষ্মান যোজনার মেসেজ! মৃত কনস্টেবলের চিকিৎসার টাকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন
ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশি দমন নিয়ে টানাপোড়েন, শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় বিরোধীরা
ফুকেট-দিল্লি বিমানে আচমকা ৩০০ ফুট নীচে নামার পর পাইলটের নমুনায় মাদক, তদন্তে এএআইবি
বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ে খাদ্য মজুত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নজরে প্রশাসন
জল-কাদার স্রোতে ভেঙে পড়ল প্রায় সাতটি বাড়ি, এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা
সরকারি স্কুলের পরিষেবা যাচাইয়ের উদ্যোগ, ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে নতুন কর্মসূচি
পড়ুয়াদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে বিজেপির ১১ ঘণ্টার কর্মসূচি, ঝাড়খণ্ডজুড়ে মিশ্র প্রভাব
ধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাহাড়, প্রায় ৯০০ স্থাপনায় ক্ষতি, ৮৮৬ কোটি টাকার লোকসান
সর্দি কাশির মতো উপসর্গ দেখেও অবহেলা নয়
ছাত্র আন্দোলন থেকে আসন পুনর্বিন্যাসে রাজনৈতিক সংঘাত, বিয়ের আসরে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য ছবি
কয়লা কাণ্ডে মনমোহনের ক্লিন চিট, নিশানায় মোদি সরকার, সরব সোনিয়া
মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে দুই সন্তানকে আগলে রাখলেন মা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রশ্নে পালটা কংগ্রেস, ছবির মহিলা বন্ধুর স্ত্রী ও ছেলেটি তাঁর সন্তান বলে দাবি
রক্তে শর্করা কমে বিপদ, বিধানসভা অভিযানে লাঠিচার্জেও আহত দেবেন্দ্রনাথ
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের