নিজস্ব প্রতিনিধি , নদীয়া - দিনমজুরকে চোর অপবাদ দিয়ে দফায় দফায় মারধর আর গুলি করে মারার হুমকি। অপমান, ভয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। বর্তমানে তিনি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। ঘটনায় তৃণমূল নেতার নাম জড়াতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শান্তিপুর থানার বাসিন্দা অনুপ দেবনাথ পেশায় দিনমজুর। ওই এলাকার তৃণমূল নেতা সোনা ঘোষের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে কাজ করতেন তিনি। গত মঙ্গলবার অনুপ দেবনাথ পাঁচিল করার জন্য বাগান পরিষ্কার করছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সোনা ঘোষ তার আঙ্গুলের একটি হীরের আংটি খুলে অনুপকে কাজে সাহায্য করছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর সেই আংটি নিতে ভুলে যায়। তারপর মনে পড়লে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেও সেই আংটি আর সে পায়না। পরে ওই অনুপ দেবনাথকে আংটির কথা জিজ্ঞাসা করলে জানায় সে কোন কিছুই সেখানে পায়নি। পরের দিন সোনা ঘোষের সঙ্গে দেখা করার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য কলকাতায় চিকিৎসা করাতে চলে যায় সে। সোনা ঘোষ তা জানতে পেরে শান্তিপুর স্টেশনে অনুপকে মারধর করে। অপমান, ভয়ে অনুপ দেবনাথ শুক্রবার সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অনুপ দেবনাথের স্ত্রী অঞ্জনা দেবনাথ জানিয়েছেন, "আমার স্বামী কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়েছিল। শান্তিপুর স্টেশনে নামতেই সোনা ঘোষের ভাই আর ম্যানেজার তাকে স্টেশনে মারতে শুরু করে। বাড়িতেও এসেছিল খোঁজ করতে আমি বললাম এখনও বাড়ি ফেরেনি তারপরই ওরা স্টেশনে যায়। এলাকায় সোনা ঘোষের যথেষ্ট দাপট রয়েছে। তিনি হুমকি দেয় তাদের ছেলেকে গুলি করে মেরে রেল লাইনে ফেলে দেবে। আমার স্বামী নির্দোষ। ওরা সবার সামনে আমার স্বামীকে অপমান করে তাই আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। আমি সোনা ঘোষের শাস্তি চাই। "
তৃণমূল নেতা সোনা ঘোষ জানিয়েছেন, "অনুপ দেবনাথের পরিবার আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। কাজের জায়গায় আমি আর অনুপ ছাড়া আর কেউ ছিলনা তাহলে আংটি কে নেবে ? আমি কারুর নামে কোনো অপবাদ দিই নি। আমি শুধুমাত্র তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আংটিটি সে পেয়েছে কিনা। আর গুলি মারার কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি চাইলে ওর বিরুদ্ধে অনেক আগেই আইনত ব্যবস্থা নিতে পারতাম।"
শান্তিপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রভাত বিশ্বাস জানিয়েছেন, "সোনা ঘোষ আমার ওয়ার্ডের তৃণমূলের কনভেনার। তবে অনুপ দেবনাথের পরিবার যে অভিযোগ তুলছে তা পুরোটা সত্য নয়। যতদূর আমি জানি সোনা মিথ্যা কথা বলবে না। এবার অনেকে বলছে সোনা আমার দলের লোক বলে আমি ওকে সমর্থন করছি। কিন্তু এটার সাথে রাজনৈতিক বিষয় কোনোভাবে যুক্ত নয়। আমি যেটুকু খবর পেয়েছি পুরো ঘটনার মীমাংসা করে হয়ে গেছে ।
বিরোধী দলের বিজেপি নেতা সোমনাথ কর জানিয়েছেন, "তৃণমূলের নেতারা দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে রাখছে। তৃণমূল আমলে এইসব ঘটনা খুবই স্বাভাবিক চিত্র। শুধু শান্তিপুর নয় গোটা রাজ্যটা সমাজ বিরোধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। যদি প্রশাসন এর সঠিক ব্যাবস্থা না নেয় তাহলে আমরা দোষীদের শাস্তি দেব।"
মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে
মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ অর্জুন সিংয়ের
আরও বড় আন্দোলনের হুমকি বিরোধীদের
বৈধ নাগরিক হয়েও ডিটেনশন ক্যাম্পে বীরভূমের ৫ যুবক
স্থানীয়দের আশ্বাস উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর
তদন্তে নেমেছে অশোকনগর থানার পুলিশ
সীমান্ত অনুপ্রবেশে বাড়ছে উদ্বেগ
অতিরিক্ত কাজের চাপে অসুস্থ দাবি পরিবারের
বিশালাকার মিছিল নিয়ে ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন
৯ ডিসেম্বর কোচবিহারে মুখ্যমন্ত্রীর সভা
আহত হাতিটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বন দফতরের কর্মীরা
সরকারকে ইমেল করা হলেও জবাব পায়নি বলে দাবি পরীক্ষার্থীর
ঘটনার তদন্ত শুরু পুলিশের
শাসক দলের কৰ্মসূচিতে যোগদান না করায় মারধরের অভিযোগ
বিশেষ চেকিংয়ের পরেই কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার পেয়েছেন পরীক্ষার্থীরা
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস