নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারত আজ আর শুধু অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক শক্তির দেশ নয়, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিশ্বের প্রথম সারির শক্তিগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে গভীরভাবে নজর কেড়েছে। দেশীয় গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) এবং তিন বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি একাধিক অত্যাধুনিক মিসাইল ভারতের নিরাপত্তা বলয়কে আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলেছে।
অগ্নি-V - অগ্নি-V ভারতের দীর্ঘপাল্লার ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার। এই মিসাইল পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং আধুনিক MIRV (Multiple Independently Targetable Re-entry Vehicle) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সম্পূর্ণ ক্যানিস্টারাইজড লঞ্চ সিস্টেম থাকায় এটি মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির জন্য প্রয়োজনীয় "সেকেন্ড স্ট্রাইক করার সক্ষমতা জোগায়।

ব্রহ্মোস - ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বিশ্বের দ্রুততম অপারেশনাল মিসাইলগুলোর একটি। এর গতি প্রায় Mach 2.8, অর্থাৎ শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ দ্রুত। স্থল, নৌ ও আকাশ—তিন প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণযোগ্য হওয়ায় এটি ভারতের তিন বাহিনীরই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রহ্মোস রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভারত সাফল্য পাচ্ছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পরিচিতি দিচ্ছে।

নাগ - নাগ মিসাইল মূলত শত্রু ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের জন্য তৈরি একটি আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল। ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তির ফলে একবার উৎক্ষেপণের পর এটি নিজেই লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে আঘাত হানে। থার্মাল ইমেজিং সিকার থাকার কারণে রাত বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও এটি সমান কার্যকর। সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

অস্ত্র - অস্ত্র হলো ভারতের নিজস্ব ভাবে তৈরি দীর্ঘপাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যার আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ১০০+ কিলোমিটার পর্যন্ত। এতে ব্যবহৃত আধুনিক রাডার হোমিং সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক কাউন্টার-কাউন্টারমেজার (ECCM) প্রযুক্তি শত্রুর জ্যামিং ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করে দিতে পারে। তেজস, সুখোই-৩০ এমকেআই ও মিরাজ-২০০০-এর মতো যুদ্ধবিমানে অস্ত্র যুক্ত হওয়ায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আরও বেড়েছে।

শৌর্য - শৌর্য একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার গতি Mach 7-এরও বেশি। কম উচ্চতায় দ্রুত গতিতে উড়তে পারার ফলে এটি শত্রুর রাডারে ধরা পড়া কঠিন। এর পাল্লা প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার এবং এটি পারমাণবিক ও প্রচলিত—দু’ধরনের ওয়ারহেডই বহন করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলে ভারতের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

এই পাঁচটি মিসাইল ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু শক্তিশালী করেনি, বরং দেশীয় প্রযুক্তি, আত্মনির্ভরতা ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সফল উদাহরণ হিসেবেও দাঁড়িয়ে আছে। হাইপারসনিক অস্ত্র, মিসাইল ডিফেন্স শিল্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যুদ্ধ প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতে তার সামরিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত—যা আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়