নিজস্ব প্রতিনিধি , দিয়েগো গার্সিয়া - ইরান ইসরায়েল বা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যখনই মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ (Aircraft Carrier) পারস্য উপসাগর বা আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হয়, তখন গোটা বিশ্বের নজর সেদিকেই ঘুরে যায়। কারণ, একটি মাত্র মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপই (Carrier Strike Group) কার্যত একটি ভাসমান সামরিক ঘাঁটির সমান শক্তিশালী। প্রশ্ন উঠছে—ইরানের মতো শক্তিধর আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধজাহাজ আসলে কতটা কার্যকর ও ভয়ঙ্কর?
মার্কিন নৌবাহিনীর আধুনিক বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ, বিশেষ করে ‘নিমিটজ’ বা ‘জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ শ্রেণির ক্যারিয়ার, প্রায় ১ লক্ষ টনের বেশি ওজনের বিশালাকার জাহাজ। দৈর্ঘ্যে তিনটি ফুটবল মাঠের সমান এই জাহাজে একসঙ্গে ৭০ থেকে ৯০টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট বা নতুন প্রজন্মের এফ-৩৫সি স্টেলথ ফাইটার, যা শত্রুর রাডারে ধরা না পড়েই গভীরে হামলা চালাতে সক্ষম।
একটি ক্যারিয়ার একা চলাচল করে না। তার সঙ্গে থাকে ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার, সাবমেরিন ও রসদবাহী জাহাজ—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইক গ্রুপ। এই বহর আকাশ, সমুদ্র ও পানির নিচ—তিন দিক থেকেই সুরক্ষা ও আক্রমণের সক্ষমতা রাখে। ফলে ইরানের উপকূল বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থান নিলে, মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো সম্ভব হয়।
ইরানের প্রতিরক্ষা মূলত তাদের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল ক্ষমতা এবং দ্রুতগামী ছোট ছোট নৌকা করে আক্রমণের উপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ জলপথে ছোট, দ্রুত নৌযানের মাধ্যমে বড় জাহাজে একসঙ্গে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা ইরানের বহুদিনের। তবে মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের উন্নত রাডার ব্যবস্থা, এজিস মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিশেষভাবে তৈরি।
কৌশলগত দিক থেকে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ শুধু সামরিক শক্তির প্রতীক নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। ইরানের প্রেক্ষাপটে একটি ক্যারিয়ার মোতায়েন মানে শুধু সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। এতে আঞ্চলিক মিত্রদের আশ্বস্ত করা হয় এবং প্রতিপক্ষকে সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়।
তবে বাস্তবতা হলো, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো শক্তিই অজেয় নয়। ইরানের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার হামলার সক্ষমতা এবং উপকূলীয় মিসাইল সিস্টেম মার্কিন নৌবহরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে সংঘাতের পরিস্থিতিতে এই শক্তির লড়াই শুধু অস্ত্রের নয়, কৌশল, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতাও হবে।
মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ একাই একটি চলমান বিমানঘাঁটি । ইরান আক্রমণের প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তির প্রদর্শন হলেও, সম্ভাব্য সংঘাতের পরিণতি নির্ভর করবে দুই পক্ষের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথের ওপর।
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়