নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারত ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত দেশ। চারদিক থেকে পাহাড়, সমভূমি, নদী ও বনভূমি ঘেরা এই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত শুধু ভৌগোলিক রেখা নয়, বরং রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অনেকাংশেই নির্ভর করে এই সীমান্তগুলির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার উপর।
১. ভারত–পাকিস্তান সীমান্ত
এই সীমান্ত ভারতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এবং প্রায় ৩,৩২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। ঐতিহাসিকভাবে এটি ভারতের অন্যতম বিপদজনক সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ ও সামরিক উত্তেজনার কারণে এখানে সর্বদা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়। এই সীমান্ত কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
২. ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত
প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত ভারতের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ রয়েছে। এই সীমান্ত মানবিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও নদীভাঙনের মতো সমস্যার কারণে এটি নিরাপত্তার দিক থেকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ।
৩. ভারত–চীন সীমান্ত
হিমালয় পর্বতমালার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত এই সীমান্ত প্রায় ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। একে “লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল” বলা হয়। লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ এই সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও সীমান্ত নিয়ে মতভেদের কারণে এটিকে ভারতের অন্যতম বিপদজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত হিসেবে ধরা হয়।
৪. ভারত–নেপাল সীমান্ত
প্রায় ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তকে একটি উন্মুক্ত সীমান্ত বলা হয়। দুই দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, উত্তরাখণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের সঙ্গে নেপালের সংযোগ রয়েছে। এটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সীমান্ত, তবে খোলা যাতায়াতের কারণে মাঝে মাঝে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও দেখা দেয়।
৫. ভারত–ভুটান সীমান্ত
প্রায় ৬৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ভুটানের যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এটি ভারতের অন্যতম ক্ষুদ্রতম সীমান্তগুলির একটি। ভুটানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই সীমান্ত তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও স্থিতিশীল।
৬. ভারত–মিয়ানমার সীমান্ত
প্রায় ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশ এই সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। পাহাড়ি বনাঞ্চল ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চল হওয়ায় এখানে নজরদারি কঠিন, ফলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
ভারতের এই ছয়টি আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে বিপদজনক ও সংবেদনশীল সীমান্ত হিসেবে ভারত–পাকিস্তান ও ভারত–চীন সীমান্ত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি সীমান্তই ভারতের নিরাপত্তা, কূটনীতি ও প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা গুরুত্ব বহন করে ।
তিন বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি একাধিক অত্যাধুনিক মিসাইল ভারতের নিরাপত্তা বলয়কে আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলেছে
এটি কেবল একটি আমদানি চুক্তি নয় বরং ভারত-রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিগত ভিত্তি
ইরানের মতো শক্তিধর আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে এই যুদ্ধজাহাজ আসলে কতটা কার্যকর ও ভয়ঙ্কর?
বিশ্বের একমাত্র অশ্বারোহী রেজিমেন্ট
প্রতিটিই নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে স্যালুট করে
আতঙ্কেই ভুগছেন আমেরিকাবাসী
শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক
মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পরই বাণিজ্যচুক্তি
মোদির ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
শেয়ার বাজারের উত্থানে আনন্দে আত্মহারা বিনিয়োগকারীরা