নিউজ ডেস্ক, আহমেদাবাদ: আইপিএলের মঞ্চে ফের নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ট্রফি জিতে নিল রজত পাতিদারের নেতৃত্বাধীন দল। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসে গোটা আরসিবি শিবির। দলের অন্যতম স্তম্ভ বিরাট কোহলিও সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সাফল্যের আনন্দ।
রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বেঙ্গালুরু। জয়ের জন্য যখন মাত্র এক রান প্রয়োজন, তখন ১৯তম ওভারের শেষ বলে আরশাদ খানকে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন কোহলি। সেই মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। হেলমেট খুলে আবেগঘন উদ্যাপনে মেতে ওঠেন তিনি। গ্যালারিতে উপস্থিত স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকেও আনন্দে উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, “এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বহুবার কল্পনা করেছি, এমন একটা দিন যদি আসে যখন আমার শটেই দলের জয় নিশ্চিত হবে। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এখন আমাদের দলে এমন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে কাউকে একা দায়িত্ব নিতে হয় না। প্রত্যেক ক্রিকেটার জানে কীভাবে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। গোটা মরশুম জুড়েই আমরা নিজেদের শক্তির উপর বিশ্বাস রেখেছি, আর সেই বিশ্বাসই আমাদের এই সাফল্যের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।”

আরসিবির সাফল্যের নেপথ্যের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর কথায়, “মরশুমের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল পয়েন্ট তালিকার প্রথম দুইয়ে থাকা। সেটা করতে পারায় প্লে-অফে বাড়তি সুবিধা পেয়েছি। ফাইনালে কার বিরুদ্ধে খেলব, তা নিয়ে কখনও ভাবিনি। আমরা শুধু নিজেদের ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছি। প্রতিপক্ষকে সম্মান করেছি, কিন্তু নিজেদের সামর্থ্যের উপর আস্থা আরও বেশি ছিল। দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
এই ম্যাচেই আইপিএল কেরিয়ারের দ্রুততম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন কোহলি। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিবর্তিত ধারা নিয়ে তিনি বলেন, “এখনকার তরুণ ক্রিকেটাররা খেলার মান অনেক উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে। তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে নিজেকেও প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি নিজের খেলায় নতুন কিছু যোগ করতে এবং আরও কার্যকর হয়ে উঠতে।”
দলের অলরাউন্ডার ক্রুণাল পাণ্ডিয়াও শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ট্রফি জেতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনও সংশয় ছিল না। প্রতিটি শিরোপার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচ এবং একটি পরাজয়ের পর আমরা নিজেদের আরও ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে পেরেছিলাম। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু।”
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জিতেশ শর্মা কৃতিত্ব দিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টকে। তাঁর বক্তব্য, “মো বোবাট শুরু থেকেই বলেছিলেন, আমরা ট্রফির পিছনে ছুটব না, বরং এমন ক্রিকেট খেলব যাতে ট্রফি নিজেই আমাদের কাছে আসে। সেই মানসিকতাই দলকে বদলে দিয়েছে। কোচিং স্টাফ এবং দীনেশ কার্তিক পুরো মরশুম জুড়ে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। এই সাফল্যের পিছনে তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তান, চুক্তি মেনে রিয়াদে মোতায়েন হলো পাক সেনা
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই রক্তগঙ্গা! তুরস্কের রেস্তরাঁয় বন্দুকবাজের হামলায় নিহত ৪, আহত ৮
ইরানে বিষ্ণু মন্দিরের ইতিহাস জানালেন অমিতাভ বচ্চন
‘ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া দেব’! ট্রাম্পের চিনের সফরের পরেই মার্কিন টেক জায়ান্...
জেলেনস্কির বদলা! ৫০০ ড্রোনের ধাক্কায় কাঁপল মস্কো, এক বছরের বড় হামলায় বিপর্যস্ত র...