নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারত এমন একটি দেশ, যার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরনো। এই দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতর দিয়ে যেমন বিকশিত হয়েছে শিল্প, সংগীত ও সাহিত্য, তেমনই বিকশিত হয়েছে নানা রকম খেলা–ধুলা। আজ আমরা ক্রিকেট, ফুটবল বা ব্যাডমিন্টনের মোহে আবদ্ধ; কিন্তু একসময় ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এমন অনেক দেশীয় খেলা ছিল, যা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এসব খেলাই ছিল গ্রামের সমাজজীবনের আনন্দ, ঐক্য ও ক্রীড়া–সংস্কৃতির প্রতীক।
একসময় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই বিকেলের শেষে মাঠে বা উঠোনে শুরু হত ডাং-গুলি, লাঠি খেলা , পিঠু বা কাবাডি খেলতে। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তির আগ্রাসন এবং জমির সংকট এসব খেলার অস্তিত্ব প্রায় মুছে দিয়েছে। অথচ এগুলোর প্রত্যেকটিই ভারতীয় সংস্কৃতির এক মূল্যবান অংশ।

ডাং-গুলি ছিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় লোকখেলা। দুটি কাঠি—একটি ছোট ( গুলি) ও একটি বড় (ডাং)—দিয়ে খেলা হতো। খেলোয়াড় গিলিটিকে ডান্ডা দিয়ে আঘাত করে যত দূর সম্ভব ছুড়ে দিতেন, আর অপর দল সেটি ধরার চেষ্টা করত। এই খেলার জন্য প্রয়োজন হতো দক্ষতা, চোখের দৃষ্টি ও শরীরের সঠিক সমন্বয়। একসময় গ্রামীণ বালকদের গর্ব ছিল ডাং-গুলির ভালো খেলোয়াড় হওয়া, কিন্তু আজ সেই খেলাটিকে কেবল গল্পেই খুঁজে পাওয়া যায়।
লাঠি খেলা বা লাঠি কাবাড়ি ছিল ভারতের প্রাচীন যুদ্ধ–কৌশলের এক অনুশীলন। এটি শুধু খেলা নয়, আত্মরক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়ও ছিল। বাংলায়, উত্তরপ্রদেশে, পাঞ্জাবে এমনকি দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলেও লাঠি খেলার ঐতিহ্য ছিল প্রবল। এখন সেই খেলার জায়গায় এসেছে মার্শাল আর্ট বা জিম ট্রেনিং। ফলে লাঠি খেলা শুধু উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে সীমিত হয়ে পড়েছে।
পিঠু বা সাত পাথর আরেকটি জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা ছিল। সাতটি ছোট পাথর একটার ওপর আরেকটা সাজিয়ে সেটি বল দিয়ে ভাঙা এবং পুনরায় সাজানোর মধ্যে ছিল এর মজা ও চ্যালেঞ্জ। এতে দলবদ্ধতা, পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু আজকের প্রজন্ম সেই খেলার নামই জানে না।
কাবাডি এখনো ভারতের কিছু অঞ্চলে জনপ্রিয়, এমনকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে, কিন্তু আধুনিক সংস্করণের চকচকে প্রিমিয়ার লিগের বাইরে গ্রামীণ কাবাডির রূপ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। একসময় মাটির মাঠে খালি পায়ে, কোনো রেফারি বা সময়সীমা ছাড়াই, শ্বাস ধরে আক্রমণ ও প্রতিরোধের খেলাই ছিল প্রকৃত কাবাডি।
এ ছাড়াও ছিল কানামাছি, পোস্ট অফিস, লুকোচুরি , মার্বেল বা কাঞ্চা খেলা , ঘুঁড়ি ওড়ানো —এসব খেলা শুধু বিনোদন নয়, সমাজে যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও দলবদ্ধতার শিক্ষা দিত।
প্রযুক্তির যুগে মোবাইল গেম, ভিডিও গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে এসব খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। খেলার মাঠ কমে গেছে, শিশুদের অবসর সময় নেই, আর অভিভাবকেরাও চান না সন্তান ধুলোয় মাখা হোক। ফলত, বিলুপ্ত হচ্ছে ভারতীয় লোকখেলার ঐতিহ্য।

তবে আশার কথা, কিছু সংগঠন ও বিদ্যালয় এখন আবার এসব খেলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন রাজ্যে “দেশীয় খেলা উৎসব” বা “রুরাল স্পোর্টস মিট”–এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ, এই খেলাগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভারতের সাংস্কৃতিক শিকড়, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তার শিক্ষা।
আজ যদি আমরা আমাদের এই হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারি, তবে শুধু একটি ঐতিহ্যই নয়, একটি সম্পূর্ণ জীবনবোধকেও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।
নতুন সাজে সেজে উঠছে জগন্নাথ মন্দির
দূরপাল্লার যাত্রীদের সুবিধার নতুন উদ্যোগ
রথযাত্রার দিনে বাড়তি লঞ্চের ব্যবস্থা
উৎসবে ভক্তদের জন্য বিশেষ পরিষেবার আয়োজন
পুরী যাওয়ার জন্য একাধিক স্পেশাল ট্রেন চালাবে দক্ষিণ পূর্ব রেল
হিউম্যানয়েড রোবটের সক্ষমতা তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী প্রযুক্তি প্রদর্শনী
আইআইটি খড়গপুরের সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি তথ্যনির্ভর পর্যটন পরিকল্পনা
সংসারের দায় কাধে নিয়ে আজও কলকাতার রাস্তায় ভাড়ার হলুদ ট্যাক্সি চালিয়ে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ সরকার
এক মাস আগের মেয়র দফতরের ঘটনার পর ফের রাজধানীতে বিস্ফোরণের আতঙ্ক
খাবারের মেনু নিয়ে বচসা থেকে হাতাহাতি, বর ও কনেপক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা বিহারের সহ...
বিদেশের এক দম্পতি মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫টি চুম্বন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নি...
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের পর সরব এনসিপি, বিচারের রায় কার...
শেষ পর্যন্ত এই আচরণ মেনে নিতে না পেরে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কনে। ...