690b532b23895_1200-675-22343400-882-22343400-1725107796771
নভেম্বর ০৫, ২০২৫ বিকাল ০৭:০৮ IST

ডাংগুলি থেকে পিঠু , ভারতের প্রাচীন হারিয়ে যাওয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারত এমন একটি দেশ, যার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হাজার বছরের পুরনো। এই দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতর দিয়ে যেমন বিকশিত হয়েছে শিল্প, সংগীত ও সাহিত্য, তেমনই বিকশিত হয়েছে নানা রকম খেলা–ধুলা। আজ আমরা ক্রিকেট, ফুটবল বা ব্যাডমিন্টনের মোহে আবদ্ধ; কিন্তু একসময় ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এমন অনেক দেশীয় খেলা ছিল, যা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এসব খেলাই ছিল গ্রামের সমাজজীবনের আনন্দ, ঐক্য ও ক্রীড়া–সংস্কৃতির প্রতীক।

একসময় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই বিকেলের শেষে মাঠে বা উঠোনে শুরু হত ডাং-গুলি,  লাঠি খেলা ,  পিঠু  বা কাবাডি খেলতে। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তির আগ্রাসন এবং জমির সংকট এসব খেলার অস্তিত্ব প্রায় মুছে দিয়েছে। অথচ এগুলোর প্রত্যেকটিই ভারতীয় সংস্কৃতির এক মূল্যবান অংশ।

ডাং-গুলি  ছিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় লোকখেলা। দুটি কাঠি—একটি ছোট ( গুলি) ও একটি বড় (ডাং)—দিয়ে খেলা হতো। খেলোয়াড় গিলিটিকে ডান্ডা দিয়ে আঘাত করে যত দূর সম্ভব ছুড়ে দিতেন, আর অপর দল সেটি ধরার চেষ্টা করত। এই খেলার জন্য প্রয়োজন হতো দক্ষতা, চোখের দৃষ্টি ও শরীরের সঠিক সমন্বয়। একসময় গ্রামীণ বালকদের গর্ব ছিল ডাং-গুলির ভালো খেলোয়াড় হওয়া, কিন্তু আজ সেই খেলাটিকে কেবল গল্পেই খুঁজে পাওয়া যায়।

লাঠি খেলা  বা লাঠি কাবাড়ি  ছিল ভারতের প্রাচীন যুদ্ধ–কৌশলের এক অনুশীলন। এটি শুধু খেলা নয়, আত্মরক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়ও ছিল। বাংলায়, উত্তরপ্রদেশে, পাঞ্জাবে এমনকি দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলেও লাঠি খেলার ঐতিহ্য ছিল প্রবল। এখন সেই খেলার জায়গায় এসেছে মার্শাল আর্ট বা জিম ট্রেনিং। ফলে লাঠি খেলা শুধু উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে সীমিত হয়ে পড়েছে।

পিঠু বা সাত পাথর আরেকটি জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা ছিল। সাতটি ছোট পাথর একটার ওপর আরেকটা সাজিয়ে সেটি বল দিয়ে ভাঙা এবং পুনরায় সাজানোর মধ্যে ছিল এর মজা ও চ্যালেঞ্জ। এতে দলবদ্ধতা, পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু আজকের প্রজন্ম সেই খেলার নামই জানে না।

কাবাডি  এখনো ভারতের কিছু অঞ্চলে জনপ্রিয়, এমনকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে, কিন্তু আধুনিক সংস্করণের চকচকে প্রিমিয়ার লিগের বাইরে গ্রামীণ কাবাডির রূপ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। একসময় মাটির মাঠে খালি পায়ে, কোনো রেফারি বা সময়সীমা ছাড়াই, শ্বাস ধরে আক্রমণ ও প্রতিরোধের খেলাই ছিল প্রকৃত কাবাডি।

এ ছাড়াও ছিল কানামাছি,  পোস্ট অফিস,  লুকোচুরি , মার্বেল বা কাঞ্চা খেলা ,  ঘুঁড়ি ওড়ানো —এসব খেলা শুধু বিনোদন নয়, সমাজে যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও দলবদ্ধতার শিক্ষা দিত।

প্রযুক্তির যুগে মোবাইল গেম, ভিডিও গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিড়ে এসব খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। খেলার মাঠ কমে গেছে, শিশুদের অবসর সময় নেই, আর অভিভাবকেরাও চান না সন্তান ধুলোয় মাখা হোক। ফলত, বিলুপ্ত হচ্ছে ভারতীয় লোকখেলার ঐতিহ্য।

তবে আশার কথা, কিছু সংগঠন ও বিদ্যালয় এখন আবার এসব খেলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন রাজ্যে “দেশীয় খেলা উৎসব” বা “রুরাল স্পোর্টস মিট”–এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ, এই খেলাগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভারতের সাংস্কৃতিক শিকড়, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তার শিক্ষা।

আজ যদি আমরা আমাদের এই হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারি, তবে শুধু একটি ঐতিহ্যই নয়, একটি সম্পূর্ণ জীবনবোধকেও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

ঋতুরাজকে বরণ , শেকড়ের টানে ধূপগুড়িতে রাখালসেবা উৎসব
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

একসময় উত্তরবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ত্যারেয়া ফেলার মাধ্যমে শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানানোর রেওয়াজ ছিল

বিশ্বজুড়ে ১৫৫ মিমি গোলার ঘাটতি , সুযোগ দেখছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় তৈরি হয়েছে এক বিরাট ঘাটতি

বাড়িতে সাদা শিবলিঙ্গ রাখতে নেই কেন? জ্যোতিষ ও শাস্ত্রে কী বলছে
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

এই বিশ্বাসের পেছনে জ্যোতিষশাস্ত্র ও আগমশাস্ত্রের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে, যা বহু মানুষ আজও মানেন

যক্ষ যক্ষিণী কারা , হিন্দু থেকে জৈন নানা ধর্মে বার বার আসে যাদের নাম
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

হিন্দু পুরাণে যক্ষদের অধিপতি হিসেবে পরিচিত কুবের যিনি ধনসম্পদের দেবতা এবং উত্তর দিকের দিকপাল

প্রভাতফেরি থেকে মাল্যদান , বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে পালন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

কাশে বাতাসে প্রতিধ্বনি হল সেই চিরন্তন সত্য নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান , বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান

ভেজালের ভয় ভুলে রঙের প্রস্তুতি , শান্তিপুরে প্রাথমিক পড়ুয়াদের হাতে তৈরি ভেষজ আবির
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয় মহলে

বাড়বে ভারতের সক্ষমতা , সমুদ্রে নামল নিঃশব্দ ঘাতক
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন হতে পারে

UPI ব্যবহার তো করেন সবাই , কিন্তু জানেন এর আসল নাম কি
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনকে সহজ নিরাপদ ও একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা

বৃন্দাবনের আসল তুলসীর মালার টান! মায়াপুর ইসকনে ভক্তির মেলায় নজর কাড়ছে নিত্যানন্দ মার্কেট
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে অস্থায়ী কেনাকাটার আয়োজন