নিজস্ব প্রতিনিধি , মুম্বাই - আধুনিক যুদ্ধে ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান বা ড্রোন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম নয় ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল। প্রায় ৪৫ কেজি ওজনের এই গোলা দূরপাল্লার হাউইটজার কামান থেকে ছোঁড়া হয় এবং ৩০–৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমান বিশ্বরাজনীতির টানাপোড়েনে এই গোলাই হয়ে উঠেছে স্থলযুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় তৈরি হয়েছে এক বিরাট ঘাটতি—আর সেই ফাঁক পূরণে এগিয়ে আসছে ভারত।

বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি সেনাবাহিনী ১৫৫ মিমি মানের কামান ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের M777 howitzer, ভারতের Dhanush howitzer ও K9 Vajra-T সহ প্রায় সব ন্যাটো দেশ এই মান অনুসরণ করে। ফলে ১৫৫ মিমি শেল কার্যত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।
দশকের পর দশক ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বহু দেশ মনে করেছিল পুরনো মজুতই যথেষ্ট। উৎপাদন কমানো হয়, কারখানা বন্ধ হয়, বিস্ফোরক তৈরির অবকাঠামো সংকুচিত হয়। কিন্তু ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দেয়। ইউক্রেনের দাবি ছিল, তুঙ্গ লড়াইয়ের সময় দিনে প্রায় ২০ হাজার শেল প্রয়োজন। যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির প্রায় ৮০ শতাংশই হয়েছে আর্টিলারি হামলায়। ফলে হঠাৎ করেই বিশ্ব বুঝতে পারে—গোলার ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বছরে প্রায় ৭.৫ থেকে ৮ মিলিয়ন ১৫৫ মিমি শেলের চাহিদা রয়েছে বলে অনুমান। অথচ বৈশ্বিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩ থেকে ৩.৫ মিলিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই ঘাটতি রাতারাতি পূরণ সম্ভব নয়। একটি শেল তৈরিতে প্রয়োজন বিশেষ মানের ইস্পাত ফোরজিং, নির্ভুল মেশিনিং, টিএনটি বা আরডিএক্স-ভিত্তিক বিস্ফোরক, ফিউজ ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ। বহু দেশে বিস্ফোরক উৎপাদনই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত সুযোগ দেখছে। রাষ্ট্রায়ত্ত Munitions India Limited এখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ১৫৫ মিমি শেল তৈরি করছে। পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রও সক্রিয়। Goodluck India ইতিমধ্যে বছরে ১.৫ লক্ষ শেল উৎপাদন শুরু করেছে এবং সম্প্রসারণের পথে। Solar Industries India সম্পূর্ণ গোলা তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। Balu Forge Industries স্বয়ংক্রিয় লাইনে উচ্চগতিতে শেল উৎপাদন করছে, আর Tirupati Forge নতুন কারখানায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং রপ্তানি ছুঁয়েছে প্রায় ২৩,৬০০ কোটি টাকা। ২০২৯ সালের মধ্যে উৎপাদন ৩ লক্ষ কোটি এবং রপ্তানি ৫০,০০০ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় শেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে কম—যা উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে আকর্ষণীয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট সাময়িক নয়। আর্টিলারি গোলা —একবার ব্যবহার হলেই শেষ। ফলে যুদ্ধ থেমে গেলেও মজুত পুনর্গঠন চলতেই থাকবে। ব্যয়সাশ্রয়ী উৎপাদন, বাড়তে থাকা ক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থানের জোরে ভারত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে। ১৫৫ মিমি শেলের বাজার তাই আগামী কয়েক বছর ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে।
আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন হতে পারে
মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনকে সহজ নিরাপদ ও একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা
এমন মানবিক প্রচেষ্টা স্থানীয় মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে
ওড়িশার কোলাহল মুক্ত সমুদ্র সৈকত গোপালপুর
১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই বিশাল নৌবহর পর্যালোচনা করবেন
দীর্ঘদিন ধরে বরফে ঢেকে থাকা তাঁর দেহাবশেষ সম্প্রতি হিমবাহ সরে যাওয়ার ফলে প্রকাশ্যে আসে
একাধিক গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত নোবেল
বাংলাদেশে সদ্য সরকার গঠন করেছে তারেক
প্রায় ৪ বছরের বেশি সময় ধরে অব্যাহত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
এই নিয়ে প্রায় ৫০ বার যুদ্ধ থামানো দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের
বাণিজ্যচুক্তির পরও ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প