নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তার ময়দানে আবারও এক অখ্যাত নায়কের রূপকথা দেখল তিলোত্তমা। ইডেন গার্ডেন্সে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে একার হাতে গুঁড়িয়ে দিয়ে এখন প্রচারের আলোয় রাজস্থানের তরুণ তুর্কি মুকুল চৌধুরী। দারিদ্র্য আর বঞ্চনার শিকল ছিঁড়ে তার এই উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে এক পিতার অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ। সন্তানকে আগামীর তারকা বানাতে যিনি ভিটেমাটি হারিয়েছেন, এমনকি ঋণের দায়ে গরাদের ওপারেও রাত কাটিয়েছেন।
রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এই খেলোয়াড় এবার IPL নিলামে ২.৬০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে মুশতাক আলি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি নির্বাচকদের নজরে আসেন। বৃহস্পতিবার নাইটদের বিরুদ্ধে স্নায়ুর লড়াইয়ে যেভাবে বড় শট খেলে লখনউকে জয় উপহার দিলেন, তাতে বিশেষজ্ঞ মহল তার মধ্যে মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়া দেখছে।
'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুকুলের বাবা দলীপ চৌধুরী জানান, ২০০৩ সালে স্নাতক হয়েই তিনি বিয়ে করেছিলেন। পরের বছর জন্ম হয় সন্তানের। স্থির করেছিলেন উত্তরসূরিকে বড় ক্রিকেটার বানাবেন। সেই লক্ষ্যে ছোট থেকেই ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ব্যাট ও বল। নিজে ৬ বছর ধরে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েও সফল হননি। পরে আবাসন তৈরির ব্যবসা শুরু করলেও আর্থিক উন্নতি হয়নি। এরপর ২০১৬ সালে বাড়ি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সিকারের নামী অ্যাকাডেমিতে ছেলেকে ভর্তি করান।
এমন সময় বুঝতে পারেন হাতে বিশেষ সঞ্চয় নেই। তখন নিজের বসতবাড়ি ২১ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। পরের বছর একটি হোটেল খুলতে গিয়ে ঋণ নেন। সেই কিস্তি মেটাতে না পেরে কারাবাসও করতে হয় তাকে। স্বজনদের টিটকিরি কিংবা সমাজের পাগল আখ্যা-কোনো কিছুই এই লড়াকু পিতাকে পথ থেকে সরাতে পারেনি। তিনি আরও জানান, নিজেও ক্রিকেট খেলতেন স্থানীয় স্তরে। তার আদর্শ কপিল দেব ও শচীন টেন্ডুলকার। তাদের ভিডিও ছোট থেকেই ছেলেকে দেখাতেন। ২০১১ সালে ধোনির ছক্কায় ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর মুকুল তার অন্ধ ভক্ত হয়ে ওঠে।
ইডেনের এই সাফল্যের পর এখন খুশির জোয়ার চৌধুরীর পরিবারে। লখনউ কর্তৃপক্ষ প্রচুর অর্থ দিয়ে কেনায় শুরুতে বেশ চাপে ছিলেন এই ব্যাটার। এমনকি দলকে জেতাতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন। তবে অভিভাবকের কাছে করা অঙ্গীকার রক্ষা করে অবশেষে সব দেনা শোধ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এক পিতার দীর্ঘ দুই দশকের লড়াই আজ সার্থক। কারণ তার কঠোর ত্যাগের বিনিময়ে দেশ এক নতুন ফিনিশার খুঁজে পেয়েছে। এখন লক্ষ্য জাতীয় দলের নীল জার্সি, যেখানে ঝুনঝুনুর এই রত্ন নিজের গ্রামকে বিশ্বম্যাপে চিনিয়ে দেবেন।
সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তান, চুক্তি মেনে রিয়াদে মোতায়েন হলো পাক সেনা
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই রক্তগঙ্গা! তুরস্কের রেস্তরাঁয় বন্দুকবাজের হামলায় নিহত ৪, আহত ৮
ইরানে বিষ্ণু মন্দিরের ইতিহাস জানালেন অমিতাভ বচ্চন
‘ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া দেব’! ট্রাম্পের চিনের সফরের পরেই মার্কিন টেক জায়ান্...
জেলেনস্কির বদলা! ৫০০ ড্রোনের ধাক্কায় কাঁপল মস্কো, এক বছরের বড় হামলায় বিপর্যস্ত র...