নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - উত্তর কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যে কেন্দ্র একসময় পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উত্থান পতনের সাক্ষী ছিল, সেই বরানগর আজ ত্রিমুখী সমীকরণের জটিল লড়াইয়ের ময়দান।
ইতিহাস বলছে, ১৯৫১ থেকে ১৯৭১, দীর্ঘ সময় এই কেন্দ্র থেকেই বারবার জয়ী হয়েছিলেন জ্যোতি বসু। কখনও অবিভক্ত সিপিআই, কখনও সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে। ১৯৭১ সালে তিনি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জী-কে হারান। কিন্তু ১৯৭২ সালে সিপিআই প্রার্থী শিবপদ ভট্টাচার্যের কাছে পরাজয়ের পর বরানগরের রাজনীতিতে বড় মোড় আসে এবং সেই হারই তাঁকে এই কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করে।
পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬,প্রায় তিন দশক বরানগর ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি। সিপিআই ও সিপিএমের দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে আরএসপি এই আসন দখল করে রাখে টানা সাতবার। মতীশ রায়, অমর চৌধুরীর মতো নেতারা এখান থেকেই উঠে এসে মন্ত্রী হন। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, আরএসপি জিতলেও বাম ভোটের বড় অংশই ছিল সিপিএম-ঘেঁষা।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বরানগরেও শুরু হয় নতুন অধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ধীরে ধীরে এই কেন্দ্রকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করে। তাপস রায় টানা তিনবার জয়ী হয়ে এই আসনে শাসকদলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৩৫,১৪৭ ভোট,যা এই কেন্দ্রকে কার্যত নিরাপদ আসন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
তবে ২০১৯ সালের পর থেকে অঙ্ক বদলাতে শুরু করে। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বামেদের টপকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালে তাপস রায়ের দলবদল সেই সমীকরণকে আরও নাড়া দেয়। উপনির্বাচনে তৃণমূলের সায়ন্তিকা ব্যানার্জী জয়ী হলেও ব্যবধান নেমে আসে মাত্র ৮,১৪৮ ভোটে। বিজেপির Sajal Ghosh-এর সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ লড়াই বরানগরকে নতুন করে ‘দোলাচলের আসন’-এ পরিণত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৬-এর নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নমূলক কাজ,রাস্তা, নিকাশি ও পানীয় জল - এই ইস্যুকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকার পরিকাঠামোয় দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং মানুষের আস্থা এখনও শাসকদলের দিকেই।

অন্যদিকে সজল ঘোষ ‘পরিবর্তন’-এর স্লোগান তুলে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কাটমানি এবং নাগরিক পরিষেবার ঘাটতির অভিযোগে আক্রমণাত্মক প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট,যে ব্যবধান গত নির্বাচনে কমেছে, সেটিকে পুরোপুরি ঘোচানো।
এই সরাসরি লড়াইয়ের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র। Communist Party of India ( সিপিএম ), এখনও বরানগরে একটি নির্দিষ্ট ভোটভিত্তি ধরে রেখেছে। যদিও জয়ের দৌড়ে তারা পিছিয়ে, কিন্তু ভোট কাটাকাটিতে তাদের প্রভাব ফলাফলের অঙ্ক বদলে দিতে পারে।

ভৌগোলিক ও সামাজিক দিক থেকেও বরানগরের চরিত্র আলাদা। হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এই সম্পূর্ণ শহুরে কেন্দ্রে মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী ভোটারদের প্রভাব বেশি। একসময় পাটশিল্প, মুদ্রণ ও ছোট শিল্পের কেন্দ্র হলেও বর্তমানে পরিষেবা খাতই প্রধান ভরসা। ফলে নাগরিক সমস্যা, নিকাশি, রাস্তা ও পানীয় জল - এই নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, অতীতের বাম দুর্গ থেকে বর্তমানের তৃণমূল–বিজেপি সরাসরি সংঘর্ষ। বরানগর এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক ময়দান। তৃণমূল সংগঠনে এগিয়ে থাকলেও বিজেপির দ্রুত উত্থান এবং বাম–কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রভাব, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর লড়াই একেবারেই খোলা। শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হবে, তা নির্ভর করবে সূক্ষ্ম ভোটের অঙ্ক এবং শেষ মুহূর্তের ময়দান লড়াইয়ের উপরই।
বামদের পুনরুত্থান, তৃণমূলের দখল রক্ষার লড়াই, বিজেপির নতুন মুখ,ভোটের অঙ্কে কোন সমীকরণ এগিয়ে?
আইপ্যাক ইস্যুতে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুললেন মোদি
SIR ইস্যুতে মমতাকে খোঁচা অমিত শাহের
দ্বিতীয় দফার পরেই বাংলায় বিজেপি সরকার , দাবি মোদির
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মাঠ পর্যায়ে নামছে সিইও
ঠাকুরনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক মোদির
তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ বিজেপির
ঘটনায় কমিশনের নির্দেশে FIR দায়ের করা হয়েছে
ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালক রয়েছে বলেও জানা যায়
এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পরিবারের লোকজন
ভোটের মুখে এই বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহকুমা প্রশাসন
তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়...
সবমিলিয়ে, ভোটের আগে এই জনপদে রাজনৈতিক সমীকরণ এখন তুঙ্গে
৫ তারিখের পর অঙ্গ - বঙ্গ -কলিঙ্গে বিজেপি হবে , বার্তা অমিত শাহের
নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অনিদিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড রাখা হয়েছে তাকে
বৃহস্পতিবার অনিন্দ্য ব্যানার্জীর সমর্থনে রোড শো করেন অমিত শাহ