নিজস্ব প্রতিনিধি , মুম্বই - যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধ হয়। কিছু যুদ্ধ হয় দেশকে জেতানোর। আবার কিছু যুদ্ধে শুধু নিজেরা জয়ী হওয়া যায়। শত কষ্ট করেও শুধু দর্শকদের মনটাই জেতা যায়। তবে অপ্রস্তুত পরিস্থিতি থেকে কখনও ইতিহাসের পাতায় নাম তোলার কথা চিন্তা করে দেখেছেন? তাও যদি হয় দেশের জয়। আসলে জীবনে এমন অনেক মুহূর্তই সময়ের আগে চলে আসে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানেই জীবনযুদ্ধে উত্তীর্ণ হওয়া। ঠিক তেমনই একটি দুঃসাহসিক জীবনযুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করেছেন জেমাইমা রদ্রিগেজ। শুধু সকলের মনে হয় , মহিলা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করেছেন। সঙ্গে দর্পচূর্ণ করেছেন অহংকারী অস্ট্রেলিয়ার।
রোহিত , বিরাটদের অসম্পূর্ণ কাজ পূর্ণ করেছেন। ঘরের মাঠে ভেঙে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অহংকার। ভারতের মাটিতে প্রায় ফিরেই এসেছিল ২০২৩ এর স্মৃতি। যেখানে গোটা স্টেডিয়াম চেয়েও শেষঅবধি গলা ফাটাতে পারেননি। কিন্তু না , বিরাট ভাইদের অপমানের যোগ্য জবাব দিয়েছেন জেমাইমা। কীভাবে স্নায়ুর চাপ সামাল দিতে হয় তা দেখিয়ে দিয়েছেন। সাতবারের বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কিভাবে নাকানিচুবানি খাওয়াতে হয় তা দেখিয়ে দিলেন বটে।
বিশ্বকাপের মঞ্চ। সামনে অস্ট্রেলিয়া। পাহাড়প্রমাণ রানই বলা যায় কারণ , এর আগে মহিলা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই লক্ষ্যমাত্রা চেজ করেননি কোনো দল , সেখানে আবার অজিবাহিনীর বিরুদ্ধে। শেফালী ভার্মার উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন ছিপছিপে চেহারার জেমাইমা। অথচ, মাঠে আসার পাঁচ মিনিট আগে জানতে পারেন ৩ নম্বরে নামতে হবে। প্রস্তুতি তো দূরের কথা , কতটা মানসিক চাপ নিয়ে খেলছিলেন সেটা তার মুখে চোখেই প্রমাণ পাচ্ছিল। প্রথমদিকে তো ব্যাট তোলার কথা মাথাতেই আনেননি , এমনকি পরেও না। স্মৃতি মন্দনার মত উইকেট হারানোর পর সেই জায়গায় দেশকে সামাল দেওয়ার দায়িত্বটা যে এত সহজে পালন করবেন সকলের ভাবনার বাইরে অবশ্যই। কারণ , এইভাবে জেমাইমাকে কেউ কল্পনাই করেননি। যদিও এইভাবেই নায়িকা তৈরি হয়।
স্মৃতি শেফালির মত তারকা খেলোয়াড়দের আউটের পর গোটা স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে সেই স্টেডিয়ামকেই গলা ফাটানোর সাহস জুগিয়েছেন জেমাইমা। অধিনায়ক হরমনপ্রীতের সঙ্গে যেভাবে সঙ্গ দিয়েছেন তা অসামান্য। ঠিকই করেছিলেন আর যাই হোক অজিদের উইকেট দেওয়া যাবে না। অথচ , স্কোরবোর্ডও চালু রাখতে হবে। এদিকে গোটা টুর্নামেন্টে সেইভাবে রান পাননি হরমন। কিছুসময় চার মেরেই অধিনায়কের দিকে এমনভাবে দেখছিলেন যেন তাকে দেওয়া কাজ পূর্ণ করেছেন। আসলে কঠিন পরিস্থিতিতে দুটি ব্যাটারের মধ্যে হওয়া কথপোকথন প্রকাশ্যে না আসা অবধি তাদের মধ্যেই থাকে। একদিকে নিজের উইকেট সামলানো , অন্যদিকে স্কোরবোর্ড চালানো সবটাই যেন অবলীলায় করে ফেললেন।
কিছু সময় মারার বল পেয়েও মারতে নেই। নিজের উইকেটের দাম দিতে হয়। কারণ , রানের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে কয়েকটি চার ছক্কা হাঁকানোর তুলনায় সিঙ্গল ডাবলসে স্কোরবোর্ড চালু রাখা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর দেখুন কি অনায়াসেই না করলেন। এমনকি অর্ধ শতরানের পরেও নিজের খেলার ধরণ বদলাননি। একটা সময় বড় শট খেলতে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন ঠিকই , তবে জীবনদান পাওয়ার পর সেই ভুল শুধরেও নিয়েছেন। এটাই শিক্ষা অর্জনের নিদর্শন। যতক্ষণ না দরকার হবে নিজের শেষ চাল দেব না। অধিনায়ক হাত খোলার পর এমন সময় আউট হলেন যেখানে হিতে বিপরীত। দায়িত্ব পরিণত হল গুরুদায়িত্বে। যদিও শুরু থেকেই যে সবটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে ম্যাচ শেষে।
এমনই টুকটুক করে খেলতে খেলতে শতরান পূরণ করলেন। মাঝে রিচার ক্যামিও ইনিংসে বেশকিছুটা ভরসা পাওয়ায় আরও মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকলেন। এমনই একসময় অভিশাপ কাটিয়ে জয়ের গন্ধ পেল গোটা দেশ। তুলনামূলক অনেকটা বেশি গমগম করে উঠল গোটা স্টেডিয়াম। একটা জেমাইমা নাজেহাল করে দিল অস্ট্রেলিয়াকে। যেই দলটা শুরু থেকে অসাধারণ ফিল্ডিং করল , সেই অস্ট্রেলিয়াই শেষে গিয়ে হাবুডুবু খেল। পিছন থেকে বন্ধ হয়ে গেল হেলির গুরুমন্ত্রনা। কারণ তখন শুধুই মাঠে জেমাইমা বন্দনা। তখনই কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠাতে শুরু করলেন জেমাইমা। শেষ চারটাও এল তারই ব্যাটে।
ব্যাস , ম্যাচ শেষেই গোটা দাগ আউট যখন মাঠের দিকে ছুটছে , তার চোখে যখন বিজয়ীকান্না। দুহাত জড়ো করে সকলকে ধন্যবাদ জানালেন। কোচেদের ধন্যবাদ জানালেন এই সুযোগের জন্য , দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা শিকার করলেন ধৈর্য্য রাখার জন্য। মা, বাবার সামনে যোগ্য মেয়ের পরিচয় দিলেন। শুধু তাই নয় , আজ গোটা দেশের নায়িকা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন , কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে অজিবধ কোনো যুদ্ধের থেকেই কম নয়। আর সবুরে মেওয়া ফলে , তা প্রমাণ করলেন জেমাইমা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার তো অবশ্যই পেলেন , সঙ্গে জিতলেন ১৪০ কোটি মানুষের ভালোবাসা , বিশ্বাস।
সঞ্জুর ব্যাটে ভর করেই সেমিতে ভারত
বেঙ্গালুরুতে শুরু হয়েছে বিশেষ শিবির
নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে
আর্সেনাল - ২
চেলসি - ১
ভারতের বিরুদ্ধে হারের পরেই এই সিদ্ধান্ত পাক বোর্ডের
ভারতকে নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী মেলেনি আমিরের
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় নেটে ব্যাটিং করছেন ধোনি
সঞ্জুর মানসিকতার প্রশংসা করেছেন গম্ভীর
ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে যাওয়ার টিকিট কেটেছে পাকিস্তান
ইডেনে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন সঞ্জু
ওয়েস্ট ইন্ডিজ - ১৯৫/৪(২০)
ভারত - ১৯৯/৫(১৯.২)
টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত
ম্যাচ শুরুর হবে সন্ধ্যে ৭ টায়
মধ্যপ্রাচ্যে দাউদাউ করে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন
ম্যানচেস্টার সিটি - ১
লিডস ইউনাইটেড - ০
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর