নিজস্ব প্রতিনিধি , বোলপুর - বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ভক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে জয়দেব মেলা এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। কবি জয়দেবের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মেলা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি, কীর্তন, বাউল ও লোকশিল্পের এক মিলনক্ষেত্র। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই মেলায় অংশ নিতে আসেন, যার মাধ্যমে বহু শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য আজও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

ইতিহাস - জয়দেব মেলার সূচনা মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দ্বাদশ শতকে জন্ম নেওয়া কবি জয়দেব সংস্কৃত সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা, যিনি ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের মাধ্যমে ভক্তি আন্দোলনে নতুন দিশা দেখিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার কেন্দুলিতে তাঁর জন্মস্থান বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। জয়দেব ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতীর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে স্থানীয় ভক্ত ও বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এই মেলার সূচনা হয়। প্রথম দিকে এটি ছিল ছোট আকারের ধর্মীয় সমাবেশ, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বৃহৎ লোকমেলায় রূপ নেয়।

মেলা সম্পর্কে তথ্য - জয়দেব মেলা সাধারণত প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির সময়, জানুয়ারি মাসে আয়োজন করা হয়। কয়েক দিনব্যাপী এই মেলা কেন্দুলি গ্রামে অজয় নদীর তীরে বসে। মেলায় বিভিন্ন বৈষ্ণব আখড়া, বাউল, কীর্তনীয়া ও সাধুদের সমাগম ঘটে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, নামসংকীর্তন, আলোচনা সভা এবং লোকসংগীতের আসর মেলার প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি গ্রামীণ হস্তশিল্প, খেলনা, মিষ্টান্ন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অসংখ্য দোকান বসে, যা মেলাকে সাধারণ মানুষের কাছেও আনন্দের উৎস করে তোলে।

এই মেলার বিশেষত্ব কি - জয়দেব মেলার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতা। এখানে ধর্ম, সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি একসূত্রে মিলিত হয়। বাউল ও বৈষ্ণব সাধকদের গান ও ভাবধারার মাধ্যমে মানবপ্রেম ও ভক্তির দর্শন প্রচারিত হয়। গীতগোবিন্দের পদাবলি ও কীর্তনের মাধ্যমে জয়দেবের সাহিত্য আজও মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এছাড়া এই মেলা বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিল্পী এখানে তাদের পণ্য ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনের সুযোগ পান।
জয়দেব মেলা কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক স্মৃতির ধারক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মেলা মানুষের মধ্যে ভক্তি, সৌহার্দ্য ও লোকঐতিহ্যের চর্চা বজায় রেখে চলেছে। আধুনিকতার ভিড়ে দাঁড়িয়েও জয়দেব মেলা প্রমাণ করে যে ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিকড় গভীরে থাকলে তা কখনোই ম্লান হয় না। এই মেলা বাংলার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক জীবন্ত সেতুবন্ধন।
ফুচকা, ঘুগনি, ফ্রাইড রাইস, পিঠেপুলি থেকে শুরু করে নানা স্বাস্থ্যসম্মত ভেষজ উপায়ে তৈরি পদ ছিল স্টলগুলির মূল আকর্ষণ
পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী লোহরির তাৎপর্য তুলে ধরলেন হারনাজ সান্ধু
প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল লাল্টু চিত্রকর , কণ্ঠে সুর সঙ্গে তুলির টান, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো