নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী মানেই ভক্তির রঙ, আনন্দ, দইহান্ডি, বাঁশির সুর আর রাধাকৃষ্ণের প্রেমগাথা। কিন্তু এর বাইরে কৃষ্ণের এমন এক রহস্যময় রূপ আছে, যা সাধারণ মানুষ খুব কমই জানেন। সেই রূপ হলো গীতার কৃষ্ণ,যিনি দৃশ্যমান নন, কিন্তু অন্তরচক্ষুতে ধ্বনিত হন। মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধক্ষেত্রে এই অদ্ভুত সত্য প্রকাশিত হয়েছিল।
কুরুক্ষেত্রের অদ্ভুত মুহূর্ত
যুদ্ধ শুরুর আগে অর্জুন যখন তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলতে দ্বিধা বোধ করছিলেন, তখন কৃষ্ণ রথে দাঁড়িয়ে তাঁকে উপদেশ দেন।
"ক্লৈব্যমা স্ম গমঃ পার্থ" (“হে পার্থ, এই দুর্বলতা তোমার জন্য নয়।” – গীতা ২.৩)
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই উপদেশ কেবলমাত্র অর্জুনই শুনতে পেয়েছিলেন। সমগ্র যুদ্ধক্ষেত্র!ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ বা অন্যান্য সৈন্যরা,কেউ কৃষ্ণের সেই বিশ্বরূপ দেখেননি, গীতার মহাবাণীও তাদের কানে পৌঁছায়নি। গবেষকরা বলেন, গীতা ছিল অর্জুনের অন্তরাত্মার অভিজ্ঞতা,এক ব্যক্তিগত উপলব্ধি, যা মহর্ষি ব্যাসদেব পরে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন।
শব্দরূপ কৃষ্ণ, ঈশ্বরের এক নতুন সংজ্ঞা
গীতা হল একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে ঈশ্বরকে চোখে দেখা যায় না, কেবল শোনা যায়।
গীতার বাণী আসলে অক্ষর-ব্রহ্ম,শব্দরূপে প্রকাশিত ঈশ্বর।
কৃষ্ণ তাঁর দৃশ্যমান রূপ ছাড়িয়ে এক কণ্ঠস্বর ও চেতনাশক্তি হয়ে উঠেছিলেন।
৭০০ শ্লোকের এই সংলাপ কেবল একটি যুদ্ধনীতির পাঠ নয়, বরং মানবজীবনের প্রতিটি সংকটের সমাধান হিসেবে বেঁচে আছে।
দার্শনিক বিশ্লেষণ
১. অদৃশ্য ঈশ্বরের উপস্থিতি – উপনিষদ যেমন বলে “শ্রুত্রে শ্রোত্রম্” (“কর্ণের কর্ণ”), কৃষ্ণও সেই দিব্যস্বর হয়ে উঠেছিলেন। দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়।
২. অর্জুন একমাত্র মাধ্যম – কৃষ্ণের বাণী ছিল একান্তই অর্জুনের জন্য, কারণ তিনি ছিলেন প্রতিনিধি মানুষ, দ্বন্দ্বে ভোগা মানবমনের প্রতীক।
৩. মানবজাতির বার্তা - প্রতিটি মানুষের ভেতরেই এক ‘অর্জুন’ আছে, আর সংকটের মুহূর্তে কৃষ্ণ সেই অন্তরাত্মার কণ্ঠ হয়ে কথা বলেন।
শাস্ত্রীয় রেফারেন্স ও আধুনিক ব্যাখ্যা
শংকরাচার্যের ভাষ্যে গীতা হলো মুক্তির পথ, যেখানে কৃষ্ণ আসলে “আত্মার অন্তর্নিহিত কণ্ঠস্বর।”
বালগঙ্গাধর তিলক গীতাকে স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেছিলেন, যেখানে কৃষ্ণের বাণী মানুষের কর্মে উদ্দীপনা দেয়।
ড. এস. রাধাকৃষ্ণণ বলেছেন: “গীতা কোনো ধর্মের গ্রন্থ নয়, এটি মানবজাতির আধ্যাত্মিক সংবিধান।”
আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, গীতার সেই অদৃশ্য কণ্ঠস্বর আসলে অন্তরচেতনার জাগরণ, যা মানুষের মনোবল পুনর্নিমাণ করে।
জন্মাষ্টমীর নতুন উপলব্ধি
আজ জন্মাষ্টমী শুধু কৃষ্ণের জন্মোৎসব নয়। এটি সেই কৃষ্ণকে স্মরণ করার দিন, যিনি রাধার সখা, মাখনচোর, বাঁশিবাদক ছাড়াও এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছিলেন,ঈশ্বর রূপে নয়, বাণী ও অনুভবে বেঁচে থাকেন।
এই অদৃশ্য কৃষ্ণই আসল “গীতা কৃষ্ণ”,
যাঁকে দেখা যায় না,
যিনি হৃদয়ে উপলব্ধ হন,
আর যিনি যুগ যুগ ধরে মানবজাতির বিবেক জাগিয়ে দেন।
জন্মাষ্টমী শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়, বরং সেই রহস্যময় অভিজ্ঞতার স্মৃতি,যখন তিনি অর্জুনের কানে সত্যের বাণী ফিসফিস করেছিলেন। তাই গীতা কোনো ধর্মের সীমারেখায় বাঁধা নয়; এটি মানবমনের সংকটে আলো জ্বালানো এক অনন্ত প্রদীপ।
কৃষ্ণের বাঁশি ভক্তদের আনন্দ দেয়, কিন্তু তাঁর অদৃশ্য কণ্ঠস্বর!গীতা,মানুষকে জীবনের কঠিনতম যুদ্ধেও সঠিক পথ দেখায়।
গণপতি বাপ্পার আরাধনায় ভক্তিমুখর দেশ
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে মূল আকর্ষণ ১১ কিলোর মিষ্টি
ভাদ্রপদ মাসের শনিবারে বিরল শনি অমাবস্যা কালো রঙের দান পূর্বপুরুষের তর্পণ আর মন্ত্রজপেই মিলবে মুক্তির আলো
পুরাণ, জ্যোতিষ আর লোকবিশ্বাসে আজকের রাত ভক্ত ও তান্ত্রিকদের কাছে এক ভয়ঙ্কর মহারাত্রি আজকের রাত শ্মশানের নীরবতার চেয়েও ভীতিকর
আরও কড়াকড়ি হবে গ্রিন কার্ড
মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসি অবস্থা পাঞ্জাবে
ফের পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা ‘মানবিক’ ভারতের
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার দাবি ট্রাম্পের
গাজার হাসপাতালে হামলায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী