নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে গঙ্গা সাগর মেলার স্থান অনন্য। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্তে, গঙ্গা নদী যেখানে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে—সেই সাগরদ্বীপে প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির সময় বসে এই মহামেলা। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ন্যাসী ও পর্যটকের সমাগমে গঙ্গা সাগর মেলা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের এক বিশাল উৎসব।

হিন্দু ধর্মমতে, মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে গঙ্গা সাগরে স্নান করলে সমস্ত পাপ মোচন হয় এবং মোক্ষলাভের পথ সুগম হয়। পুরাণে বলা হয়েছে, সূর্য যখন মকর রাশিতে প্রবেশ করে, তখন গঙ্গা ও সাগরের মিলনস্থলে স্নানের মাহাত্ম্য বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। এই পবিত্র স্নানের পর কপিল মুনির আশ্রমে পূজা ও দান করার রীতি প্রচলিত। তাই গঙ্গা সাগরকে বলা হয় ‘তীর্থরাজ’।
ইতিহাস - গঙ্গা সাগর মেলার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। পুরাণ অনুসারে, রাজা সগরের ষাট হাজার পুত্র কপিল মুনির অভিশাপে ভস্মীভূত হয়েছিলেন। তাঁদের মুক্তির জন্য রাজা ভগীরথ কঠোর তপস্যার মাধ্যমে গঙ্গাকে মর্ত্যে আনেন। গঙ্গার জলে তাঁদের ভস্ম স্নাত হয়ে তাঁরা মুক্তি পান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গঙ্গা সাগরের তীর্থমাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় সহস্রাধিক বছর আগে থেকেই এখানে নিয়মিত তীর্থযাত্রা ও মেলার আয়োজন শুরু হয়েছিল। মূলত পুণ্যস্নান, দান ও সাধুসঙ্গের জন্যই এই মেলার সূচনা।

গঙ্গা সাগর মেলা ধর্মীয় আচার ছাড়াও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেশের নানা প্রান্তের মানুষ একত্রিত হন, বিনিময় হয় লোকসংস্কৃতি, গান, বাউল-ফকিরের সাধনা, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ জীবনের নানা রূপ। এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনের প্রতীক।
বর্তমান অবস্থা - বর্তমানে গঙ্গা সাগর মেলা রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তত্ত্বাবধানে বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মেলা বসে, মূল পুণ্যস্নান হয় মকর সংক্রান্তির দিনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, অস্থায়ী বাসস্থান ও পরিবহণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
কিভাবে যাবেন - গঙ্গা সাগর যেতে হলে প্রথমে কলকাতায় পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে ট্রেন বা বাসে কাকদ্বীপ, নামখানা বা হারউড পয়েন্ট পর্যন্ত যাওয়া যায়। এরপর ফেরিতে মুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে সাগরদ্বীপ। মেলার সময় অতিরিক্ত বাস, লঞ্চ ও ফেরি পরিষেবা চালু থাকে। পুণ্যার্থীদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প, বিনামূল্যের চিকিৎসা শিবির, শৌচাগার ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

গঙ্গা সাগর মেলা কেবল একটি তীর্থস্থান নয়, এটি ভারতীয় আত্মার প্রতিফলন। হাজারো কষ্ট ও পথ অতিক্রম করেও মানুষ এখানে আসেন বিশ্বাসের টানে। তাই তো প্রবাদে বলা হয়—“সব তীর্থ বার বার, গঙ্গা সাগর একবার।” এই একবারের যাত্রাই জীবনের বিশ্বাস, আস্থা ও সংস্কৃতিকে নতুন করে অনুভব করায়।
একসময় উত্তরবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ত্যারেয়া ফেলার মাধ্যমে শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানানোর রেওয়াজ ছিল
এই বিশ্বাসের পেছনে জ্যোতিষশাস্ত্র ও আগমশাস্ত্রের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে, যা বহু মানুষ আজও মানেন
হিন্দু পুরাণে যক্ষদের অধিপতি হিসেবে পরিচিত কুবের যিনি ধনসম্পদের দেবতা এবং উত্তর দিকের দিকপাল
কাশে বাতাসে প্রতিধ্বনি হল সেই চিরন্তন সত্য নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান , বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান
উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয় মহলে
ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে অস্থায়ী কেনাকাটার আয়োজন
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর