নিজস্ব প্রতিনিধি , মালদহ - পশ্চিমবঙ্গের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত মালদহ জেলা ইতিহাসপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য গন্তব্য। প্রাচীন রাজধানী গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ, বিস্তীর্ণ আমবাগান, নদীর পাড়ের শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে মালদহ যেন সময়ের স্রোতে ভেসে থাকা এক জীবন্ত ইতিহাস। অতীতের গল্প খুঁজতে যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই ভ্রমণ বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

গৌড় ছিল মধ্যযুগে বাংলার অন্যতম শক্তিশালী রাজধানী। পাল, সেন এবং পরে সুলতানি ও মুঘল শাসকদের অধীনে এই নগরী সমৃদ্ধি ও সংস্কৃতির শিখরে পৌঁছেছিল। চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত গৌড় ছিল প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। পরবর্তীকালে গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন, মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নগরটি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। আজও সেই ইতিহাসের ছাপ ছড়িয়ে আছে ইট-সুরকির ধ্বংসস্তূপ, মসজিদ ও প্রাচীরের ধারে ধারে।

কি কি দেখব
বারো দুয়ারি - গৌড় দুর্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বারো দুয়ারি। লাল ইটের তৈরি এই স্থাপত্যটি সুলতানি আমলের সামরিক নির্মাণশৈলীর সাক্ষ্য বহন করে। এখান থেকে দুর্গের বিস্তৃত এলাকা চোখে পড়ে।
ফিরোজ মিনার - প্রায় ২৬ মিটার উঁচু এই মিনারটি সুলতান ফিরোজ শাহের সময় নির্মিত। উপরে উঠলে চারপাশের সবুজ প্রান্তর ও ধ্বংসাবশেষ এক নজরে দেখা যায়। এটি গৌড়ের অন্যতম প্রতীক।
কদম রসুল মসজিদ - এই মসজিদটি ইসলামি স্থাপত্যের সুন্দর উদাহরণ। কথিত আছে, এখানে নবী মুহাম্মদের পদচিহ্ন সংরক্ষিত ছিল। শান্ত পরিবেশে বসে ইতিহাস অনুভব করার জন্য এটি আদর্শ স্থান।
চিকা মসজিদ - লম্বা প্রাচীর ও গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি স্থাপত্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। ভেতরের ইটের নকশা ও নীরব পরিবেশ অতীতের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
রামকেলি - এটি হিন্দু ও মুসলিম ঐতিহ্যের মিলনস্থল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে সম্পর্কিত এই জায়গায় মন্দির ও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ একসঙ্গে দেখা যায়। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক।
মালদহ জাদুঘর - ভ্রমণের শেষে ইতিহাসকে গুছিয়ে বোঝার জন্য এই জাদুঘরটি ভালো জায়গা। এখানে গৌড় ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পাওয়া মূর্তি, মুদ্রা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রদর্শিত হয়।
যাতায়াত - কলকাতা থেকে মালদহ যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় ট্রেন। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে একাধিক এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেন প্রতিদিন ছাড়ে, সময় লাগে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। বাসেও যাওয়া যায়, তবে সময় তুলনামূলক বেশি লাগে। মালদহ টাউন বা ওল্ড মালদহ স্টেশন থেকে গৌড় যেতে অটো বা ট্যাক্সি সহজেই পাওয়া যায়।
থাকা-খাওয়ার আনুমানিক খরচ - মালদহ শহরে বাজেট থেকে মাঝারি মানের হোটেল ও লজ পাওয়া যায়। এক রাত থাকার খরচ প্রায় ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। খাবারের জন্য স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বাঙালি ও উত্তর ভারতের সাধারণ খাবার মিলবে, দিনে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হতে পারে। মোটামুটি দুই দিনের ভ্রমণে একজনের জন্য ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে খরচ ধরা যায়, যাতায়াত বাদে।

মালদহ ও গৌড় ভ্রমণ মানে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, ইতিহাসের পাতায় হাঁটা। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকা গল্প, নদীর হাওয়া আর গ্রামের সরল জীবন মিলিয়ে এই সফর এক আলাদা অনুভূতি দেয়। যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত, অর্থবহ ভ্রমণ খুঁজছেন, তাদের জন্য গৌড় নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
ভোটের আগে বড় বার্তা তৃণমূলের
ভোটের ময়দানে ঝালমুড়ি নিয়ে রাজনীতি তুঙ্গে
খড়দহের সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা
প্রচারের ময়দান থেকে মমতাকে নিশানা যোগী আদিত্যনাথের
ঘটনায় আহত একাধিক কর্মী
ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তৃণমূলের
আইএসএফের বিরূদ্ধে অভিযোগ তৃণমূলের
ভোটের মঞ্চে ভিন্ন সুর অভিষেকের
মাছ কাটায় নজর কাড়লেন রুদ্রনীল ঘোষ
নিজের সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিও পোস্ট করেন নরেন্দ্র মোদি
আইপ্যাক বন্ধ হওয়া নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিলেন মমতা
ভোটের আগে নন্দীগ্রামে মাস্টারস্ট্রোক অভিষেকের
ফের একবার মমতার মুখে দিল্লি দখলের ডাক
বড়জোড়া থেকে তৃণমূলকে নিশানা মোদির
তৃণমূলের জঙ্গলরাজ শেষ করার হুঁশিয়ারি মোদির
এই প্রথম রাজ্যসভার কোনো মনোনীত সংসদ ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হল...
গবেষণা বিষয়ক তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়ে সংশয় থাকছে
রুশ তেল কেনার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে ভারতের
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সমস্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন ওই যুবক
প্রায় তিন দশক পর মুখোমুখি হয়েছে ইজরায়েল ও লেবানন