নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা - কালো রাত। আকাশে নেই চাঁদের আলো। এই আঁধারেই নেমে আসছে শনির মহাপ্রভাব। ২৩শে আগস্ট, ভাদ্রপদ মাসের অমাবস্যা শনিবারে পড়ায় তৈরি হচ্ছে ভয়ঙ্কর “শনি অমাবস্যা যোগ।” ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, এই রাতেই শনিদেব তাঁর কঠিন দৃষ্টি নিয়ে মানুষের কর্মফলের হিসাব মেলান। কারও জীবনে আসবে ঋণমুক্তির সুযোগ, আবার কারও ঘরে নেমে আসতে পারে অশান্তির ঝড়।
পুরাণ ও কাহিনি
পুরাণ বলছে, শনিদেব সূর্য ও ছায়ার পুত্র। জন্ম থেকেই তাঁর দৃষ্টি এতটাই তীব্র ছিল যে, সূর্যের কান্তিও ম্লান হয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁকে বলা হয় “কর্মফলদাতা।”
মহাভারতের কর্ণ কিংবা রামায়ণের রাবণ,কেউই শনির দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাননি। তবে অন্যায়কারীরা শনির প্রভাবে ভোগান্তিতে পড়লেও, ন্যায়নিষ্ঠরা শেষমেশ তাঁর আশীর্বাদ পান।
কোথায় কীভাবে পালিত হয় শনি অমাবস্যা
মহারাষ্ট্রের শনি শিঙ্গনাপুর: শনির সবচেয়ে বিখ্যাত পীঠ। বিশ্বাস, এখানে শনির কৃপায় চুরি হয় না। অমাবস্যার রাতে লাখো ভক্ত তেলের প্রদীপ জ্বালান।
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী : মহাকালেশ্বরের শহরে শনি মন্দিরে তেল নিবেদন ও জপে ভিড় জমে।
কাশী : তর্পণ আর কালো দানের বিশেষ রীতি প্রচলিত।
বাংলা ও ওড়িশা : গ্রামবাংলায় কাক, কুকুর ও গরুকে খাবার খাওয়ানো, সঙ্গে শনি মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো রেওয়াজ।
কলকাতা : কালীঘাট ও ভৈরব মন্দিরে শনি ভৈরব রূপে পূজিত হন। শহরে কালো কাপড়, তিল আর তেলের দানের আয়োজন হবে।
পালন প্রক্রিয়া
পূর্বপুরুষের তর্পণ - অমাবস্যায় শ্রাদ্ধ ও জলদান অপরিহার্য।
দান - কালো তিল, সরিষার তেল, লোহার জিনিস, কালো কাপড়, জুতো ও খাদ্য গরিবদের দেওয়া হয়।
শনি মন্ত্র জপ - ভক্তরা ২৩ বা ১০৮ বার জপ করেন “ওঁ শাম শনৈশ্চরায় নমঃ।”
প্রাণীসেবা - কুকুর, কাক ও গরুকে খাবার খাওয়ানো শুভ।
তেল প্রদীপ - শনির সামনে সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালানো আবশ্যক বলে ধরা হয়।
অতীতের আখ্যান
ইতিহাস বলছে, মধ্যযুগে বহু রাজা শনি অমাবস্যার দিনে বন্দীদের মুক্তি দিতেন। বাংলার কৃষকসমাজে বিশ্বাস ছিল, এদিন গরিবদের দান করলে ফসলের ফলন ভালো হয়।
বিশেষজ্ঞের মত
কলকাতার জ্যোতিষাচার্য অমিয়েন্দু চট্টোপাধ্যায় জানালেন -" শনি অমাবস্যা ভয়ের নয়, বরং আত্মশুদ্ধির দিন। অন্যায়কারীরা শাস্তি পেলেও, সৎকর্মীরা আশীর্বাদ পান। আর দান,শুধু পুণ্য নয়, সামাজিক সমতার প্রতীকও।”
চাঁদহীন আঁধারের মধ্যে ২৩শে আগস্টের শনি অমাবস্যা নিছক জ্যোতিষীয় তিথি নয়,এ যেন সামাজিক উৎসব। দান, তর্পণ, প্রাণীসেবা আর শনি মন্ত্র জপই শনিদেবকে তুষ্ট করার প্রকৃত উপায়।
ভক্তদের বিশ্বাস, অমাবস্যার আঁধার যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন, শেষমেশ ন্যায় আর দয়ার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে মানুষের জীবন।
একসময় উত্তরবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ত্যারেয়া ফেলার মাধ্যমে শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানানোর রেওয়াজ ছিল
এই বিশ্বাসের পেছনে জ্যোতিষশাস্ত্র ও আগমশাস্ত্রের কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে, যা বহু মানুষ আজও মানেন
হিন্দু পুরাণে যক্ষদের অধিপতি হিসেবে পরিচিত কুবের যিনি ধনসম্পদের দেবতা এবং উত্তর দিকের দিকপাল
কাশে বাতাসে প্রতিধ্বনি হল সেই চিরন্তন সত্য নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান , বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান
উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয় মহলে
ধর্মীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে অস্থায়ী কেনাকাটার আয়োজন
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর