6911ad35e50d9_FARRAKA
নভেম্বর ১০, ২০২৫ দুপুর ০৪:০১ IST

ভারতের দীর্ঘতম ব্যারেজ , ফারাক্কা ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বাংলার মাটিতে নদী যেন জীবনের স্রোতধারা।  গঙ্গা, ভাগীরথী , অজয় —এই নদীগুলো আমাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই নদীগুলোর মধ্যে গঙ্গার ওপর তৈরি হয়েছে এক বিশাল বাঁধ—ফারাক্কা ব্যারেজ। ফারাক্কা নামটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল জলের ধারা, গঙ্গার স্রোত, আর প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর প্রকৌশলের এক অসাধারণ মিলনক্ষেত্র এই ফারাক্কা ভ্রমণ সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকে।


ফারাক্কা ব্যারেজ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত। এটি গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি বিশাল বাঁধ, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২.২৪ কিলোমিটার। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এই প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, এবং ১৯৭৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে প্রবাহিত করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখা। ইতিহাস, প্রকৌশল ও প্রকৃতির এই ত্রিমিলন ফারাক্কাকে করেছে এক বিশেষ পর্যটন কেন্দ্র।

কিভাবে যাব - কলকাতা থেকে ফারাক্কা যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ট্রেনে। হাওড়া বা সিয়ালদহ স্টেশন থেকে ফারাক্কা এক্সপ্রেস, তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন পাওয়া যায়, যেগুলো সরাসরি ফারাক্কা স্টেশনে থামে। এছাড়া বাসেও যাত্রা করা যায়, তবে ট্রেনের যাত্রা বেশি আরামদায়ক। ফারাক্কা স্টেশন থেকে ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছাতে অটো বা স্থানীয় টোটো ভাড়া নেওয়া যায়। যাত্রাপথে গঙ্গার দুই তীরের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

ফারাক্কা ব্যারেজ - এটি মূল আকর্ষণ। বিশাল এই বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে গঙ্গার প্রমত্ত ধারা দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ব্যারেজের এক পাশে নীল আকাশ আর অপর পাশে নদীর অসীম বিস্তার—দৃষ্টিসুখে ভরিয়ে দেয় মন।

গঙ্গা নদীর ধারে সূর্যাস্ত - সন্ধ্যার সময় গঙ্গার তীরে সূর্যাস্তের দৃশ্য অপূর্ব। রক্তিম সূর্যের আলো নদীর জলে প্রতিফলিত হয়ে এক অনন্য দৃশ্য রচনা করে। এখানে বসে নিরবতা উপভোগ করাটাই এক প্রকার ধ্যানের মতো।

ফারাক্কা ব্যারেজ কলোনি ও গার্ডেন - ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের জন্য তৈরি কলোনি এলাকায় সুন্দরভাবে সাজানো উদ্যান, ফুলের বাগান ও ছায়াঘেরা পথ রয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য উপযুক্ত জায়গা।

ফারাক্কা ব্যারেজ মিউজিয়াম - এখানে ব্যারেজ নির্মাণের ইতিহাস, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ও নদী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নানা তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। ইতিহাস ও বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান।

ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও স্থানীয় বাজার - ফারাক্কা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা দর্শকদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় বাজারে গঙ্গার তাজা মাছ ও স্থানীয় হস্তশিল্প পাওয়া যায়, যা ভ্রমণের শেষে কিনে নেওয়া যায় স্মারক হিসেবে।

খরচ - ফারাক্কা ভ্রমণের খরচ খুব বেশি নয়। কলকাতা থেকে ট্রেনে যাতায়াতের ভাড়া প্রায় ৫০০–৭০০ টাকা (দুই দিক মিলিয়ে)। স্থানীয় অটো বা টোটো ভাড়া প্রায় ১০০–২০০ টাকা। খাবার ও অন্যান্য খরচ ধরলে একজনের পুরো দিনের জন্য প্রায় ১২০০–১৫০০ টাকায় ফারাক্কা ঘোরা সম্ভব। যদি কেউ এক রাত থাকতে চান, তবে স্থানীয় লজে ৮০০–১০০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা করা যায়।

ফারাক্কা ভ্রমণ শুধুমাত্র একটি ঘোরার অভিজ্ঞতা নয়, এটি ইতিহাস, প্রকৃতি ও প্রকৌশলের মিলিত এক শিক্ষা। গঙ্গার অপরূপ রূপ, বিশাল বাঁধের স্থাপত্য, আর মানুষের সৃজনশীলতার এক বিস্ময়কর উদাহরণ এখানে একসাথে মেলে। একদিনের ছোট ভ্রমণের জন্য ফারাক্কা নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার গন্তব্য, যা মনকে শান্তি দেয়।

TV 19 Network NEWS FEED