লাদাখ জেলার নুব্রা তহসিলে অবস্থিত তুর্তুক ভারতের একেবারে শেষ সীমান্ত গ্রাম, যার পরেই শুরু হয় পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তান। শ্যোক নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রাম লেহ শহর থেকে প্রায় ২০৫ কিমি দূরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জটিল ইতিহাস ও কৌশলগত গুরুত্ব,সব মিলিয়ে তুর্তুক ভারতের ভূরাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
ইতিহাসের পথচলা:
১৯৪৭ সালের ইন্দো-পাক যুদ্ধ শেষে তুর্তুক পাকিস্তানের দখলে যায়। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের লাদাখ স্কাউটস ও নুব্রা গার্ডস বাহিনী, মেজর চেওয়াং রিঞ্চেনের নেতৃত্বে, এই এলাকা পুনর্দখল করে। এই অসামান্য বীরত্বের জন্য মেজর রিঞ্চেন মহাবীর চক্রে ভূষিত হন।
১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও এই এলাকা ছিল সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। প্রধান সড়কে আজও রয়েছে শহিদ সৈনিকদের স্মৃতিস্তম্ভ, যা ইতিহাসের সাক্ষী।
সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন:
তুর্তুক মূলত মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম, যেখানে বালতি, লাদakhi ও উর্দু ভাষা প্রচলিত। এখানকার মানুষরা অতীতে পাকিস্তান ও ভারতের শাসন,দুইয়েরই অভিজ্ঞতা পেয়েছে। অনেকের পরিবার আজও এলওসি-র ওপারে বাস করে। একসময় পাকিস্তানের আইএসআই এই এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন সদ্ভাবনা উদ্যোগের ফলে সেনা ও গ্রামবাসীর সম্পর্ক মজবুত হয়েছে।
অবস্থান ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থান:
অবস্থান: লাদাখ জেলার নুব্রা তহসিল, শ্যোক নদীর তীরে
দূরত্ব: লেহ শহর থেকে প্রায় ২০৫ কিমি
আশেপাশে দর্শনীয় স্থান: থ্যাং (ভারতের শেষ গ্রাম), চুলুঙ্কা, ট্যাকশি, নুব্রা উপত্যকা, শ্যোক নদীর পাড়, সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের প্রবেশপথ
কীভাবে পৌঁছাবেন তুর্তুকে:
1. প্রথম ধাপ – লেহ পৌঁছানো
বিমানপথে: দিল্লি, শ্রীনগর বা চণ্ডীগড় থেকে সরাসরি ফ্লাইটে লেহ বিমানবন্দর।
সড়কপথে: শ্রীনগর-লেহ হাইওয়ে বা মানালি-লেহ হাইওয়ে ধরে লেহ শহরে পৌঁছানো যায় (শীতকালে রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে)।
2. দ্বিতীয় ধাপ – লেহ থেকে তুর্তুক যাত্রা
লেহ থেকে গাড়ি ভাড়া করে বা স্থানীয় ট্যাক্সিতে নুব্রা ভ্যালি হয়ে তুর্তুক যেতে হয়।
পথে পড়ে খারদুং লা পাস , বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম মোটরযোগ্য রাস্তা।
লেহ থেকে তুর্তুক যেতে সময় লাগে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা, দূরত্ব প্রায় ২০৫ কিমি।
3. ট্রাভেল পারমিট:
তুর্তুক সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বিদেশি পর্যটকদের ‘প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিট’ (PAP) ও ভারতীয় নাগরিকদের ‘ইনার লাইন পারমিট’ (ILP) নিতে হয়, যা লেহ থেকে সহজেই পাওয়া যায়।
তুর্তুক শুধু একটি সীমান্ত গ্রাম নয়, এটি ভারতের ইতিহাস, সেনাবাহিনীর বীরত্ব, এবং সীমান্তবাসীর সহনশীলতার প্রতীক। এখানে প্রকৃতি যেমন অপার সৌন্দর্যে ভরপুর, তেমনই রয়েছে অতীতের তীব্র যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন। তুর্তুক ভ্রমণ মানে, একসাথে ইতিহাস, ভূরাজনীতি, ও সীমান্ত জীবনের গল্পকে কাছ থেকে দেখা।
আরও কড়াকড়ি হবে গ্রিন কার্ড
মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসি অবস্থা পাঞ্জাবে
ফের পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা ‘মানবিক’ ভারতের
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার দাবি ট্রাম্পের
গাজার হাসপাতালে হামলায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী