নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - জল সংরক্ষণের জন্য আজকাল কাঁচ , স্টিল বা প্লাস্টিকের বোতল বেশি ব্যবহৃত হলেও বহু প্রাচীনকাল থেকেই তামার পাত্র ভারতীয় জীবনের অংশ। আয়ুর্বেদে তামার পাত্রকে শুধু পাত্র নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যচর্চার মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী তামার পাত্রে রাখা জল কি সত্যিই উপকারী? চলুন সংক্ষেপে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
তামার পাত্রে জলের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তামা একটি প্রয়োজনীয় ট্রেস মিনারেল, যা মানবদেহে স্বল্প পরিমাণে থাকলেই নানা শারীরবৃত্তীয় কাজ স্বাভাবিক থাকে। তামার পাত্রে জল কয়েক ঘণ্টা রাখলে জলে অতি সামান্য কপার আয়ন মেশে। এর ফলে জলের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি কমে আসে। এই প্রক্রিয়াকে অলিগোডাইনামিক ইফেক্ট বলা হয়। ফলে সাধারণ পাত্রের তুলনায় তামার পাত্রে রাখা জল তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
স্বাস্থ্যগত দিক থেকে তামার জল কিছু উপকার এনে দিতে পারে। প্রথমত, কপার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। গবেষণা অনুযায়ী কপার ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি কমাতে পারে। তাই গরমের সময় বা দীর্ঘক্ষণ জল রেখে দেওয়ার ক্ষেত্রে তামার পাত্র একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আয়ুর্বেদের মতে তামার জল হজমশক্তি উন্নত করে। বদহজম, গ্যাস বা অ্যাসিডিটির মতো দৈনন্দিন সমস্যায় এটি স্বস্তি দিতে পারে। তৃতীয়ত, কপার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ কপার কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। এছাড়া রক্তসঞ্চালন ও স্নায়ুর স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপেও কপার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সতর্কতা জরুরি। তামার জল যতটা উপকারী, অতিরিক্ত কপার শরীরে গেলে ততটাই বিপজ্জনক। কপার টক্সিসিটির কারণে বমি, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা, পেটব্যথা বা লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। তাই তামার জল প্রতিদিন অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিতভাবে পান করা প্রয়োজন।
নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অবশ্যই মনে রাখবেন—
• দিনে এক থেকে দুই গ্লাসের বেশি তামার জল পান করবেন না।
• জল কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা রেখে তারপর পান করুন।
• তামার পাত্র অবশ্যই প্রলেপবিহীন হওয়া উচিত।
• লেবু বা কোনও অ্যাসিডিক দ্রব্য দিয়ে পাত্রটি ঘন ঘন পরিষ্কার করবেন না।
• যাদের লিভারের সমস্যা বা কপার অ্যালার্জি আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই অভ্যাস শুরু করবেন না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তামার পাত্রে রাখা জল আমাদের ঐতিহ্যের অংশ এবং কিছু পরিমাণে বৈজ্ঞানিকভাবে উপকারীও বটে। তবে এটিকে কোনও অসাধারণ ওষুধ হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। নিয়ম মেনে এবং পরিমিত মাত্রায় পান করলে তামার জল দৈনন্দিন জীবনে একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে যুক্ত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাসে খেজুরের পাশাপাশি জালাবিয়া এখনও ইফতারের অন্যতম অঙ্গ
অকাল বৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্য
দুই দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসা যায় বড়ন্তি থেকে
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস