69008543857fd_WhatsApp Image 2025-10-28 at 2.25.07 PM
অক্টোবর ২৮, ২০২৫ দুপুর ০২:২৮ IST

সপ্তাহ শেষে চলুন চৈতন্যে মহাপ্রভুর দেশে

নিজস্ব প্রতিনিধি , নদীয়া - নবদ্বীপ , নামেই যেন এক আধ্যাত্মিক শান্তির ছোঁয়া। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় অবস্থিত এই ছোট শহরটি গঙ্গার তীরে এক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তীর্থস্থান। বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম প্রবর্তক মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবের জন্মভূমি নবদ্বীপ হিন্দু ভক্তদের কাছে এক পবিত্র স্থান। কিন্তু শুধু ধর্ম নয়, প্রাচীন ইতিহাস, নদীপাড়ের সৌন্দর্য আর গ্রামীণ বাংলার সরলতা—সব মিলে নবদ্বীপ এক মনোমুগ্ধকর ভ্রমণস্থল।

নবদ্বীপ ছিল মধ্যযুগে বাংলার শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। গৌড়রাজ লক্ষ্মণ সেনের আমলে এটি ছিল ‘নবদ্বীপ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর জন্য বিখ্যাত,ও। যেখানে ন্যায়শাস্ত্র, ব্যাকরণ ও দর্শনশাস্ত্র শেখানো হত।ঐতিহাসিকরা বলেন লক্ষণ সেনের রাজধানী লখনৌবতী এখানেই অবস্থিত ছিল। পরবর্তীতে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মের পর এই স্থান বৈষ্ণব ধর্মের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। নবদ্বীপের প্রতিটি গলি যেন তারই স্মৃতি বহন করে।

কিভাবে যাব - 
কলকাতা থেকে নবদ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন পর্যন্ত লোকাল বা এক্সপ্রেস ট্রেন পাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। বাসেও যেতে পারেন—এসপ্ল্যানেড বা বারাসত থেকে সরাসরি বাস চলে। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে নদিয়ার মনোরম পথ ধরে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়।

কি কি দেখব - 
নবদ্বীপে গেলে অবশ্যই দেখতে হবে  শ্রীচৈতন্য জন্মস্থান মন্দির , যোগপীঠ , প্রদোশন তীর্থ , সোনার গৌর মন্দির , পোড়া মা তলা ঘাট , আর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মভূমি । এছাড়া গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যাবেলায় আরতি দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। কাছেই মায়াপুরে আছে ইস্কন মন্দির, যেখানে সারা বিশ্বের ভক্তরা ভিড় জমায়। নবদ্বীপ ঘুরে  বোট রাইডও দারুণ উপভোগ্য।

থাকার জায়গা - 
নবদ্বীপে থাকার জন্য নানা বাজেটের হোটেল ও ধর্মশালা আছে। যেমন— যোগপীঠ আশ্রম , গৌরাঙ্গ ভবন ,  ইস্কন অতিথি গৃহ , বা সাধারণ  লজ ও হোটেল ।  ইস্কন মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা পাবেন।

খরচপাতি - 
একদিন-দু’দিনের ভ্রমণে মাথাপিছু খরচ প্রায় ₹১২০০ থেকে ₹২০০০ এর মধ্যে হয়—যার মধ্যে ট্রেন বা বাস ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া ও সাধারণ থাকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে কিছুটা বেশি খরচ পড়তে পারে। খাবার সাধারণত নিরামিষ, কিন্তু খুবই সুস্বাদু ও সাশ্রয়ী।

নবদ্বীপ এমন এক স্থান, যেখানে ধর্ম, ইতিহাস ও প্রকৃতি একসাথে মিশে আছে। শহরের কোলাহল থেকে একটু শান্তি খুঁজতে চাইলে নবদ্বীপই হতে পারে সেরা গন্তব্য। গঙ্গার হাওয়ায়, মন্দিরের ঘণ্টার শব্দে আর ভক্তির আবেশে ভেসে যাবেন অনায়াসে। একবার নবদ্বীপ ঘুরে এলে মন যেন নতুন করে পবিত্র হয়ে ওঠে।