নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে গতি পাচ্ছে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির পর। এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেই দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির আওতায় ভারত ছয়টি অত্যাধুনিক পি-৮আই অ্যান্টি-সাবমেরিন ও সামুদ্রিক নজরদারি বিমান কিনতে চলেছে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে পি-৮আই বিমানের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে নৌবাহিনীর কাছে ১২টি পি-৮আই বিমান রয়েছে, যা মূলত তামিলনাড়ুর আরাক্কোনাম এবং গোয়ার ঘাঁটি থেকে পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারির কাজ চালায়। নতুন ছয়টি বিমান যুক্ত হলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাবমেরিন শনাক্তকরণ, শত্রু জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘপাল্লার নজরদারির ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

পি-৮আই বিমান মূলত মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৮এ পোসেইডন বিমানের ভারতীয় সংস্করণ। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী এতে একাধিক বিশেষ প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এই বিমান সাবমেরিন-বিধ্বংসী অভিযান, সমুদ্রপথে গোয়েন্দা নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে পি-৮আই বিমানের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রতিরক্ষা সূত্র জানাচ্ছে, চুক্তির পথে মূলত মূল্য সংক্রান্ত কিছু বিষয় এবং চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদনই বাকি রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং আমেরিকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে এই নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও মজবুত করেছে, যার সরাসরি প্রভাব এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতিতে দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে না, বরং ভারত-আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মুক্ত ও নিরাপদ সমুদ্রপথ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সব মিলিয়ে, প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের পি-৮আই চুক্তি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্ত ভিত দেবে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভারতীয় নৌবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতের সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে আরও প্রস্তুত করে তুলবে।
যীশুর বার্তা ছড়াতে চাই দাবি পোপের
নাসার আর্তেমেসিস ২ চন্দ্র অভিযান শেষ হওয়ার পরেই ট্রাম্পের পোস্ট ব্যাপক আলোচনার...
অভিজ্ঞতাহীন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন
চুক্তি নিয়ে যদিও শুরু থেকে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের
জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এলাকায়