নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - শীতকাল বাঙালির ভ্রমণ-সুখের আদর্শ সময়। মৃদু রোদ, আরামদায়ক আবহাওয়া এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য মিলেমিশে তৈরি করে এক মনোরম পরিবেশ। এমন সময়ে শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে ইতিহাসের গন্ধে ভরা কোনও জায়গায় গেলে মন ভরে যায়। চন্দ্রকেতুগড় সেইরকমই এক ঐতিহাসিক স্থান—যেখানে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে প্রাচীন বঙ্গের সভ্যতার অসংখ্য স্মৃতি। ইন্দো-গ্রিক, কুষাণ থেকে মৌর্য—অসংখ্য যুগের ছাপ পাওয়া যায় এই অঞ্চলে। শীতের সকালের নরম আলোতে চন্দ্রকেতুগড়ের খননস্থল ও জাদুঘর ঘুরে দেখা সত্যিই এক ভিন্ন অনুভূতি।

চন্দ্রকেতুগড় উত্তর ২৪ পরগণা বারাসাত মহকুমার এক প্রাচীন প্রত্নস্থল। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব কয়েক শতাব্দী আগেও এখানে জনবসতি ছিল এবং এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। খননকার্যে প্রচুর মৃৎপাত্র, মুদ্রা, অলঙ্কার, টেরাকোটা ফিগার ও প্রাচীন স্থাপত্যের অবশেষ পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোককথায় এই জায়গা চন্দ্রকেতু নামে এক পৌরাণিক রাজাকে ঘিরে রহস্যময় হয়ে আছে। শান্ত, নিস্তব্ধ পরিবেশ ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের মিলিত রূপ এই জায়গাকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
কোলকাতা থেকে চন্দ্রকেতুগড় যেতে সবচেয়ে সুবিধাজনক পথ হলো বারাসাতের দিকে। শিয়ালদহ থেকে বারাসাত পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চলে। বারাসাত স্টেশন থেকে অটো/টোটো ধরে সহজেই চন্দ্রকেতুগড় পৌঁছে যাওয়া যায় (প্রায় ২০–২৫ মিনিট)। এসটি বাস বা বিভিন্ন প্রাইভেট বাসে কোলকাতা থেকে বারাসাত আসা যায়। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন পাওয়া যায়। এয়ারপোর্ট–বারাসাত রুট ধরে জাতীয় সড়কে খুব সহজে পৌঁছানো যায়। কোলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৩৫–৪০ কিলোমিটার। শীতকালে সকাল সকাল বের হলে যানজট কম থাকে এবং ভ্রমণ আরও আরামদায়ক হয়।
দেখার স্থান -
1. প্রত্নতাত্ত্বিক খননস্থলএখানে খননকৃত প্রাচীন দুর্গবেষ্টনী, ইটের দেওয়াল, জলাধারের চিহ্ন এবং অন্যান্য স্থাপনার অবশেষ দেখা যায়।
2. চন্দ্রকেতুগড় প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর: মাটির পুতুল, টেরাকোটা শিল্প, প্রাচীন মুদ্রা, মৃৎপাত্র, অলঙ্কারসহ বহু মূল্যবান নিদর্শন এখানে সংরক্ষিত আছে।
3. স্থানীয় মন্দির ও গ্রামের পরিবেশ:আশপাশের গ্রামাঞ্চল অত্যন্ত শান্ত, ছবির মতো সুন্দর। গ্রামের ধানক্ষেত, সরু পথ আর ছোট কাচের পুকুর ভ্রমণের আনন্দ বাড়ায়।
4. হাড়হোরা নদীর পাশ: নদীর পাড়ে দাঁড়ালে প্রকৃতির সৌন্দর্য বিশেষ করে শীতকালে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর লাগে।
5. স্থানীয় লোকজ কথকতা: স্থানীয় মানুষের মুখে চন্দ্রকেতুর কিংবদন্তি শোনা ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।
চন্দ্রকেতুগড়ে বড় হোটেল নেই, কারণ এটি মূলত প্রত্নস্থল।
দিনের সফরে ঘুরে আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
থাকার দরকার হলে বারাসাত , মাধ্যমগ্রাম , অথবা
বাগুইআটি–এয়ারপোর্ট জোনে বিভিন্ন বাজেট হোটেল ও গেস্টহাউস পাওয়া যায়।
পরিবার নিয়ে গেলে বারাসাতের ২–৩টি ভালো হোটেল বা লজই যথেষ্ট উপযোগী।
মোটামুটি খরচ -
লোকাল ট্রেন বা বাসে গেলে ৫০–১৫০ টাকার মধ্যে। নিজস্ব গাড়িতে ফুয়েল খরচ ধরলে ৩০০–৫০০ টাকা।
বারাসাতে সাধারণ লজ ৮০০–১২০০ টাকা, মাঝারি হোটেল ১৫০০–২৫০০ টাকা।
স্থানীয় রেস্তোরাঁয় জন প্রতি ১৫০–৩০০ টাকার মধ্যে ভালো খাবার পাওয়া যায়। সাধারণত প্রবেশ ফি খুবই কম বা নেই।
সব মিলিয়ে এক দিনের সফর ৪০০–৮০০ টাকার মধ্যেই সম্ভব, আর থাকার পরিকল্পনা থাকলে খরচ ২০০০–৩৫০০ টার মধ্যে হয়ে যায়।
চন্দ্রকেতুগড় হলো সেইসব জায়গার মধ্যে একটি, যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ একসঙ্গে মিশে আছে। শীতকালের মনোরম আবহে এই প্রত্নস্থল ঘুরে দেখলে শুধু জ্ঞানই বাড়ে না, মনও ভরে যায় প্রশান্তিতে। কোলকাতার অদূরেই এমন আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থান যে রয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। তাই শীতের কোনও ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে চন্দ্রকেতুগড় ভ্রমণ অবশ্যই মূল্যবান অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
পাহাড়, নদী আর কমলা লেবুর ছোঁয়ায় সিতং—লম্বা ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য আদর্শ ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম।
চেক বাউন্স হলে আইনি নোটিস থেকে শুরু করে মামলা জরিমানা এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে
গ্যালাপাগোস জায়ান্টদের ফিরে আসার গল্প
দীর্ঘ ই-মেলের সারাংশ এক নজরে দেখিয়ে পড়ার সময় ও ঝামেলা দুটোই কমাবে
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা
ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও ভয়ংকর গোপন অভিযানের জন্য পরিচিত
প্রায় ৫০০ বিঘা বিস্তৃত এই বন একসময় জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যুক্ত হওয়া পাকিস্তানের তৈরি জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে কৌশলগত মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা
সময়ের মধ্যে আবেদন করে শিক্ষাবৃত্তির সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষা দফতর
স্মার্টফোন থেকে ল্যাপটপ পর্যন্ত নানা পণ্যে মিলবে বিশেষ ছাড়, জেনে নিন শুরুর দিন
বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত শক্তি বাড়াতে হলদিয়াকে কেন্দ্র করে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো জোরদার করার বড় উদ্যোগ
জোমাটো সিইও দীপিন্দর গোয়ালের কপালে দেখা ভাইরাল ‘যন্ত্র’টি আসলে একটি আধুনিক হেলথ-টেক ডিভাইস, যা মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও মানসিক চাপ পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়
১৯ জন বৌদ্ধভিক্ষুকের শান্তি পদযাত্রার সঙ্গী আলোকা
প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল লাল্টু চিত্রকর , কণ্ঠে সুর সঙ্গে তুলির টান, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা
স্নানঘরে একা নয় সঙ্গীকে নিন
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো