নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - পৃথিবীর আবহাওয়ার চেনা ছন্দ যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। কোথাও তীব্র গরম, কোথাও অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি। আবার কোথাও দীর্ঘ খরার ছবি দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। বিজ্ঞানীরা তাই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পৃথিবীর প্রাচীন উষ্ণ সময়ের মিল খুঁজে দেখছেন।
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এর প্রভাবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। শুনতে সংখ্যাটি খুব বেশি না হলেও গোটা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব যথেষ্ট। এই সামান্য পরিবর্তনই আবহাওয়ার স্বাভাবিক নিয়মে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন বিজ্ঞানী জেমস হ্যানসেন। আশির দশকেই তিনি গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে পৃথিবী আরও উষ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৮৮ সালে মার্কিন সেনেটের সামনে তাঁর বক্তব্য বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। কয়েক দশক পর বিজ্ঞানীদের হাতে স্যাটেলাইট, সমুদ্র পর্যবেক্ষণসহ নানা আধুনিক তথ্য এসেছে। যা পৃথিবীর উষ্ণ হওয়ার প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে শুধু গরমের মাত্রাই বদলায় না, বদলে যেতে পারে বৃষ্টির ধরনও। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধরে রাখতে পারে। ফলে কিছু পরিস্থিতিতে অল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। আবার তাপের কারণে মাটি দ্রুত শুকিয়ে গেলে দীর্ঘ খরার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবাল প্রাচীরসহ বিস্তীর্ণ বাস্তুতন্ত্রের উপর।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই উঠে আসছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বর্তমান পৃথিবী কি কয়েক মিলিয়ন বছর আগের প্লায়োসিন যুগের মতো উষ্ণ সময়ের দিকে এগোচ্ছে? অতীতের জলবায়ু বুঝতে বিজ্ঞানীরা বরফের স্তর, সমুদ্রের পলি, গাছের বলয়, জীবাশ্মসহ নানা প্রাকৃতিক তথ্য পরীক্ষা করেন। প্লায়োসিন যুগে পৃথিবী আজকের তুলনায় বেশি উষ্ণ ছিল, পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও ছিল অনেক বেশি। তবে সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা সরাসরি ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের সম্ভাব্য প্রভাব বোঝার একটি উপায়।
শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা শুধু তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, তা নয়। কৃষি, পানীয় জল, উপকূলীয় বসতি, শহর থেকে শুরু করে জীববৈচিত্র্য সব ক্ষেত্রেই জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। পৃথিবীর পরিবেশ বদলালে তার সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রাকেও মানিয়ে নিতে হবে। তাই প্রাচীন উষ্ণ পৃথিবীর দিকে ফিরে তাকানো আসলে বর্তমান পৃথিবীকে আরও ভালোভাবে বোঝারই চেষ্টা।
পুজোর ছুটিতে কম সময়ে পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা
কুয়াশা-জঙ্গলে আজও তাড়া করে রহস্যময় মুণ্ডহীন ছায়া
মন্দিরের পাশাপাশি জুট-টেক্সটাইল মিল গড়ার ভাবনা
মানচিত্রে নতুন পরিচয়, ২১টি এলাকা-সহ ৪ গিরিপথ ও হ্রদও তালিকায়
সেনেটে পাস রাশিয়া-বিরোধী বিল, চিন-ভারত-জাপান-সহ একাধিক দেশকে ঘিরে বাড়ছে চাপ
জেদ্দায় যৌথ সমঝোতার জল্পনা, ভারত-পাক সংঘাত হলে বদলাতে পারে কূটনৈতিক হিসাব
কমবয়সিদের নিরাপত্তায় আদালতের রায়
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের