নিজস্ব প্রতিনিধি , রায়গঞ্জ - উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে অবস্থিত কুলিক পাখিরালয় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে, সবুজে ঘেরা এই অঞ্চলটি পাখিপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রেমী ও শিক্ষানুরাগীদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়। বর্ষার আগমন থেকেই এখানে শুরু হয় পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। নদী, বন, আর নানা প্রজাতির পাখির সুরেলা ডাক মিলে পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলে। প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য কুলিক সত্যিই অসাধারণ এক গন্তব্য।

কুলিক পাখিরালয় মূলত কুলিক নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রায় ৬০ একর বিস্তৃত একটি অভয়ারণ্য। এর মধ্যে জলাভূমি ও ঘন বনভূমি পাখিদের নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারত, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এখানে আসে।
ওপেন-বিল্ড স্টর্কসহ অনেক প্রজাতির পাখির প্রজনন-মৌসুমও এই সময়েই। অভয়ারণ্যজুড়ে রয়েছে উঁচু শাল, সেগুন, করই ও অন্যান্য গাছ, যেগুলিতে পাখিরা দল বেঁধে বাসা বাঁধে। পর্যটকদের জন্য রয়েছে হাঁটার পথ ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, যেখানে দাঁড়িয়ে সহজে পাখিনিরীক্ষণ করা যায়। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এখানে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়, যাতে পাখিরা নির্বিঘ্নে থাকতে পারে।

কুলিকে দেখা যায় ওপেন-বিল্ড স্টর্ক, লিটল ও গ্রেট ইগ্রেট, করমোরান্ট, নাইট হেরন, ব্ল্যাক ক্রাউনড নাইট হেরন, অ্যাডজুট্যান্ট স্টর্ক, পন্ড হেরন ইত্যাদি অসংখ্য পাখি। প্রায় ৭০–৮০ প্রজাতির পাখি বিভিন্ন সময়ে এখানে আসে বলে ধারণা করা হয়। বর্ষার সময়ে গাছে গাছে শতশত বাসা ও পাখিদের ছানাদের খাদ্য সংগ্রহের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
কুলিক নদীর ধারে পদ্মফুলে ভরা জলাশয়ের সৌন্দর্য আলাদা আকর্ষণ। ভোরবেলায় কিংবা সন্ধ্যার দিকে পাখিদের দলবেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ানো চোখে দেখার মতো অভিজ্ঞতা। এছাড়া পুরো এলাকা শান্ত, নিরিবিলি ও প্রকৃতির নির্ভেজাল রূপে ভরপুর। পর্যটন কেন্দ্রের ভিউ টাওয়ার থেকে পুরো অভয়ারণ্যটিকে দেখা যায়। প্রকৃতি-ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি আদর্শ স্থান।
থাকা - রায়গঞ্জে বিভিন্ন হোটেল ও লজ রয়েছে। রায়গঞ্জ ট্যুরিস্ট লজ সবচেয়ে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য। এছাড়াও Hotel Srijan Inn, Hotel Vinayak, Hotel Relax ইত্যাদিতে আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
যাতায়াত - কলকাতা থেকে মালদা বা বালুরঘাটগামী ট্রেনে উঠে রায়গঞ্জ পৌঁছানো যায়, সেখান থেকে অটো/টোটো করে কুলিক পাখিরালয় খুব কাছে। বাসে কলকাতা–রায়গঞ্জ রুটেও যাওয়া যায় (সময় লাগে ৮–১০ ঘণ্টা)। ব্যক্তিগত গাড়িতে এনএইচ–১২ ধরে যাতায়াত সুবিধাজনক।
খরচপাতি - ট্রেনে ২০০–১০০০ টাকা, বাসে ৪৫০–৭০০ টাকা (একদিকের)। হোটেলভেদে থাকার খরচ প্রতিদিন ৮০০–২০০০ টাকা। স্থানীয় খাবার মিলিয়ে দিনে প্রায় ৩০০–৬০০ টাকা ধরতে হয়। অভয়ারণ্যে প্রবেশমূল্য খুবই কম।
কুলিক পাখিরালয় প্রকৃতির মাঝে ডুবে থাকার এক অপূর্ব স্থান। পরিযায়ী পাখির কিচিরমিচির, নদীর ধারের সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। একবার গেলে আবার যেতে ইচ্ছে করবেই।
কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় তৈরি হয়েছে এক বিরাট ঘাটতি
আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন হতে পারে
মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনকে সহজ নিরাপদ ও একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর