নিজস্ব প্রতিনিধি , অরুণাচল প্রদেশ - ভারত মানেই তাজমহল , কাশ্মীর , গোয়া কিংবা রাজস্থানের মরুভূমি নয়। এই বিশাল দেশের এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলো এখনও পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটাই মুক্ত। অথচ তাদের সৌন্দর্য , ঐতিহ্য সহ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য পৃথিবীর সেরা গন্তব্যগুলোকেও হার মানাতে পারে। এমনই এক গন্তব্য হচ্ছে তাভাং (Tawang)। ভারতের উত্তর - পূর্বাঞ্চলের অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত এক দুর্লভ রত্ন।

অবস্থান
তাভাং অবস্থিত ভারতের উত্তর - পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম অংশে , ভুটান এবং চীনের (তিব্বত) সীমান্তের কাছাকাছি। এটি প্রায় ১০,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত একটি পাহাড়ি শহর। যার চারপাশে বরফে ঢাকা পর্বত , নদী , হ্রদ , এবং সবুজ বনভূমি।তাভাং নামটি এসেছে “Ta” অর্থাৎ ঘোড়া এবং “Wang” অর্থাৎ ঈচ্ছা/চাওয়া – এই শব্দদ্বয়ের সংমিশ্রণে। কথিত আছে , একটি ঘোড়া বৌদ্ধ লামাদের জন্য এই জায়গাটি খুঁজে দিয়েছিল। যা পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

তাভাং যাওয়ার উপায়
তাভাং যাত্রা সহজ নয় , তবে এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। তাভাং যাওয়ার প্রধান যাত্রাপথ হল -
সড়কপথে : প্রথমে আপনাকে আসতে হবে আসাম রাজ্যের তেজপুর, গোহাটি , অথবা ডিরাং শহরে।সেখান থেকে গাড়িতে করে তাভাং যেতে হয় (১৪ - ১৬ ঘণ্টা লেগে যায় পাহাড়ি রাস্তা ধরে)। পথে পড়বে বিখ্যাত সেলা পাস (Sela Pass)। একটি বরফে ঢাকা ১৩,৭০০ ফুট উচ্চতার পর্বতপথ , যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট : তেজপুর বা গোহাটি , আসাম এয়ারপোর্ট থেকে আপনি যেতে পারেন।
প্রয়োজনীয় পারমিট: অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণের জন্য ভারতীয়দের Inner Line Permit (ILP) নিতে হয়। এটি অনলাইনে বা গেটওয়ে শহরগুলো থেকে সংগ্রহ করা যায়।

তাভাংয়ের অন্যতম আকর্ষণ তাভাং মনাস্ট্রি
তাভাং - এর প্রাণকেন্দ্র হলো এর তাভাং মনাস্ট্রি। এটি ভারতের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ গুম্ফা বা মঠ। এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৬৮১ সালে , মেরাক লামা লোদ্রে গ্যাতসো কর্তৃক। এর ধর্মীয় ধারা হল গেলুগপা (Gelugpa) বা হলুদ টুপি সম্প্রদায়। এখানের সন্ন্যাসীর সংখ্যা প্রায় ৪০০ এরও বেশি। এই স্থানের সর্বোচ্চ আকর্ষণ হল বিশাল প্রার্থনাকক্ষ , প্রাচীন ধর্মীয় পুঁথি , বিশাল বুদ্ধমূর্তি। এখানে প্রবেশ করলেই এক ধরণের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করা যায়। পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত এই মঠ থেকে তাভাং শহর সহ তার আশেপাশের দৃশ্য অসাধারণ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দর্শনীয় স্থানসমূহ
তাভাং কেবলমাত্র মনাস্ট্রি নয় , এর আশেপাশে ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সৃষ্টি। নিচে কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো।
সেলা পাস : উচ্চতা ১৩,৭০০ ফুট। এটি ভারতের এক উচ্চতম মোটরচালিত পাস। সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে। পাশেই রয়েছে সেলা লেক , একটি নীলচে হ্রদ যা শীতকালে বরফে ঢাকা পড়ে।
ম্যাডুরি লেক : এক অলৌকিক হ্রদ যেখানে হিমবাহ গলে তৈরি এই হ্রদের সৌন্দর্য অনন্য। চারপাশে গাছপালা , বরফ আর পাথরের সমাহারে এটি যেন এক জীবন্ত ছবি।
বুম লা পাস : ভারত - চীন সীমান্তের এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। শুধু ভারতীয় নাগরিকদের স্পেশাল পারমিট নিয়ে যেতে হয়। এর ইতিহাস হল ১৯৬২ সালের ভারত - চীন যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
নুরানাং জলপ্রপাত : এটি “জং জলপ্রপাত” নামেও পরিচিত। ১০০ মিটার উচ্চতার এই ঝর্ণা পাহাড়ের কোলে এক অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক বিস্ময়।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাপন
তাভাং মূলত মোনপা (Monpa) উপজাতির মানুষদের বাসস্থান। তারা মূলত তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী। মোনপা জনগণ খুবই অতিথিপরায়ণ ও শান্তিপ্রিয়। তারা হাতে তৈরি পোশাক , কাঠের শিল্পকর্ম , সহ তিব্বতীয় ধাঁচের থাংকা চিত্রকর্ম বিক্রি করেন।
জনপ্রিয় স্থানীয় খাবার
থুকপা – নুডলস দিয়ে তৈরি একটি হালকা স্যুপ।
মোমো – ডাম্পলিং জাতীয় খাবার।
জুর্জি – স্থানীয় বার্লি দিয়ে তৈরি পানীয়।
আবাসনের ব্যবস্থা
তাভাং - এ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের হোটেল , হোমস্টে ও অতিথি নিবাস। স্থানীয়রা পর্যটকদের খুব আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। রিজার্ভেশনের আগে অনলাইন রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো।

কেন যাবেন তাভাং?
বরফে ঢাকা পাহাড় ও হ্রদ রয়েছে। বৌদ্ধ আধ্যাত্মিকতা অনুভব করতে পারবেন সেখানে। পাহাড়ি পথ ধরে দুঃসাহসিক ভ্রমণের স্বাদ পাবেন। ভিড় থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে পারবেন।
তাভাং একটি এমন জায়গা , যেখানে আপনি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য , ইতিহাসের ছোঁয়া এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ খুঁজে পাবেন। এটি একাধারে এক গোপন ভ্রমণ রত্ন , আবার আপনার অন্তরের শান্তির ঠিকানাও হতে পারে। যদি আপনি সত্যিকার অর্থে ভিন্নধর্মী এবং হৃদয়স্পর্শী কোনো ভ্রমণ অভিজ্ঞতা চান , তবে তাভাং আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে বাধ্য।
সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তান, চুক্তি মেনে রিয়াদে মোতায়েন হলো পাক সেনা
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই রক্তগঙ্গা! তুরস্কের রেস্তরাঁয় বন্দুকবাজের হামলায় নিহত ৪, আহত ৮
ইরানে বিষ্ণু মন্দিরের ইতিহাস জানালেন অমিতাভ বচ্চন
‘ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া দেব’! ট্রাম্পের চিনের সফরের পরেই মার্কিন টেক জায়ান্...
জেলেনস্কির বদলা! ৫০০ ড্রোনের ধাক্কায় কাঁপল মস্কো, এক বছরের বড় হামলায় বিপর্যস্ত র...