6943bf7e4f072_Gallery_1766047506144
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ দুপুর ০৩:৪২ IST

অপারেশন পেপারক্লিপ , কিভাবে CIA গোপনে হিটলারের বিজ্ঞানী পাচার করেছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল—কিন্তু পর্দার আড়ালে শুরু হয় আরেক যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ছিল অস্ত্রের নয়, মস্তিষ্কের। সেই প্রেক্ষাপটেই জন্ম নেয় "অপারেশন পেপারক্লিপ"—একটি গোপন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মসূচি, যার লক্ষ্য ছিল পরাজিত জার্মানির শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা।

এই ইতিহাসের শুরু ১৯৪৫ সালে। ইউরোপ ধ্বংসস্তূপ, নাৎসি জার্মানি পরাজিত। কিন্তু জার্মানির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তখনো বিশ্বের চেয়ে বহু ধাপ এগিয়ে—বিশেষ করে রকেট প্রযুক্তি, জেট ইঞ্জিন, রাসায়নিক ও চিকিৎসা গবেষণায়। একই সময়ে শুরু হচ্ছে স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত; যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়েই বুঝে যায়, আগামী দিনের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে বিজ্ঞানীদের হাত ধরে। যদি এই জার্মান বিজ্ঞানীরা সোভিয়েতদের হাতে চলে যায়, তবে তা হবে কৌশলগত বিপর্যয়।

এই ভয় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা মহল চালু করে অপারেশন পেপারক্লিপ। নামটি এসেছে একটি অদ্ভুত প্রক্রিয়া থেকে—যেসব জার্মান বিজ্ঞানীর নাৎসি যোগযোগ ছিল , তাদের সেই সব তথ্য ফাইল থেকে মুছে দেওয়ার  জন্য , তাদের ফাইল থেকে সেই অংশগুলো কাগজের ক্লিপ দিয়ে আলাদা করে রাখা হতো। এ যেন ইতিহাস মুছে ফেলে ভবিষ্যৎ গড়ার এক পদ্ধতি।

এই অভিযানের আওতায় প্রায় ১,৬০০ জন জার্মান বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম Wernher von Braun—যিনি নাৎসি জার্মানির ভি-২ রকেট কর্মসূচির প্রধান ছিলেন। যুদ্ধকালে এই রকেট তৈরি হয়েছিল বন্দিশিবিরের শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে। অথচ যুদ্ধশেষে ভন ব্রাউনই হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির নায়ক, যিনি পরে চাঁদে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

এই বিজ্ঞানীদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন করা হয় বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। রকেট প্রযুক্তিতে তারা শক্ত ভিত গড়ে দেন, যা পরবর্তীতে নাসা ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে কাজে লাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, বিমান প্রকৌশল ও রাসায়নিক গবেষণাতেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

তবে অপারেশন পেপারক্লিপ কেবল  আমেরিকার গোয়েন্দা বাহিনি সিআইএর সাফল্যের গল্প নয়; এটি নৈতিক দ্বন্দ্বের ইতিহাস। একদিকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার প্রশ্ন, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাশিয়া কে পেছনে ফেলে  বিজ্ঞানের অগ্রগতির  তাগিদ। যুক্তরাষ্ট্র এই ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের বদলে জাতীয় নিরাপত্তা কে বেছে নিয়েছিল—একটি সিদ্ধান্ত, যা আজও বিতর্কিত।