নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা - লাদাখ মানেই পাহাড়,মরুভূমি,হ্রদ মিলে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি। তার মধ্যেও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হলো নুব্রা উপত্যকা থেকে প্যাংগং সো লেকের যাত্রা। পৃথিবীর অন্যতম অনিন্দ্যসুন্দর এই লবণাক্ত জলের হ্রদ ভারতের লাদাখ এবং চীনের রুতোগ প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত। ১৩৪ কিমি দীর্ঘ এই হ্রদের ৬০ শতাংশই চীন অধিকৃত তিব্বতে। বাকি অংশ ভারতের অন্তর্গত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) এই লেকের বুক চিরে চলে গিয়েছে। তাই ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি এখানে আছে ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কের ইতিহাসও।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
নুব্রা উপত্যকার Sand Dune হোটেলে প্রাতরাশ সেরে গাড়ি ছুটল বহু প্রতীক্ষিত প্যাংগং সো’র উদ্দেশ্যে। রাস্তা খারাপ হলেও বাইপাস রুট বেছে নেওয়ায় আগে পৌঁছনো গেল। এক বাঁকে হঠাৎই চোখে পড়ল নীল হ্রদের ঝলক। বিস্ময়ে থমকে দাঁড়াতে হলো,দূরে বরফঢাকা পাহাড়, সামনে স্বচ্ছ নীল জলের বিস্তৃত লেক।
প্যাংগং সো লেকের স্বচ্ছ জলে অনেক দূর পর্যন্ত পাথর চোখে পড়ে। জল লবণাক্ত, স্বাদ নোনতা। আশেপাশে ঘুরতে গিয়ে দেখা মিলল সেই বিখ্যাত “Three Idiots” সিনেমার শুটিং লোকেশনের। এমনকি ঐ নামের একটি রেস্টুরেন্টেও খাওয়াদাওয়া করা গেল। দিনে ঘুরে ফিরে আসা যায়, আবার চাইলে লেকের ধারে ক্যাম্পে থেকেও আরও ভালোভাবে দেখা যায় সূর্যোদয়,সূর্যাস্তের রঙিন খেলা। তবে উচ্চতাজনিত অসুবিধা অনেক সময় ভ্রমণকে কঠিন করে তোলে।
ভ্রমণের ইচ্ছে ছিল লেক থেকে আরও ১০ কিমি দূরে স্প্যাঙ্গমি হয়ে সোমোরারি লেক দেখা। কিন্তু সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। ফেরার পথে আচমকা ভয়াবহ তুষারঝড়ে আটকে পড়তে হলো ৬ দিন। শেষে সন্ধ্যার পর চাংলা পাস (১৭,৬৮৮ ফুট), লুকুং, কারু ও থিকসে গুম্ফা পেরিয়ে রাত ১১টা নাগাদ আবার লেহ শহরে ফিরে আসা গেল।
কিভাবে যাবেন
কলকাতা বা দিল্লি থেকে লেহ বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায়।
লেহ থেকে গাড়ি ভাড়া করে নুব্রা–প্যাংগং ভ্রমণ সম্ভব।
জনপ্রিয় রুট: লেহ – কারদুং লা – নুব্রা – শ্যোক ভ্যালি – প্যাংগং সো – চাংলা – লেহ।
পথে একাধিক উচ্চতম মোটরেবল পাস রয়েছে, যেমন চাংলা (১৭,৬৮৮ ফুট), যা পৃথিবীর অন্যতম উঁচু রাস্তা।
খরচের হিসেব
ফ্লাইট ভাড়া: সিজন ভেদে ৬,০০০ – ১২,০০০ টাকা (ওয়ানওয়ে)।
গাড়ি ভাড়া: শেয়ারড গাড়ি দিনে ২,৫০০ – ৩,৫০০ টাকা, প্রাইভেট SUV ৮,০০০ – ১২,০০০ টাকা।
হোটেল/ক্যাম্প: বাজেট গেস্টহাউস ১,০০০ – ২,০০০ টাকা, রিসোর্ট/ক্যাম্প ৪,০০০ – ৮,০০০ টাকা।
পারমিট: ইনার লাইন পারমিট বাধ্যতামূলক, খরচ আনুমানিক ৪০০ - ৬০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
প্যাংগং লেকের ধারে বহু ক্যাম্প ও টেন্ট ব্যবস্থা আছে। চাইলে সেখানেই রাত কাটানো যায়।
লেহ শহরে নানা ধরনের বাজেট থেকে বিলাসবহুল হোটেল পাওয়া যায়।
নুব্রা ভ্যালিতেও ভালো মানের হোটেল ও হোমস্টে আছে।
প্যাংগং সো শুধু একটি হ্রদ নয়, প্রকৃতি ও অভিযানের এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। নীল জলের এই লেকের সামনে দাঁড়িয়ে যে বিস্ময় জাগে, তা জীবনের সেরা অভিজ্ঞতাগুলির মধ্যে একটি হয়ে যায়। তবে পাহাড়ি আবহাওয়া অনিশ্চিত বরফে আটকে পড়া বা রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই ভ্রমণকারীর জন্য পরামর্শ, আগে থেকে প্রস্তুতি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সময় হাতে নিয়েই রওনা হতে হবে। কারণ, একবার প্যাংগং সো দেখে নিলে তা হয়ে যাবে আজীবনের সম্পদ।
আরও কড়াকড়ি হবে গ্রিন কার্ড
মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে বানভাসি অবস্থা পাঞ্জাবে
ফের পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা ‘মানবিক’ ভারতের
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার দাবি ট্রাম্পের
গাজার হাসপাতালে হামলায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী