নিজস্ব প্রতিনিধি , তেল আবিব - বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে যেসব নাম ভয়, রহস্য ও দক্ষতার প্রতীক হয়ে উঠেছে, মোসাদ তাদের অন্যতম। ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ও কার্যকর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। গোপন অভিযান, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং শত্রুপক্ষের গভীরে ঢুকে আঘাত হানার সক্ষমতার জন্য মোসাদ বিশ্বজুড়ে আলোচিত ও সমালোচিত—দুইই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই দেশটির নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। চারদিকেই শত্রু রাষ্ট্র, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির চাপ—এই পরিস্থিতিতে একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষিতেই ১৯৪৯ সালে ইজরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের উদ্যোগে মোসাদের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

শুরুর দিন - ১৯৫১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে “মোসাদ লে-মোদিয়িন উল-তাফকিদিম মেয়ুহাদিম” নাম নিয়ে সংস্থাটি কাজ শুরু করে। এর অর্থ, “গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযানের প্রতিষ্ঠান”। শুরু থেকেই মোসাদের লক্ষ্য ছিল বিদেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাসবাদ দমন, শত্রু রাষ্ট্র ও সংগঠনের কার্যকলাপ নজরে রাখা এবং প্রয়োজনে গোপন অভিযান পরিচালনা করা। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মোসাদ কাজ করে।

সফলতার ভিত্তি - মোসাদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বা হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স। বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা এজেন্ট, তথ্যদাতা ও সহযোগীদের মাধ্যমে তারা স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে। আধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার গোয়েন্দাগিরি, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেও মোসাদ অত্যন্ত দক্ষ। সংস্থাটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনায় পারদর্শী, যেখানে খুব কম ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মোসাদের অভিযানের প্রভাব শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে।

কিছু বিশেষ অভিযান - মোসাদের ইতিহাসে বহু আলোচিত অভিযান রয়েছে। ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনা থেকে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানকে অপহরণ করে ইজরায়েলে এনে বিচারের মুখোমুখি করা ছিল মোসাদের অন্যতম সাহসী ও ঐতিহাসিক অভিযান।
১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে ইজরায়েলি ক্রীড়াবিদ হত্যার পর “রাথ অফ গড” অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্যালেস্টিনীয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গোপন অভিযান চালায় মোসাদ।এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, শত্রু রাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ভণ্ডুল করা এবং সন্ত্রাসী নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত বহু অভিযানে মোসাদের নাম উঠে এসেছে।

মোসাদ শুধু একটি গোয়েন্দা সংস্থা নয়, এটি ইজরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। দক্ষতা, গোপনীয়তা ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার জন্য মোসাদ বিশ্বজুড়ে ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত। যদিও এর অনেক কর্মকাণ্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তবু বাস্তবতা হল—আধুনিক গোয়েন্দা যুদ্ধের ইতিহাসে মোসাদ একটি অনন্য ও প্রভাবশালী নাম, যা আজও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে গভীর ছাপ রেখে চলেছে।
কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় তৈরি হয়েছে এক বিরাট ঘাটতি
আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন হতে পারে
মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনকে সহজ নিরাপদ ও একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর