নিজস্ব প্রতিনিধি , সিউড়ি - বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডারে বক্রেশ্বর উষ্ণপ্রস্রবণ এক অনন্য স্থান। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অন্তর্গত বক্রেশ্বর গ্রামে অবস্থিত এই উষ্ণপ্রস্রবণ প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক ও তীর্থযাত্রীকে আকর্ষণ করে। এখানে প্রকৃতি, ধর্ম, বিজ্ঞান ও লোকজ কাহিনির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।
বক্রেশ্বরের নাম এসেছে “বক্রেশ্বর শিব” থেকে। কথিত আছে, দেবী সতীর দেহের “ভ্রূ” (ভ্রু) অংশ এখানে পতিত হয়েছিল, তাই এটি ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম। প্রাচীন কাল থেকেই এই স্থানকে পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হিসেবে মানা হয়। উষ্ণপ্রস্রবণটির উৎপত্তি ভূগর্ভস্থ আগ্নেয় ক্রিয়ার ফলস্বরূপ। ব্রিটিশ আমলে ভূতত্ত্ববিদেরা এখানকার জলের তাপমাত্রা মেপে জানান, এটি ভারতের অন্যতম উষ্ণতম প্রাকৃতিক প্রস্রবণ।
বক্রেশ্বর মহাদেব মন্দিরকে ঘিরে এই স্থানের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে শিব ও শক্তির যুগল রূপে “বক্রেশ্বর মহাদেব” ও “বকুলেশ্বরী দেবী” পূজিত হন। বিশেষত শিবরাত্রি , মকর সংক্রান্তি ও বৈশাখী পূর্ণিমা য় এখানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। উষ্ণপ্রস্রবণের জলে স্নান করলে নাকি চর্মরোগ ও বাতরোগ নিরাময় হয়—এই বিশ্বাস আজও প্রচলিত।
কিভাবে যাব - ট্রেনে কলকাতা থেকে বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছানো যায় (প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা)। সিউড়ি থেকে বক্রেশ্বর মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে। বাস, অটো বা ট্যাক্সি ভাড়া করে সহজেই পৌঁছানো যায়। বাসে কলকাতা এসপ্লানেড বা ধর্মতলা থেকে সোজা সিউড়ি বা দুবরাজপুরগামী বাসে উঠলে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহণে বক্রেশ্বর যাওয়া যায়। নিজস্ব গাড়িতে NH2 বা বর্ধমান হয়ে দুবরাজপুর পথে যাওয়া বেশ সুবিধাজনক। রাস্তার মানও ভালো।
কোথায় থাকবো - বক্রেশ্বর ও তার আশেপাশে পর্যটন দফতরের অতিথিশালা, বেসরকারি লজ ও ধর্মশালা রয়েছে। জনপ্রিয় কয়েকটি থাকার জায়গা—
বক্রেশ্বর ট্যুরিস্ট লজ (ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম) - শক্তিপীঠ ধাম লজ , বকুলেশ্বরী ধর্মশালা। সাধারণ মানের ঘর প্রতি রাতে ৫০০–৮০০ টাকা এবং ভালো মানের ঘর ১০০০–১৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
খরচপাতি - যাতায়াত (কলকাতা থেকে আসা-যাওয়া): প্রায় ₹৮০০–₹১২০০ (বাস/ট্রেন)
থাকা: প্রতিদিন ₹৫০০–₹১৫০০
খাওয়া-দাওয়া: প্রতিদিন ₹৩০০–₹৫০০
মন্দির ও উষ্ণপ্রস্রবণ ঘোরা: প্রায় বিনামূল্যে (কিছু দান বা স্নানঘর ব্যবহারের সামান্য খরচ হতে পারে)
মোট আনুমানিক খরচ (দুই দিনের ভ্রমণ): ₹২০০০–₹৩০০০ প্রতি ব্যক্তি।
বক্রেশ্বর উষ্ণপ্রস্রবণ ভ্রমণ শুধুমাত্র একটি পর্যটন নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির উষ্ণ স্পর্শ, শিবের আশীর্বাদ এবং স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা—সব মিলিয়ে এটি এক শান্ত, পবিত্র ও স্মরণীয় ভ্রমণ হয়ে ওঠে। যারা ধর্মীয় তীর্থ বা প্রকৃতি দর্শনের মিশ্র অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য বক্রেশ্বর সত্যিই এক আদর্শ গন্তব্য।
মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাসে খেজুরের পাশাপাশি জালাবিয়া এখনও ইফতারের অন্যতম অঙ্গ
চলুন সংক্ষেপে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক
অকাল বৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্য
দুই দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসা যায় বড়ন্তি থেকে
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস