নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বাংলার প্রকৃতিতে সাপ এক অঙ্গাঙ্গিক অংশ। যদিও এদের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে, বাস্তবে সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বিষধর সাপেরা ইঁদুরসহ নানা ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭০টিরও বেশি প্রজাতির সাপ দেখা যায়, যার মধ্যে প্রায় ১০টি প্রকৃত অর্থে বিষধর এবং মানুষের জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। নিচে এদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া হলো।
১. গোখরা (Indian Cobra)
বাংলার সবচেয়ে পরিচিত বিষধর সাপ। মাথার পেছনের “চশমা” আকৃতির দাগের জন্য সহজেই চেনা যায়। সাধারণত মাঠ, গ্রাম ও মানুষের বসতি সংলগ্ন এলাকায় থাকে। বিষটি নিউরোটক্সিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। গোখরা ভারতীয় সংস্কৃতিতেও প্রতীকীভাবে পূজিত।
২. চন্দ্রবোড়া (Russell’s Viper)
এটি বাংলার সবচেয়ে বিপজ্জনক সাপগুলির একটি। দেহে গোল গোল বাদামী দাগ থাকে। কামড়ে তীব্র ব্যথা, রক্তপাত ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা সৃষ্টি হয়। এদের কামড়ে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। সাধারণত মাঠে বা ধানক্ষেতে দেখা যায়।
৩. কালাচ (Common Krait)
রাতে সক্রিয় এই সাপটি দেখতে চকচকে কালো, সাদা দাগযুক্ত। কামড়ে তেমন ব্যথা হয় না বলে অনেক সময় মানুষ বুঝতেও পারে না। বিষটি মারাত্মক নিউরোটক্সিক; শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে।
৪. শঙ্খচূড় বা কিং কোবরা (King Cobra)
বিশ্বের দীর্ঘতম বিষধর সাপ, দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও দোহারের অরণ্যে দেখা যায়। সাধারণত অন্য সাপ খেয়েই বেঁচে থাকে। মানুষের উপর আক্রমণ খুবই বিরল।
৫. ধলাচ বা বান্দরচেরা (Banded Krait)
কালো-হলুদ দাগযুক্ত সুন্দর এই সাপটি মূলত নিশাচর। বিষ মারাত্মক হলেও মানুষের সংস্পর্শে খুব কম আসে। নদীপাড়, বন বা ঝোপঝাড়ে বাস করে।
৬. চিত্তি বা স’স্কেলড ভাইপার (Saw-scaled Viper)
ছোট আকারের হলেও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। কামড়ে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ ও টিস্যু ক্ষতি হয়। এদের কামড়ের শব্দ “সসসস” ধরনের ঘষাঘষির আওয়াজে চেনা যায়।
৭. লরেল সাপ (Hump-nosed Pit Viper)
এদের মাথা ত্রিভুজাকৃতি, শরীর মোটা। বিষ হেমোটক্সিক, যা রক্তনালিতে ক্ষতি করে। সাধারণত জঙ্গল ও পাহাড়ি অঞ্চলে থাকে।
৮. বাঁশপাতা (Green Pit Viper)
সবুজ রঙের এই সুন্দর সাপটি উত্তরবঙ্গ ও সুন্দরবনে দেখা যায়। সাধারণত গাছে থাকে। কামড়ে ফুলে যায়, ব্যথা হয়, তবে সচরাচর প্রাণঘাতী নয়।
৯. সমুদ্র সাপ (Sea Snake)
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় কিছু প্রজাতির সমুদ্র সাপ দেখা যায়। এদের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও তারা সাধারণত মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়।
১০. চন্দনবোড়া (Chain Viper)
চন্দ্রবোড়ার কাছাকাছি প্রজাতি, তবে আকারে কিছুটা ছোট। দেহে শৃঙ্খলাকৃতির দাগ থাকে। কামড়ে রক্তনালির ক্ষতি, রক্তপাত ও শক হতে পারে।
বিষধর সাপেরা ভয়ঙ্কর হলেও তারা প্রকৃতির ভারসাম্যের রক্ষক। ইঁদুরের মতো ক্ষতিকর প্রাণী খেয়ে কৃষিকাজে উপকার করে। সাপ দেখলেই হত্যা করা নয়, বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বনদপ্তর বা সাপ উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ ও সাপ—দু’জনেরই বাস এই প্রকৃতিতে; সহাবস্থানই সর্বোত্তম পথ।
মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাসে খেজুরের পাশাপাশি জালাবিয়া এখনও ইফতারের অন্যতম অঙ্গ
চলুন সংক্ষেপে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক
অকাল বৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্য
দুই দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসা যায় বড়ন্তি থেকে
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস