নিজজ ডেস্ক, আহমেদাবাদ: সদ্য সমাপ্ত কোটিপতি লিগের মেগা মঞ্চে ব্যাট হাতে কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছেন ১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ তুর্কি একগুচ্ছ রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ৫টি ব্যক্তিগত ট্রফি জিতে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হতেই একবারে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন বিহারের এই ওয়ান্ডার কিড। আকাশছোঁয়া সাফল্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এবার নিজের ব্যাটিংয়ের সম্পূর্ণ ভোলবদল করতে চলেছেন তিনি। এবার ক্রিকেটের আসল ব্যাকরণ রপ্ত করতে নতুন এক লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করলেন এই বিধ্বংসী ওপেনার।
আসল আলোচনার সূত্রপাত টুর্নামেন্ট জুড়ে বৈভবের সেই অতিমানবীয় ব্যাটিং পরিসংখ্যানকে ঘিরে। পুরো মরশুম জুড়ে রেকর্ড ৭২টি ছক্কা হাঁকালেও ৪ মারার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন এই খুদে তারকা। মোট ৭৫টি বাউন্ডারি মেরে ৪ মারার সেই শীর্ষ খেতাবটি ছিনিয়ে নেন গুজরাতের সাই সুদর্শন। ফাইনাল ম্যাচ শেষে প্রাক্তন তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন আড্ডার ছলে বৈভবকে এই চার মারার খতিয়ান মনে করিয়ে দিতেই নিজের নতুন পরিকল্পনার কথা সামনে আনেন তিনি। সামনেই ভারত ‘এ’ দলের হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ একদিনের সিরিজ রয়েছে।
সেই সীমিত ওভারের লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই এখন থেকে বল হাওয়ায় না ভাসিয়ে মাটিতে রেখে খেলার কড়া অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন বৈভব। কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে কোচের থেকে মারার অবাধ স্বাধীনতা থাকায় তিনি হাত খুলে খেলেছেন। কিন্তু দীর্ঘ ফরম্যাটের জন্য নিজেকে তৈরি করতে নেটে লাল বলেও গোপনে প্রস্তুতি সারছেন তিনি, যা এর আগে ক্রিকেট ভক্তদের নজরে আসেনি। ইতিমধ্যেই রনজি ট্রফিতে বিহারের হয়ে লাল বলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও সেখানে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তাই বড় ফরম্যাটের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করাটা তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে বৈভব সূর্যবংশী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বাইরের লোক মনে করে আমি শুধু বল ওড়াতেই ভালোবাসি। কিন্তু এটা আসলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ছিল এবং কোচ আমাকে মাঠে নিজের মতো খেলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমি ওই বলগুলোতেই শট নিয়েছি, যেগুলোতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এর পেছনে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। আমার আসল লক্ষ্য হলো দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলা। আমার বাবাও আমাকে ছোট থেকে শিখিয়েছেন যে টেস্ট ম্যাচই হলো ক্রিকেটের আসল ও সেরা ফরম্যাট। রনজিতে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও আমি প্রতিনিয়ত নিজের খেলার উন্নতির চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবার লাল বলে আমার আসল রূপটা সবাই মাঠে দেখতে পাবেন।”
ইতিমধ্যেই ভারত ‘এ’ দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরের লাল বলের ক্রিকেটে নজর কেড়েছেন এই খুদে বাঁহাতি। তবে জাতীয় সিনিয়র দলের নীল জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্নপূরণ এখনও বাকি রয়েছে। ফাইনালের রাতে আহমেদাবাদের মেগা মঞ্চ থেকে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন। আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজেই নির্বাচকদের রাডারে থাকা বৈভবের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে যেতে পারে। এই মেগা আপডেটের পর বৈভবের লাল বলের নতুন রূপ দেখার জন্য ক্রিকেট অনুরাগীদের অপেক্ষা এখন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তান, চুক্তি মেনে রিয়াদে মোতায়েন হলো পাক সেনা
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই রক্তগঙ্গা! তুরস্কের রেস্তরাঁয় বন্দুকবাজের হামলায় নিহত ৪, আহত ৮
ইরানে বিষ্ণু মন্দিরের ইতিহাস জানালেন অমিতাভ বচ্চন
‘ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া দেব’! ট্রাম্পের চিনের সফরের পরেই মার্কিন টেক জায়ান্...
জেলেনস্কির বদলা! ৫০০ ড্রোনের ধাক্কায় কাঁপল মস্কো, এক বছরের বড় হামলায় বিপর্যস্ত র...