693bb40f24602_ownercarimage3
ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ দুপুর ০২:০১ IST

ছিলেন নাপিত হয়ে গেলেন কোটিপতি , রমেশ বাবুর অবিশ্বাস্য গল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি , ব্যাঙ্গালুরু - জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবতা কখনও কখনও মানুষের সামনে এমন সব দরজা খুলে দেয়, যা সফলতার নতুন পথ দেখিয়ে দেয়। ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী সাফল্যের গল্পের নায়ক বেঙ্গালুরুর সাধারণ নাপিত রমেশ বাবু। একসময় চুল কাটার কাজ করেই সংসার চলতো—আজ তিনি পরিচিত ভারতের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে।

রমেশের শৈশব কাটে দারিদ্র্যের54 সঙ্গে সংগ্রাম করে। বাবা ছিলেন একজন নাপিত, কিন্তু অল্প বয়সেই তিনি মারা গেলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে রমেশের মায়ের ওপর। সংসার চালাতে তিনি একটি সেলুনে কাজ নেন। মাত্র ষোলো বছর বয়সে রমেশও সেলুনে কাজ শুরু করেন। তখন দিনে আয় হতো কয়েক টাকার বেশি নয়। তবে রমেশের স্বপ্ন ছিল বড়—কিন্তু স্বপ্নগুলোর পেছনে ছিল বাস্তবতার কঠিন দেয়াল।

পরিবর্তনের শুরু ১৯৯৪ সালে। বহু কষ্টে জমানো টাকায় রমেশ কেনেন একটি পুরনো মারুতি ভ্যান। সেটিই হয়ে উঠলো তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সম্পদ। চুল কাটার কাজের পাশাপাশি তিনি এই গাড়িটি ভাড়ায় দিতে শুরু করেন। কাজ একটু গতি পাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন আরও গাড়ি নেওয়ার। তাঁর দৃঢ়তা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিরন্তর পরিশ্রমের ফল—ক্রমে বাড়তে থাকে গাড়ির সংখ্যা।

ব্যবসা বড় হওয়ার সাথে সাথে রমেশ তার সেলুনের কাজও চালিয়ে যান। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিকড় কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আজ তাঁর মালিকানায় আছে শত শত বিলাসবহুল গাড়ির বহর—রোলস রয়েস, মার্সিডিজ, অডি থেকে শুরু করে লিমোজিনের মতো উচ্চমানের গাড়িও রয়েছে তাঁর কোম্পানিতে। কর্পোরেট ইভেন্ট, ভিআইপি সেবা, চলচ্চিত্রশিল্প—সবখানেই রয়েছে তার গাড়ির চাহিদা।

দারিদ্র্যের সংস্পর্শ তাকে শিখিয়েছিল সঞ্চয়ের মূল্য। তাই ব্যবসা যতই বড় হোক, রমেশ আজও মাটির মানুষ। নিজের কর্মীদের তিনি পরিবারের সদস্য মনে করেন। তিনি বলেন, “আমি নাপিত ছিলাম, আজও নাপিতই। শুধু জীবনে কিছু সুযোগ এসেছে, আর আমি সেগুলো হাতছাড়া করিনি।”

রমেশ বাবুর গল্প শুধু সফলতার পথ দেখায় না, এটি প্রমাণ করে জীবনে সুযোগ যে কারও সামনে আসতে পারে—প্রশ্ন হলো, আমরা সেটা ধরতে প্রস্তুত কিনা। কঠোর পরিশ্রম, সততা আর ধৈর্য যেভাবে এক সাধারণ নাপিতকে কোটি টাকার ব্যবসার মালিক করে তুলেছে, তা প্রত্যেক স্বপ্নবাজ মানুষের জন্য এক অসাধারণ প্রেরণা।