নিজস্ব প্রতিনিধি , কাঠমান্ডু - বিশ শতকের সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধীদের তালিকায় চার্লস শোভরাজ একটি ভয়ংকর ও রহস্যময় নাম। সুদর্শন চেহারা, সাবলীল কথাবার্তা ও অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নির্মম খুনি। ‘দ্য সারপেন্ট’ নামে পরিচিত এই মানুষটি ১৯৭০-এর দশকে এশিয়ার হিপি ট্রেইলে ভ্রমণরত বহু তরুণ-তরুণীকে প্রতারণা, হত্যা ও লুটের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তার জীবনকাহিনি শুধু একজন অপরাধীর গল্প নয়, বরং সমাজ, পরিবার ও মানসিক বিকৃতির জটিল এক প্রতিচ্ছবি।
চার্লস শোভরাজের জন্ম ১৯৪৪ সালে ভিয়েতনামের সাইগনে। তার বাবা ছিলেন একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি, আর মা ছিলেন ভিয়েতনামি। জন্মের পরপরই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে এবং শোভরাজ বেড়ে ওঠে মূলত মায়ের সঙ্গেই। শৈশব থেকেই তার জীবনে স্থিতিশীলতার অভাব ছিল। মা পরবর্তীতে এক ফরাসি সেনা কর্মকর্তাকে বিয়ে করলে শোভরাজ ফ্রান্সে চলে যায়। তবে সৎ বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না, বরং নিজেকে অবহেলিত ও প্রত্যাখ্যাত মনে করত সে। এই অবদমন ও ক্ষোভই ধীরে ধীরে তার ব্যক্তিত্বে প্রতারণা ও প্রতিশোধপরায়ণতার বীজ বপন করে।

কিশোর বয়সেই শোভরাজ ছোটখাটো চুরি, জালিয়াতি ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার জেল খাটার অভিজ্ঞতা তার মধ্যে অপরাধী মানসিকতাকে আরও পোক্ত করে তোলে। কারাগারে থাকাকালীন সে শিখে নেয় মানুষের মন পড়া, বিশ্বাস অর্জন করা এবং প্রয়োজনে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল। মুক্তির পর সে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ শুরু করে এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
১৯৭০-এর দশকে এশিয়ায় হিপি সংস্কৃতির বিস্তার শোভরাজের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। নেপাল, থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণরত পশ্চিমা তরুণ-তরুণীরা ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সে নিজেকে কখনো হীরার ব্যবসায়ী, কখনো পর্যটক, কখনো সাহায্যপ্রার্থী বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করত। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর মাদক বা বিষ প্রয়োগ করে তাদের অসুস্থ করে তুলত এবং সুযোগ বুঝে হত্যা করত। অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য, যাতে সে নিহতদের পরিচয়ে নতুন করে ভ্রমণ করতে পারে।
চার্লস শোভরাজ একা কাজ করত না; তার সঙ্গে ছিল কয়েকজন সহযোগী, বিশেষ করে মেরি-আন্দ্রে লেক্লার্ক। এই দলবদ্ধ অপরাধ তাকে দীর্ঘদিন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রাখে। তবে শেষ পর্যন্ত ১৯৭৬ সালে দিল্লিতে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার পর সে গ্রেপ্তার হয়। ভারতে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করার পর মুক্তি পায়। সেই সময় তার খ্যাতি এতটা বেশি ছিল যে সে নানা গুরুতর অপরাধে দোষী হওয়া সত্ত্বেও , সেই সময়কার অনেক অভিজাত মহিলা তার সাথে অর্থের বিনিময়ে "ডেটে" যেত । ২০০৩ সালে নেপালে ভ্রমণের সময় একটি পুরনো মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন সাজা পায়। প্রায় ১৯ বছর সাজা ভোগ করার পর , তার ভালো ব্যবহার এবং বয়স দেখে 2022 সালে জেল থেকে ছাড়া পায় । বর্তমান সে ফ্রান্সে আছে।
শোভরাজের জীবন দেখায় কীভাবে একটি অস্থির শৈশব, প্রত্যাখ্যানের বেদনা এবং অপরাধকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করার প্রবণতা এক মানুষকে সিরিয়াল কিলারে পরিণত করতে পারে। চার্লস শোভরাজ শুধু একজন খুনি নয়, সে ছিল এক ভয়ংকর প্রতারক— যাকে সারা দুনিয়া চিনে ‘দ্য সারপেন্ট' নামে ।
অস্থির পরিস্থিতির মাঝে ট্রাম্প হুঙ্কার
নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের
অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝে চরমে ইরান এবং আমেরিকার সংঘাত
যাত্রীদের জন্য অ্যাডভাইজরি জারি বিমান সংস্থাগুলির
২৬ বছরের যুবককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায় ইরানের আদালত
কাশ্মীর দখলে জিহাদের ডাক লস্করের
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো
বিদ্রোহে সামিল হওয়া অপরাধ ইরানে
পাহাড়, নদী আর কমলা লেবুর ছোঁয়ায় সিতং—লম্বা ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য আদর্শ ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম।
দ্বিতীয় মহিলা শাসক হচ্ছেন লেওনর
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো