695b40144bfab_InShot_20260105_100358041
জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ দুপুর ০২:২৬ IST

বরফের নীচে হারিয়ে যাওয়া বনভূমি , বিজ্ঞানীদের অবাক আবিষ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি , লন্ডন - অ্যান্টার্কটিকা মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে এক অন্তহীন সাদা শূন্যতা—প্রচণ্ড ঠান্ডা, তুষারঝড় আর নীরবতা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি যে আবিষ্কারটি করেছেন, তা এই পরিচিত ছবিটাকেই উল্টে দিয়েছে। প্রায় ২ কিলোমিটার পুরু বরফের নীচে তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন ৩৪ মিলিয়ন বছর আগের এক হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর চিহ্ন—যেখানে ছিল ঘন বন, প্রবাহমান নদী আর তুলনামূলক উষ্ণ জলবায়ু।

এই আবিষ্কার এসেছে গভীর বরফ ভেদ করে তোলা প্রাচীন কাদা ও পলির নমুনা থেকে। সেই কাদার স্তরে স্তরে লুকিয়ে ছিল পরাগরেণু, উদ্ভিদের অবশেষ, এমনকি রাসায়নিক চিহ্ন—যা স্পষ্টভাবে জানায়, এক সময় অ্যান্টার্কটিকার উপকূলবর্তী এলাকায় ছিল নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্ট। আজ যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের বহু নীচে নেমে যায়, সেখানে এক সময় গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাত।

এই “টাইম ক্যাপসুল” আমাদের শুধু অতীতের গল্প শোনায় না, ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও দেয়। ওই সময়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ছিল প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ পিপিএম—যে স্তরের দিকে আমরা দ্রুত এগিয়ে চলেছি। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নির্দিষ্ট এক সীমা পেরোনোর পর অ্যান্টার্কটিকায় বরফের চাদর হঠাৎ করেই বিস্তৃত হতে শুরু করে। এর ফল ছিল বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের বড় পরিবর্তন।

এই তথ্য আজকের প্রেক্ষাপটে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার প্রভাব শুধু সেখানে সীমাবদ্ধ নয়—তার ওঠানামা মানেই মুম্বাই, কলকাতা বা নিউ ইয়র্কের মতো উপকূলীয় শহরগুলোর ভবিষ্যৎ বদলে যাওয়া। প্রাচীন পলির স্তর দেখায়, বরফের বিস্তার বা গলন কখনও এক রকম হয় না—মাঝে মাঝে দ্রুত পরিবর্তন, মাঝেমধ্যে স্থিতাবস্থা। এই অনিশ্চয়তাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে এই আবিষ্কার  কেবল বিস্ময়কর নয়। এটি আমাদের হাতে এক ধরনের “পরিমাপের সূচক ” তুলে দেয়। অতীতে কোন মাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাসে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল, তা জানলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, “বরফ —সে কেবল পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে চলে।”

এই হারিয়ে যাওয়া সবুজ জঙ্গল একদিকে যেমন বিস্ময় জাগায়, অন্যদিকে তেমনই আমাদের স্বস্তির ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দেয়। পৃথিবী বদলেছে, আবার বদলাবেও। প্রশ্ন শুধু একটাই—এই পরিবর্তনের মধ্যে আমাদের সভ্যতা কতটা প্রস্তুত?