69591fd886689_2025-01-18T155626Z_21693132_MT1ASNEWS20250118216L_RTRMADP_3_ANI
জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ বিকাল ০৭:৩৬ IST

আর্টিলারি শেল , বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারতীয় সেনা পাবে এই বিশেষ অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি , দিল্লি - ‘আত্মনির্ভরতা’ উদ্যোগের আরেকটি বড় সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় সেনা। বিশ্বের প্রথম সেনাবাহিনী হিসেবে রামজেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল নিক্ষেপের পথে এগোচ্ছে ভারত। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে গোলার পাল্লা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে , তাও আবার বিস্ফোরক ক্ষমতা কমানো ছাড়াই।

ভারতীয় সেনার আর্টিলারি শাখা দীর্ঘদিন ধরেই বেশি পাল্লা, উন্নত নির্ভুলতা ও আধুনিক গোলাবারুদ উন্নয়নের উপর জোর দিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্যেই আইআইটি মাদ্রাজের সঙ্গে যৌথভাবে রামজেট-সহায়িত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল উন্নয়নের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে আর্মি টেকনোলজি বোর্ড (ATB), যা সরাসরি সেনার প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের সঙ্গে যুক্ত। 

রামজেট মূলত একটি এয়ার-ব্রিদিং ইঞ্জিন, যেখানে কোনও কম্প্রেসর বা টারবাইনের প্রয়োজন হয় না। আইআইটি মাদ্রাজের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পি. এ. রামকৃষ্ণর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ইঞ্জিন কাজ শুরু করার জন্য প্রায় ম্যাক ২ গতিতে পৌঁছনো জরুরি। বন্দুক বা রকেটের সাহায্যে শেলটিকে ওই গতিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর বাতাস নিজে থেকেই সংকুচিত হয়, প্রোপেল্যান্ট জ্বলে শক্তি উৎপন্ন করে এবং নোজলের মাধ্যমে থ্রাস্ট তৈরি হয়। এর ফলেই শেলের উড়ান দীর্ঘ হয় এবং পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। 
 

এই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হল, একবার সফলভাবে উন্নয়ন সম্পন্ন হলে এটি বিদ্যমান ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেলগুলোর সঙ্গে সহজেই রেট্রোফিট করা যাবে। অর্থাৎ নতুন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন গোলাবারুদ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না। অধ্যাপক রামকৃষ্ণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটি তৈরি হয়ে গেলে ভারতীয় সেনার যেকোনও ১৫৫ মিমি গান সিস্টেমে এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যার মধ্যে এম৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইটজারও রয়েছে। 

বর্তমানে এই রামজেট-চালিত শেল উন্নয়নমূলক পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এর সফল পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্পের অগ্রগতির দিক থেকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। 

ভারতীয় সেনার আর্টিলারি ভাণ্ডারে ১০৫ মিমি থেকে শুরু করে ১৫৫ মিমি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যালিবারের গান রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫ মিমি ‘মিডিয়াম’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, যা শত্রুপক্ষের উপর দূরপাল্লার শক্তিশালী আঘাত হানতে ব্যবহৃত হয়। রামজেট প্রযুক্তি যুক্ত হলে এই গোলাগুলি আরও কার্যকর হয়ে উঠবে, বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে ও কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে। 

সব মিলিয়ে, এই প্রকল্প শুধু সেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, বরং দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তির উপর ভরসা রেখে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতার পথে এক বড় পদক্ষেপ।