নিজস্ব প্রতিনিধি , বোলপুর - ভূমিকম্প পৃথিবীর ভূত্বকের আকস্মিক নড়াচড়া ও শক্তি নির্গমনের ফলে সংঘটিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পৃথিবীর অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের কারনে ভূকম্পন সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের প্রভাব কখনো সামান্য হলেও অনেক সময় তা জীবন, সম্পদ ও পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
কেন ভূমিকম্প হয় - ভূমিকম্প হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো টেকটনিক প্লেটের গতিবিধি। পৃথিবীর ভূত্বক একাধিক প্লেটে বিভক্ত, যেগুলো সবসময় ধীরে ধীরে নড়ে। এই প্লেটগুলো কখনো সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, কখনো একটির নিচে আরেকটি ঢুকে যায়, আবার কখনো পরস্পরকে ঘষতে ঘষতে সরে যায়। এই সমস্ত গতিবিধির কারণে ভূত্বকে চাপ সৃষ্টি হয় এবং ভূত্বকের দুর্বল অংশ বা ফল্ট লাইনে সেই চাপ জমতে থাকে। যখন চাপ সহনক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে, তখন হঠাৎ শক্তি মুক্ত হয় তখন ভূকম্পন ঘটে। এছাড়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত , মানবসৃষ্ট কার্যকলাপ (যেমন বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ, খনি বিস্ফোরণ), এবং ভূগর্ভস্থ গ্যাস বা পানির চাপ পরিবর্তন থেকেও ক্ষুদ্র আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ ভূমিকম্পই প্লেট টেকটোনিক গতির কারণে হয়।
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প কোথায় হয় - বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঘটে প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে অবস্থিত “প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার” অঞ্চলে। পৃথিবীর মোট ভূমিকম্পের প্রায় ৮০% এই অঞ্চলেই ঘটে। এখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেট যেমন—প্যাসিফিক প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট, ফিলিপাইন প্লেট, নর্থ আমেরিকান প্লেট ইত্যাদির ধারাবাহিক সংঘর্ষ ও সরে যাওয়ার ফলে ঘন ঘন ভূকম্পন ঘটে। জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, চিলি ও আলাস্কা এই রিং অব ফায়ার অঞ্চলের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
ভারতে ভূমিকম্পপ্রবন এলাকা - ভারতও বৈশ্বিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি, কারণ ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। এই সংঘর্ষের ফলে হিমালয় অঞ্চল ক্রমাগত উঁচু হচ্ছে এবং সেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
ভারতকে ভূমিকম্প ঝুঁকির ভিত্তিতে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে —
জোন ৩ ( উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ) সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল) কাশ্মীর , উত্তর হিমালয় অঞ্চল
রন অব কচ্ছ (গুজরাত) , অ্যান্ডামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
জোন ২(মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ)
* উত্তরাখণ্ডের বড় অংশ
* হিমাচল প্রদেশের কিছু অঞ্চল
* সিকিম
* দিল্লি অঞ্চল
* উত্তর বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা
জোন ১ (নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ )
* পাঞ্জাব
* হরিয়ানা
* পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ
* উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ
* মহারাষ্ট্রের এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি এলাকা
ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এর গতিবিধি, কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সম্পর্কে সচেতনতা বিপর্যয় মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিকভাবে রিং অব ফায়ার সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল এবং ভারতে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। সঠিক পরিকল্পনা, ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনসচেতনতা এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাসে খেজুরের পাশাপাশি জালাবিয়া এখনও ইফতারের অন্যতম অঙ্গ
চলুন সংক্ষেপে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক
অকাল বৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্য
দুই দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসা যায় বড়ন্তি থেকে
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস