694630a7edbe5_Gallery_1766206554478
ডিসেম্বর ২০, ২০২৫ দুপুর ১২:১৭ IST

বিকিনি আর পরমাণু বোমার যোগসূত্র কোথায় জানেন কি? পরে ফেলুন বিকিনির গোঁড়ার কথা

নিজস্ব প্রতিনিধি ,কলকাতা- আজ বিকিনি শুধু সমুদ্রসৈকতের পোশাক নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও আধুনিক নারীত্বের প্রতীক। কিন্তু একসময় এই ছোট্ট পোশাক সমাজে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিকিনির ইতিহাস আসলে ফ্যাশনের চেয়েও   ঊর্ধ্বে —এটি সামাজিক পরিবর্তনের ইতিহাস।

বিকিনির গোঁড়ার কথা - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে পোশাক শিল্পে বড় পরিবর্তন আসে। কাপড়ের অভাব এবং নতুন জীবনদর্শন মানুষকে আগের নিয়ম ভাঙতে উৎসাহিত করে। ১৯৪৬ সালে ফরাসি ডিজাইনার  লুই রেয়ার্ড  প্রথম আধুনিক বিকিনি প্রকাশ করেন। এটি ছিল এমন এক সাঁতারের পোশাক, যা নারীর  বেশিরভাগ দেহ উন্মুক্ত রাখে—সেই সময় যা ছিল অকল্পনীয়।

এই পোশাক এতটাই সাহসী ছিল যে পেশাদার মডেলরা এটি পরতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত একজন ক্যাবারে নৃত্যশিল্পী এটি পরে র‍্যাম্পে নামেন। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়—ফ্যাশনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।

কেন ‘বিকিনি’? - বিকিনির নামকরণও কম নাটকীয় নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের বিকিনি অ্যাটল দ্বীপে সেই সময় পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চলছিল। লুই রেয়ার্ড মনে করেছিলেন, তার ডিজাইনও সমাজে ঠিক তেমনই “বিস্ফোরণ” ঘটাবে। সেই ধারণা থেকেই পোশাকটির নাম রাখা হয় ‘বিকিনি’।
নামটি যেমন সাহসী, তেমনই এর প্রভাবও ছিল বিস্ফোরক।

সমাজের বিরোধিতা ও ধীরে গ্রহণযোগ্যতা - শুরুর দিকে বিকিনি ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশে নিষিদ্ধ ছিল। চার্চ ও রক্ষণশীল সমাজ এটিকে “অশালীন” বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু সময় বদলাতে শুরু করে ১৯৫০–৬০-এর দশকে। হলিউড অভিনেত্রীদের হাত ধরে বিকিনি জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমা ও ম্যাগাজিনে বিকিনি পরিহিত নারীরা একে ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন।

১৯৬০-এর পর বিকিনি শুধু সাঁতারের পোশাক নয়, বরং স্বাধীনচেতা নারীর প্রতীক হয়ে ওঠে। নারীর শরীর নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সাহসকে বিকিনি তুলে ধরে। ফ্যাশন ডিজাইনাররা নিত্যনতুন কাট, রং ও নকশায় বিকিনিকে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় করে তোলেন।
একসময় যে পোশাক সমাজ কাঁপিয়েছিল, আজ তা বিশ্ব ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।