নিজস্ব প্রতিনিধি , ব্যাঙ্গালোরে - ভারতের দক্ষিণের কর্ণাটক রাজ্যের এক শান্ত এলাকা — কোলার। আজ এটি “বাস্তবের কেজিএফ” নামে পরিচিত। জনপ্রিয় কন্নড় সিনেমা "KGF (Kolar Gold Fields)"-এর অনুপ্রেরণাই এসেছে এই বাস্তব খনি থেকে। এক সময় এই খনি ছিল বিশ্বের গভীরতম ও সমৃদ্ধতম স্বর্ণখনিগুলোর একটি। এর ইতিহাস যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি করুণ পরিণতিও কম নয়।

কোলার গোল্ড ফিল্ডস (Kolar Gold Fields) কর্ণাটকের কোলার জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে, বেঙ্গালুরু শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই খনির ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। তবে আধুনিকভাবে এর খনন কার্য শুরু হয় ১৮৮০ সালের দিকে। ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার জন টেইলর অ্যান্ড সন্স কোম্পানি প্রথম বড় আকারে এখানে সোনা উত্তোলন শুরু করে।
১৮৮০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত এই খনি পরিচালনা করে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো। পরে স্বাধীনতার পর এটি ভারত সরকারের হাতে আসে এবং ভারত গোল্ড মাইনস লিমিটেড (BGML) নামে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এর দায়িত্ব নেয়। কোলার গোল্ড মাইন ছিল সেই সময়ে ভারতের সবচেয়ে আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, হাসপাতাল, রেললাইন, ঘরবাড়ি —সবই ছিল।
কোলার খনির গভীরতা ছিল অভাবনীয়—প্রায় ৩,০০০ মিটার (৩ কিলোমিটার) গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল, যা তখন বিশ্বের গভীরতম খনিগুলির মধ্যে অন্যতম।

১৮৮০ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮০০ টন সোনা এই খনি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে বলে সরকারি তথ্য রয়েছে। খনির প্রতিটি গ্রাম মাটি থেকে সোনা পাওয়া যেত, কিন্তু ধীরে ধীরে খনির উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকে। সোনার দাম ও উৎপাদন খরচের অমিলের কারণে ২০০১ সালে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খনি বন্ধ করে দেয়।

কোলারের খনিতে হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে নেমে যেতেন। দুর্ঘটনা, বিষাক্ত গ্যাস, ও তীব্র তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করেও তারা দেশকে দিয়েছেন সোনার ভাণ্ডার। তাদের জীবন ছিল সংগ্রাম ও সাহসের এক প্রতীক।

কোলার গোল্ড ফিল্ডস আজ ইতিহাস। বন্ধ খনির সুড়ঙ্গগুলো এখন নীরব, কিন্তু সেখানে একসময় ভারতের অর্থনীতির এক বড় অংশ গড়ে উঠেছিল। "KGF" শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়—এটি সেই মানুষের গল্প, যারা অন্ধকার সুড়ঙ্গের গভীরে নেমে সোনার আলো খুঁজেছিলেন। ভারতের এই বাস্তব কেজিএফ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সোনা যেমন ঝলমলে, তেমনি তার পেছনের শ্রম ও ত্যাগও তেমনি অমূল্য।
কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় তৈরি হয়েছে এক বিরাট ঘাটতি
আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন হতে পারে
মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেনকে সহজ নিরাপদ ও একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা
রাষ্ট্রসংঘে হামলার প্রতিবাদে সরব
ঘনঘন সাইরেন ইজরায়েলে
যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু ইরানের
প্রত্যাঘাত করতে মরিয়া ইরান
রাষ্ট্রসংঘে চিঠি ইরানের বিদেশমন্ত্রীর