69620f90ea44b_jf-17-1
জানুয়ারী ১০, ২০২৬ দুপুর ০৪:৩৯ IST

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তে জে এফ ১৭ থান্ডার , পাকিস্তানি বিমান ভারতের জন্য কতটা হুমকি স্বরূপ?

নিজস্ব প্রতিনিধি , ঢাকা - দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে যুদ্ধবিমান শুধু সামরিক শক্তির প্রতীক নয়, বরং কৌশলগত বার্তার বাহকও। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে জে এফ ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ফাইটার জেটটি বাংলাদেশ কিনতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা চলছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্ভাব্য কেনাকাটা শুধু একটি অস্ত্র চুক্তি নয়, বরং আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জে এফ ১৭ থান্ডার মূলত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পুরোনো এফ-৭ ও মিরাজ সিরিজের বিমান প্রতিস্থাপনের জন্য তৈরি হয়। চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন এবং পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স যৌথভাবে এই প্রকল্পে কাজ করে। উদ্দেশ্য ছিল কম খরচে এমন একটি মাল্টিরোল ফাইটার তৈরি করা, যা আকাশযুদ্ধ, স্থল আক্রমণ ও নৌ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। এই লক্ষ্য পূরণে বিমানটি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির জন্য উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ধাপে ধাপে তাদের যুদ্ধবিমান বহর আধুনিক করার পরিকল্পনা করছে। সীমিত বাজেটের মধ্যে আধুনিক রাডার, অস্ত্র বহনের ক্ষমতা এবং বহুমুখী ব্যবহারের সুবিধা থাকায় জে এফ ১৭ বাংলাদেশের কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি ভিন্ন। ভারত ইতিমধ্যেই উন্নত প্রযুক্তির সুখোই-৩০ এমকেআই, রাফাল ও তেজসের মতো বিমান দিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করেছে। সেই তুলনায় জে এফ ১৭ প্রযুক্তিগতভাবে অনেকটাই পিছিয়ে, যদিও আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর উপস্থিতি নজর এড়ানোর মতো নয়।

জে এফ ১৭ একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল ফাইটার। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১.৬ মাখ। আধুনিক সংস্করণে পালস-ডপলার রাডার, বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ মিসাইল বহনের ক্ষমতা এবং বিভিন্ন স্মার্ট বোমা ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এটি প্রায় ৩ থেকে ৪ টন পর্যন্ত অস্ত্র বহন করতে পারে এবং মাঝারি পাল্লার অভিযানে সক্ষম। কাগজে-কলমে এই সক্ষমতাগুলি যথেষ্ট আধুনিক মনে হলেও বাস্তব ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতা ধরা পড়েছে। 

অতীতের খারাপ পারফরমেন্স ও বিতর্ক - জে এফ ১৭ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এর বাস্তব যুদ্ধক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ব্যবহারে একাধিকবার রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা, ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতা এবং রাডার পারফরমেন্স নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় এই বিমানটি প্রত্যাশিত কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি বলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি। ভারতের উন্নত বিমান ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সামনে জে এফ ১৭ কার্যত কোনো বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ একে একটি মাঝারি মানের যুদ্ধবিমান হিসেবে মূল্যায়ন করেন। 

বাংলাদেশের জে এফ ১৭ কেনার আগ্রহ দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ভারতের প্রেক্ষাপটে এই বিমান বড় কোনো কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নয়। অতীতের পারফরমেন্স, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং তুলনামূলক দুর্বল সক্ষমতার কারণে জে এফ ১৭ এখনো একটি বিতর্কিত যুদ্ধবিমান হিসেবেই বিবেচিত। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এর প্রভাব সীমিত থাকলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত।