নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো লয়টারিং মিউনিশন—যাকে অনেকে “সুইসাইড ড্রোন” বা “কামিকাজে ড্রোন” নামেও চেনেন। এটি এমন এক ধরনের অস্ত্র, যা ড্রোনের মতো আকাশে ঘুরে বেড়ায় (loiter) এবং লক্ষ্য শনাক্ত করার পর আত্মবিস্ফোরণের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে। লয়টারিং মিউনিশন মূলত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংমিশ্রিত প্রযুক্তি, যেখানে উভয়ের বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে।

এই অস্ত্রের মূল কাজ হলো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘুরে ঘুরে নজরদারি করা। একবার শত্রুর অবস্থান শনাক্ত হলে এটি তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণ চালায়। যদি নির্ধারিত লক্ষ্য না পাওয়া যায়, তবে এটি ঘাঁটিতে ফিরে আসতেও পারে বা নিজেকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এই বৈশিষ্ট্য লয়টারিং মিউনিশনকে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও বুদ্ধিমান করে তুলেছে।

লয়টারিং মিউনিশনের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ১৯৮০-এর দশকে ইসরায়েল প্রথম এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করে—নাম ছিল Harpy। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান ও আরও অনেক দেশ এই প্রযুক্তি উন্নত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ভারত পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সংঘর্ষসহ নানা যুদ্ধে লয়টারিং মিউনিশনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। বিশেষ করে আজারবাইজানের “Harop” ড্রোন ২০২০ সালের নাগোরনো-কারাবাখ যুদ্ধে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

লয়টারিং মিউনিশনের একটি বড় সুবিধা হলো এর নির্ভুলতা ও কম খরচ । এটি তুলনামূলকভাবে ছোট, পরিচালনা সহজ এবং প্রচলিত বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভারী অবকাঠামো দরকার হয় না। সেনারা মাঠ পর্যায়ে থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাতের আগে এটি ভিডিও ফিডের মাধ্যমে অপারেটরকে দৃশ্যমান তথ্য দেয়, ফলে হামলার সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুলভাবে নেওয়া যায়।

তবে এর ব্যবহার নিয়ে নৈতিক বিতর্কও রয়েছে। কারণ, লয়টারিং মিউনিশন অনেক সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করে আক্রমণ চালাতে পারে, যা ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি তৈরি করে। এতে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনাও থেকে যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তাই এর ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লয়টারিং মিউনিশন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তি । এটি সৈন্যদের ঝুঁকি কমায়, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানে এবং গোয়েন্দা নজরদারি থেকে তাৎক্ষণিক আক্রমণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম। ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলে এ অস্ত্রের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাসে খেজুরের পাশাপাশি জালাবিয়া এখনও ইফতারের অন্যতম অঙ্গ
চলুন সংক্ষেপে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক
অকাল বৃষ্টিতে ভাসবে রাজ্য
দুই দিনের ছুটি নিয়ে ঘুরে আসা যায় বড়ন্তি থেকে
হামলার কথা স্বীকার ইজরায়েলের
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এয়ারবাসের
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
বিবৃতি জারি ট্রাম্প প্রশাসনের
আপাত বন্ধ স্কুল-অফিস