কৌশিক দাস , দিল্লি - কর্পোরেট দুনিয়া “ওয়ার্ক ফ্রম হোম”-কে এমনভাবে প্রচার করেছে যেন এটা শ্রমিকদের জন্য এক বিরাট আশীর্বাদ। বলা হয়েছে — কর্মীরা বাড়িতে বসে আরামে কাজ করতে পারবে, ট্রাফিকের ঝামেলা থাকবে না, পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারবে। কিন্তু এই চকচকে প্রচারের আড়ালে যে বাস্তব সত্য লুকিয়ে আছে, তা অনেক বেশি নির্মম। বাস্তবে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী কর্মী নয়, মালিকপক্ষ ও কর্পোরেট সংস্থাগুলো।
আগে একটি অফিস চালাতে কোম্পানিকে বিশাল খরচ বহন করতে হতো বড় অফিস স্পেস, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ক্যান্টিন, পরিবহন, নিরাপত্তা কর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি। এখন সেই খরচের বড় অংশ নিঃশব্দে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্মীর ঘাড়ে। কর্মী নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, নিজের ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, নিজের ঘরকে অফিসে পরিণত করছে, অথচ কোম্পানি সেই খরচের দায় নিচ্ছে না। অর্থাৎ কর্পোরেট নিজের উৎপাদন খরচ কমিয়ে একই শ্রম আরও কম দামে আদায় করছে।
এটাই পুঁজিবাদের পুরনো কৌশল খরচ কমাও, মুনাফা বাড়াও। “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” সেই কৌশলের আধুনিক সংস্করণ মাত্র।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ব্যবস্থায় কাজের সময়ের সীমারেখা ভেঙে গেছে। আগে অফিস মানে নির্দিষ্ট সময়। এখন কর্মী ২৪ ঘণ্টাই কার্যত “available”। রাত দশটায় মেল, ভোরে মিটিং, ছুটির দিনেও অনলাইন উপস্থিতি সবকিছুই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে। কর্পোরেট বুঝে গেছে, বাড়ি থেকেই কর্মীর কাছ থেকে আরও বেশি শ্রম আদায় করা সম্ভব। কারণ অফিসে অন্তত কাজের একটা নির্দিষ্ট সীমানা ছিল, বাড়িতে সেই সীমাটাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক ভয়ংকর দিক কর্মীদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। আগে অফিসে শ্রমিক বা কর্মচারীরা একসঙ্গে থাকত, আলোচনা করত, সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেত। এখন প্রত্যেকে আলাদা ঘরে বন্দি। ফলে যৌথ প্রতিবাদ, ইউনিয়ন গঠন বা শ্রমিক সংহতির জায়গাটাই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কর্পোরেটের কাছে এটা বিশাল সুবিধা। কারণ বিচ্ছিন্ন শ্রমিক সবসময় দুর্বল শ্রমিক।
আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন “ওয়ার্ক ফ্রম হোম”-এর পক্ষে সওয়াল করেন, তখন সেটাকে শুধু প্রযুক্তিগত আধুনিকতার ভাষণ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বাস্তবে এই নীতিগুলো কর্পোরেট স্বার্থের সঙ্গেই বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্র আজ ক্রমশ শ্রমিকের রাষ্ট্র না হয়ে কর্পোরেটের রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বড় শিল্পপতিদের জন্য কর ছাড়, জমি, সুবিধা সবকিছু দ্রুত দেওয়া হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কাজের নিরাপত্তা বা শ্রম অধিকার নিয়ে সরকারের ততটা আগ্রহ দেখা যায় না।
“ওয়ার্ক ফ্রম হোম” তাই শুধুই কাজের পদ্ধতির পরিবর্তন নয়, এটা শ্রম সম্পর্কেরও পরিবর্তন। এখানে কর্মীর স্বাধীনতার গল্প শোনানো হলেও বাস্তবে তার শ্রম আরও অদৃশ্য, আরও সস্তা এবং আরও নিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে। কর্পোরেট সংস্থাগুলো কর্মীর বাড়িকেই অফিসে বদলে দিয়েছে, অথচ কর্মীকে অফিসের সমান সুযোগ বা নিরাপত্তা দেয়নি।
আজ প্রয়োজন এই ভণ্ডামিটা বোঝা। প্রয়োজন বুঝতে পারা যে “ফ্লেক্সিবিলিটি” আর “কমফোর্ট”-এর নামে আসলে শ্রমিকদের উপর নতুন ধরনের শোষণ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কারণ পুঁজিবাদ কখনও শ্রমিকের সুবিধার জন্য কোনো ব্যবস্থা আনে না — প্রতিটি ব্যবস্থার পেছনে থাকে মুনাফার হিসাব। আর “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” সেই হিসাবেরই নতুন অধ্যায়।
অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে
তারেক রহমানকে চিঠি লিখে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও একসঙ্গে কাজ করার কথা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী
লেবাননে ভারতের মুখ উজ্জ্বল, ইউএন-এর সেরা শান্তিরক্ষকের সম্মান পেলেন মেজর অভিলাষা বারাক
রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও মহিলার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত, সতর্কতা জারি সব বিমানবন্দরে
বকরি ইদের আগে কুরবানির ঘটনায় মুসলিম ও হিন্দু গোষ্ঠীর সংঘর্ষ
দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত সকলকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ মোদির
SIR প্রক্রিয়ায় করা মামলায় শীর্ষ আদালতে ধাক্কা তৃণমূলের
সৌদি আরবের সাহায্যে এগিয়ে এল পাকিস্তান, চুক্তি মেনে রিয়াদে মোতায়েন হলো পাক সেনা
খাওয়াদাওয়ার মাঝেই রক্তগঙ্গা! তুরস্কের রেস্তরাঁয় বন্দুকবাজের হামলায় নিহত ৪, আহত ৮
ইরানে বিষ্ণু মন্দিরের ইতিহাস জানালেন অমিতাভ বচ্চন
‘ইন্টারনেটের তারেও এবার ভাড়া দেব’! ট্রাম্পের চিনের সফরের পরেই মার্কিন টেক জায়ান্...
জেলেনস্কির বদলা! ৫০০ ড্রোনের ধাক্কায় কাঁপল মস্কো, এক বছরের বড় হামলায় বিপর্যস্ত র...