নিজস্ব প্রতিনিধি , ওয়াশিংটন ডি সি - বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কেবল অর্থনৈতিক নয়, এই চুক্তির মধ্যে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

এই চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিক হল শুল্কের হার কমানো। তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য, মেডিক্যাল ডিভাইস, কৃষিপণ্য, টেক্সটাইল ও কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রীর ক্ষেত্রে গড় শুল্ক ৭–১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের তৈরি রেডি-মেড গার্মেন্টস ও লেদার পণ্যের উপর আমেরিকার আমদানি শুল্ক আগে যেখানে ১২–১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৫–৭ শতাংশে। অন্যদিকে, আমেরিকা থেকে ভারতে আসা কিছু উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ ও সেমিকন্ডাক্টর-সংক্রান্ত পণ্যের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩–৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে দুই দেশই লাভবান হচ্ছে—ভারতের রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে, আর আমেরিকার প্রযুক্তিপণ্য ভারতে সহজে প্রবেশ করছে।

বাণিজ্য চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পরিষেবা খাত। আইটি ও ডিজিটাল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, যা ভারতীয় সফটওয়্যার ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য বড় সুবিধা। পাশাপাশি, ক্লিন এনার্জি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের পথও প্রশস্ত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান এই চুক্তির ফলে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো দেশগুলো এখনও আমেরিকার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বা গভীর বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের রপ্তানিতে শুল্ক ছাড় সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রে জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (GSP)-এর ওপর নির্ভরশীল। ভারতের ক্ষেত্রে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট খাতে সরাসরি শুল্ক ছাড় পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সুবিধা দেবে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে ভারতের আকর্ষণ আরও বাড়ছে।

অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি, এই চুক্তির কূটনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। চীন-কেন্দ্রিক বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের বিকল্প হিসেবে ভারতকে সামনে আনতে চায় আমেরিকা। আর ভারত চায় প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাজার—এই তিনের সমন্বয়ে নিজের শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে।
আতঙ্কেই ভুগছেন আমেরিকাবাসী
শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক
মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পরই বাণিজ্যচুক্তি
মোদির ভূয়সী প্রশংসা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
শেয়ার বাজারের উত্থানে আনন্দে আত্মহারা বিনিয়োগকারীরা