নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - বিশ্ব অর্থনীতিতে উৎপাদন খাত একটি দেশের শিল্পক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ভিত্তিকে নির্দেশ করে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ। দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত শিল্পোন্নত দেশকে পেছনে ফেলে এই অবস্থান অর্জন ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শীর্ষস্থানে যথাক্রমে চীন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও জার্মানি রয়েছে। বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী বছরগুলিতে জার্মানি ও জাপানকেও অতিক্রম করার সম্ভাবনা ক্রমশ বাস্তব হয়ে উঠছে।
ভারতের উৎপাদন খাতের বর্তমান অবস্থান - ভারতের উৎপাদন খাত জিডিপি-তে প্রায় ১৫–১৭ শতাংশ অবদান রাখে এবং কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। অটোমোবাইল, ইস্পাত, সিমেন্ট, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, কেমিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স—এই খাতগুলিতে ভারত দ্রুত বিশ্বমানের উৎপাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশেষত স্মার্টফোন ও ওষুধ উৎপাদনে ভারত আজ বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সরকারের “মেক ইন ইন্ডিয়া”, উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) নীতির উদারীকরণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো ও বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
জার্মানি ও জাপানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা - বর্তমানে জার্মানি ও জাপান উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে অগ্রণী হলেও তাদের জনসংখ্যা স্থিতিশীল বা হ্রাসমান এবং শ্রম ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে ভারতের রয়েছে তরুণ শ্রমশক্তি, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়। বৈশ্বিক উৎপাদন সংস্থাগুলি যখন সরবরাহ শৃঙ্খল বা উৎপাদন স্থানের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে, তখন ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।
তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে—পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি, লজিস্টিক খরচ হ্রাস, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং নীতি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত। সঠিক নীতি, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে ভারত আগামী দশকে জার্মানি ও জাপানকে অতিক্রম করে বিশ্ব উৎপাদনের শীর্ষ সারিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এই অগ্রযাত্রা দেশের কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
চেক বাউন্স হলে আইনি নোটিস থেকে শুরু করে মামলা জরিমানা এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে
ডিফেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ কি ভবিষ্যতে বড় লাভের “টাকার খনি” হতে পারে, তা নিয়েই বিশেষ বিশ্লেষণ
অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার নতুন দিশা—নার্সারি গড়ে ঘর থেকেই শুরু করুন নিশ্চিত আয়ের পথ।
ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কবার্তা দূতাবাসের
পরিবারের সঙ্গে মাত্র ১০ মিনিট দেখা করার অনুমতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও
‘নো বোট নো ভোট’
নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি মাদুরো